default-image

ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান নোয়েল লে গ্রাত করিম বেনজেমার ব্যাপারে হাত ধুয়ে ফেলেছেন। ম্যাথু ভালবুয়েনার স্পর্শকাতর ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় বেনজেমার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল।

সে ঘটনা এখনো প্রমাণিত হয়নি। নতুন করে এ সপ্তাহেই আবার আদালতে ডেকে পাঠানো হয়েছে ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ডকে।

অভিযোগ প্রমাণিত হোক বা না হোক, বেনজেমা থাকলে দলে অস্বস্তির সৃষ্টি হতে পারে, এ যুক্তিতে তাঁকে ফ্রেঞ্চ দলে ডাকা হয়নি গত পাঁচ বছর। এ ব্যাপারে কোচ দিদিয়ের দেশমের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন ফেডারেশন সভাপতি গ্রাত।

বেনজেমা ভালো স্ট্রাইকার স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, দুঃখজনকভাবে ফ্রান্স দলে বেনজেমার যাত্রা শেষ।

তেত্রিশে পা রাখা বেনজেমাও জাতীয় দলের খেলা আশা ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডের আশা জাগিয়ে তুলছেন মিশেল মুলিন।

বিজ্ঞাপন

কিছুদিন পরই নতুন সভাপতি বেছে নেওয়া হবে ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনে। সভাপতি হওয়ার দৌড়ে আছেন মুলিন। ঘোষণা দিয়েছেন, ফর্মে থাকা বেনজেমাকে যেন দলে নেওয়া হয়, সেটা নিশ্চিত করবেন তিনি।

২০১৫ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ ফ্রান্স দলে দেখা গেছে বেনজেমাকে। এরপরই ভালবুয়েনার সেই স্পর্শকাতর যৌন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। দুই ব্যক্তি সেই ভিডিওর কথা বলে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করেন।

বেনজেমার দাবি, তিনি এই ব্ল্যাকমেলে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভালবুয়েনার ভাষ্যে বেনজেমার দিকেই ব্ল্যাকমেলের তির ছোটে।

সে ঘটনায় আবার নতুন করে শুনানি ডেকেছেন ফ্রান্সের আদালত। ভালবুয়েনার ঘটনার জেরে এমনিতেই ২০১৬ ইউরো ও ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি বেনজেমা।

হতাশ হয়ে একবার ফেডারেশন সভাপতি গ্রাতকে বলেছিলেন, সাহস থাকলে ফ্রান্স ফেডারেশনের তালিকা থেকে তাঁর নাম কেটে দেওয়া হোক, সে ক্ষেত্রে আলজেরিয়ার জাতীয় দলেই নিজের দক্ষতা দেখাতে পারবেন।

তবে মুলিন যে আশা দেখাচ্ছেন, ফ্রান্স দলেই আবার খেলা সম্ভব বেনজেমার পক্ষে। লে ফিগারোকে সভাপতি পদপ্রার্থী মুলিন বলেছেন, ‘করিম বেনজেমা দারুণ স্ট্রাইকার, তাঁর বিষয়ে বলব, দিদিয়ের দেশম (কোচ) ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মী (বেতনভুক্ত)। যদি ওপর থেকে তাঁকে বলা হয় বেনজেমাকে খেলাতে হবে, তাহলে তাঁকে অবশ্যই খেলাতে হবে।’

default-image

শুধু ভালবুয়েনা ইস্যুতেই ফ্রেঞ্চ দলে ডাক পাচ্ছেন না বেনজেমা। গত বিশ্বকাপের পর থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এই স্ট্রাইকার।

গত আড়াই বছরে রিয়ালের জার্সিতে ৬৯ গোল করেছেন বেনজেমা। ফ্রান্স দলে এ সময়ে তাঁর চেয়ে এগিয়ে আছেন শুধু একজন, কিলিয়ান এমবাপ্পে। পিএসজির হয়ে ৮৩ গোল সময়ের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ফরোয়ার্ডের।

বিজ্ঞাপন

ফ্রান্স দলে এমবাপ্পেকে গত কয়েক বছরে যাঁরা সঙ্গ দিয়েছেন, তাঁদের সবাই অনেক পিছিয়ে বেনজেমার চেয়ে। আঁতোয়ান গ্রিজমান এ সময়ে ক্লাবের হয়ে ৪৩ গোল করেছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আন্থনি মার্শিয়াল করেছেন ৪০ গোল।

এ ছাড়া উইসাম বেন ইয়েদের (৫৬), কিংসলে কোমান (২৩) ও উসমানে দেম্বেলে (২০) খেলেছেন ফ্রান্সের হয়ে। খেলার ধরনে বেনজেমার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি তুলনীয় অলিভার জিরু তাঁদের তুলনায় বেশি ম্যাচ খেলেছেন ফ্রান্সের জার্সিতে। ক্লাবের জার্সিতে কিন্তু বেনজেমার তুলনায় অনেক অনুজ্জ্বল জিরু (৩২)।

ফর্ম বিবেচনায় তাই বেনজেমার ফ্রান্স দলে ডাক পেতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মুলিন যদি সভাপতি হনও, তবু কোচ দেশমের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার সাহস কি আসলেই দেখাবেন?

মন্তব্য করুন