ম্যাচ শেষে খোশমেজাজে পেপ গার্দিওলা ও ইয়ুর্গেন ক্লপ।
ম্যাচ শেষে খোশমেজাজে পেপ গার্দিওলা ও ইয়ুর্গেন ক্লপ। ছবি: এএফপি

কাল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। প্রথমে পিছিয়ে পড়ে সমতা ফিরিয়েছিল সিটি। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিততেও পারত ম্যানচেস্টার সিটি, যদি না পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ না হতেন মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনা। এ ম্যাচকেই শিরোপানির্ধারণী বলে ভাবা হচ্ছে। ফলে এই ড্রয়ে না হাসতে পেরেছেন পেপ গার্দিওলা, না ইয়ুর্গেন ক্লপ। কোচ হিসেবে দুজন প্রতিপক্ষ হলেও একটি জায়গায় মিলে যাচ্ছেন তাঁরা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পাঁচ বদলি খেলোয়াড় মাঠে নামানোর সুযোগ চান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই দুই কোচ।

করোনাকালীন নতুন স্বাভাবিক জীবনে ফুটবল ফেরার পর এই বছরের শেষ পর্যন্ত পাঁচ বদলি খেলোয়াড়ের সুযোগ দিয়েছিল ফিফা। ঠাসা সূচি, প্রস্তুতির অভাব, চোট, সংক্রমণের শঙ্কা—দলগুলো যেন এসব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে ভালোভাবে খেলায় ফিরতে পারে, সে ভাবনা থেকেই নিয়মটি করেছিল ফিফা। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রিমিয়ার লিগ এ নিয়মকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবেনি। তারা ফিরে গেছে তিন বদলির নিয়মে। কিন্তু এখন কপাল চাপড়াতে হচ্ছে কোচদের। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে টানা খেলতে হচ্ছে ফুটবলারদের। এতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় চোটে পড়ছেন খেলোয়াড়েরা। সিটির বিপক্ষে লিভারপুলের রাইটব্যাক ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আরনল্ড চোটে পড়লেও বদলি নামানোর কোনো সুযোগ ছিল না ক্লপের হাতে।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচ শেষে বেশ খোশমেজাজে আলাপ করতে দেখা যায় গার্দিওলা ও ক্লপকে। কী আলাপ হচ্ছিল? বিবিসির পক্ষ থেকে প্রশ্নটি করা হয়েছিল লিভারপুল কোচ ক্লপকে। এই প্রশ্নের জবাবে গার্দিওলা বলেন, ‘আমরা পাঁচটি বদলি খেলোয়াড়ের ব্যাপারে কথা বলেছি। যদি কেউ আমাদের কথা শুনতে চায়, আমরা আমাদের মতামত দিতে পারি। ইংলিশ খেলোয়াড় ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার চোটে পড়েছে। এ রকম আরও অনেক খেলোয়াড়ের চোট আছে। বিশ্বব্যাপী পাঁচ খেলোয়াড়ের বদলির সুযোগ আছে। কিন্তু আমাদের এখানে পুরোপুরি বিপরীত। এই ব্যাপারে আমরা অনেকবার কথা বলেছি।’

ঠাসা সূচিতে টানা বাধ্য হয়ে খেলতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের। এতে খেলোয়াড়দের বিপদের দিকেও ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান গার্দিওলা, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমরা অন্যদের চেয়ে বেশি ভালো। আমরা খেলোয়াড়দের রক্ষা করি না। যে জন্য বিপর্যয় ঘটছে।’ এই অবস্থা থেকে মুক্তির উপায়টা সবার জানা বলেই ধারণা তাঁর, ‘আমি আগের পাঁচ বদলিতে ফেরার দাবি জানাচ্ছি। খেলোয়াড়, কোচ—সবারই ভালো হবে এতে। না হলে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।’

default-image

কয়েক দিন আগে গার্দিওলা নতুন মৌসুমে খেলোয়াড়দের চোটের একটা পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন। গত মৌসুমের তুলনায় এবার খেলোয়াড়দের মাংসপেশির চোট বেড়ে যাওয়ায় পাঁচ বদলি চেয়েছিলেন তিনি।

ক্লপও এ পরিস্থিতির পেছনে ইংলিশ ফুটবলের কর্তাদের ভুল দেখিয়ে দিয়েছেন, ‘এটা হলো নেতৃত্বের অভাব। রিচার্ড মাস্টারস (প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী) সম্পূর্ণ ভুল জানিয়েছেন আমাদের। পাঁচ বদলি কোনো বাড়তি সুবিধা নয়, এখন এটা আবশ্যক। সব দেশে এটা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ভুল বোঝানো হয়েছে এবং এখন এ অবস্থায় পড়তে হয়েছে সবাইকে। ট্রেন্ট এখন ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারবে না। সে–ই শেষ নয়, গ্যারেথকে (ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ) এমন আরও পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0