বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৬ বছর বয়সে ম্যারাডোনার সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছিল আলভারেজের। দুই দশক পর মানব পাচারের মামলায় সাক্ষ্য দিতে আর্জেন্টিনায় গিয়েছেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে থাকা আলভারেজ।

তাঁর তোলা এই অভিযোগগুলো যে ম্যারাডোনার পরিবারের জন্য অস্বস্তিকর, সেটা বোঝেন এই নারী। এ জন্য ম্যারাডোনার মেয়েদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু সত্যটা সবার জানা উচিত বলেই তিনি মনে করেন।

default-image

মৃত্যুর আগে পাঁচজন সন্তান ম্যারাডোনার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় আরও বেশ কয়েকজন তাঁর সন্তান হিসেবে দাবি তুলেছেন। পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠা যে সন্তানের জন্য কতটা দুঃখজনক, সেটা বুঝতে পেরে ইনফোবের সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে ম্যারাডোনার পাঁচ সন্তানের জন্য বার্তা পাঠিয়েছেন আলভারেজ, ‘আমার স্বীকারোক্তিতে খারাপ লাগলে আমি দুঃখিত। কারণ, এই উদ্দেশ্য ছিল না আমার। আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত। কিন্তু এটা আমার অভিজ্ঞতা। এর মধ্য দিয়ে যেতে না হলেই খুশি হতাম। এটা খুবই কঠিন (এমন অভিযোগ), আমি সেটা বুঝতে পারি। আমি নিশ্চিত তাঁর কন্যাদের কাছে অসাধারণ এক বাবা ছিলেন তিনি। কিন্তু এটা আমার গল্প (জীবনের), আমাকে এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমি এর বাইরে কিছু বলব না।’

যে ঘটনার কথা বলছেন, সেগুলো ২০ বছরের আগের ঘটনা। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রায় এক বছর হতে চলল। এত দিন পর অভিযোগ তোলায় অনেকেই আলভারেজের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।

কিন্তু আলভারেজ এমন প্রশ্নের কোনো ভিত্তি পাচ্ছেন না, ‘আমি টাকার জন্য এটা করছি কি না, সেটা বুঝতে চাইছেন, এবং এ ব্যাপারটাকে এত বাজেভাবে কেন দেখা হয়। এ ক্ষেত্রে সেটা নয়, তবু কেন এর বাজেভাবে এটা দেখতে হবে (টাকা বা খ্যাতির জন্য অভিযোগ তোলা)। আমি যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, আরও অনেকে হয়তো এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, হয়তো পরিপ্রেক্ষিত একটু ভিন্ন হতে পারে। অনেকেই যেভাবে পারে জীবনযাপনের চেষ্টা করে (বাজে অভিজ্ঞতার কথা বলে খ্যাতি বা অর্থ আদায়)। আমি সবার মতামতকে শ্রদ্ধা করি।’

default-image

ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে আর্থিক কোনো সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ চাচ্ছেন কি না, সেটা জানতে চাওয়া হয়েছিল মাভিস আলভারেজের কাছ থেকে।

জবাবে কিউবান নারী এই অভিযোগ তোলার পেছনের কারণটা ব্যাখ্যা করেছেন, ‘প্রথমেই বলি, এটি ফৌজদারি মামলা। ফৌজদারি মামলায় অর্থ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং আমি এ উদ্দেশ্যেও এটা করিনি। আমি এটা বিচারকদের হাতে তুলে দিচ্ছে, তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। আমার যে লক্ষ্য ছিল, সেটা পূরণ হয়ে গেছে, এমন কিছু যেন আর না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে আমার গল্প বলতে চেয়েছি। এরপর কী হবে, সেটা আমার হাতে নেই। আমার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া নারীদের আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাহায্য করতে চাই। আমি তাঁদের সাহায্য করতে চাই এবং তাঁদের বোঝাতে চাই, এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলে, নিজের গণ্ডির বাইরে সাহায্য চাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন