বার্সায় মেসির সঙ্গে দারুণ জমে উঠেছিল দানি আলভেজের জুটি।
বার্সায় মেসির সঙ্গে দারুণ জমে উঠেছিল দানি আলভেজের জুটি। রয়টার্স ফাইল ছবি

বার্সেলোনাকে এখনো প্রাণের ক্লাব বলে মানেন তিনি। কিন্তু কয়েক দিন আগে বার্সেলোনা থেকে পদত্যাগ করা বার্সেলোনার বোর্ডের ওপর দানি আলভেজের ক্ষোভের শেষ নেই। সেই ২০১৬ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার পেছনে জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর অধীন এই বোর্ডের সঙ্গে মন–কষাকষিকেই কারণ হিসেবে অনেকবার জানিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক। বার্সার পর জুভেন্টাস, পিএসজি হয়ে এখন ব্রাজিলের সাও পাওলোতে খেলা ৩৭ বছর বয়সী আলভেজের ক্ষোভ এখনো কমেনি।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এস্পোর্তস আরএসিওয়ানে আলভেজের সাক্ষাৎকারই সেটির প্রমাণ। আজ প্রকাশিত সে সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনার বর্তমান অবস্থা, লিওনেল মেসির বার্সা ছাড়া, নেইমারের বার্সায় ফেরা...অনেক প্রসঙ্গেই কথা বলেছেন আলভেজ। কিন্তু তাঁর বার্সা ছাড়ার সময়ের কথা বলতে গিয়েই বার্তোমেউর বোর্ডের প্রতি তাঁর ক্ষোভ ফুটে বেরিয়েছে। বার্সার বোর্ডকে ‘যৌন ব্যবসায়ী’ই বলছেন আলভেজ!

বিজ্ঞাপন

‘আমি তিরটা নির্দিষ্ট কারও দিকে তাক করতে চাই না। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, বার্সেলোনার বোর্ড যৌন ব্যবসায়ীর মতো নিজেদের বিক্রি করে দিচ্ছিল! এমনও হতে পারে যে সভাপতিকে ভুল পরামর্শ দিয়েছেন কেউ। জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউই শুধু দোষী ছিলেন, এমনটা বলছি না’—বার্সেলোনার বোর্ড নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন আলভেজ।

বার্সেলোনার এখনকার অবস্থা মোটেও ভালো লাগছে না ক্লাবটাতে আট বছর কাটানো আলভেজের, ‘এফসি বার্সেলোনা নিজেদের দর্শনই বদলে ফেলেছে। একটা ক্লাবে সমস্যা থাকা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, কিন্তু আমার চোখে বার্সেলোনা নিজেদের স্বকীয়তাই হারিয়ে ফেলেছে। সেটি আবার ফিরে পেতে এখন অনেক কঠিন একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

একটা সময়ে নিজেদের একাডেমি থেকে প্রতিভা তুলে আনায় বিখ্যাত বার্সা গত কয়েক বছরে দলের প্রয়োজন না বুঝে একের পর এক তারকার পেছনে ছুটেছে। তাতে সাফল্য তো আসেনি, বরং মাঠে দল হয়ে পড়েছে ভারসাম্যহীন। এই তারকাদের বেতন চুকাতে গিয়ে বার্সার এখন দৈন্যদশা। কিন্তু সে তো পরিচালনায় অদূরদর্শিতা; বার্সেলোনার বোর্ড ক্লাবের খেলোয়াড়দের সঙ্গে গত কয়েক বছরে খারাপ আচরণ করেও বিতর্কিত হয়েছে। আলভেজের সঙ্গেও এমন হয়েছে।

তাঁর ক্লাব ছাড়ার ব্যাখ্যায় তা-ই জানিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক, ‘কিছু না জানিয়েই ওরা আমাকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু যখন বিকল্প কাউকে সই করাতে পারল না, তখন আবার চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব নিয়ে আমার পিছু ছুটেছে। আমার কাছে সেটাকে অসম্মানজনক মনে হয়েছে। আমার যেমন সম্মান প্রাপ্য ছিল বলে মনে হয়েছে, ওরা আমাকে সে রকম সম্মান দেখালে আমি এখনো বার্সাতেই থাকতাম। এই ক্লাবকে আমি ভালোবাসি, আমার ঘর মানি।’

বার্সেলোনা থেকে জুভেন্টাসে কাটিয়েছেন এক বছর। এরপর পিএসজিতে গেছেন, সে বছর বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে গিয়েছিলেন নেইমারও। কিন্তু আলভেজের পিএসজিতে যাওয়া নিয়েও জল কম ঘোলা হয়নি। সেবার তাঁর ম্যানচেস্টার সিটিতে যাওয়া নিশ্চিত বলেই শোনা যাচ্ছিল, সেখান থেকে আলভেজ হঠাৎ মন বদলে চলে গেলেন পিএসজিতে। কেন, সে ব্যাখ্যায় এবারের সাক্ষাৎকারে আলভেজ বললেন, ‘২০১৭ সালের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সব পাকাপাকি হয়ে গিয়েছিল। পেপ গার্দিওলার সঙ্গে আবার কাজ করব ভাবছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিবারের কারণে প্যারিসকে বেছে নিয়েছি। তুরিনে (জুভেন্টাসে) ওরা অনেক কষ্ট করেছে। এর পাশাপাশি নেইমারও ডেকেছিল, ওর সঙ্গে পিএসজিতে যেতে বলেছিল।’

নেইমারের নাম যখন এল, তাঁর বার্সায় ফেরার প্রসঙ্গ সাক্ষাৎকারে না এসে পারে! গত মৌসুমে তাঁর বার্সেলোনায় ফেরার কত গুঞ্জন শোনা গেছে! এমনকি নেইমার নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে বার্সায় আসতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। এ নিয়ে আলভেজ শুধু বললেন, ‘নেইমার? বার্সা যাঁরা ছেড়ে যায়, সব খেলোয়াড়ই পরে পস্তায়। এখন ও (ফেরার ব্যাপারে) কী ভাবছে জানি না। তবে ওকে বার্সায় ফিরতে দেখতে আমার ভালো লাগবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

তাঁর এক বন্ধুর প্রসঙ্গ থেকে সাক্ষাৎকার গেল আলভেজের আরেক বন্ধুর প্রসঙ্গে—মেসি! বার্সায় মাঠে দুজনের সমন্বয় ছিল দেখার মতো, মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব ছিল দারুণ। তা আলভেজের সেই বন্ধু মেসি গত আগস্টে বার্সার সঙ্গে ২০ বছরের সম্পর্ক শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন অন্য কোনো ক্লাবে যেতে। সেটি নিয়ে আলভেজের কী বিশ্লেষণ? ‘মেসি বার্সেলোনার সমানই। কিন্তু যখন চারপাশে তাকিয়ে আপনি দেখবেন সবকিছু জঘন্যভাবে চলছে, আপনার চলে যেতে চাওয়াই স্বাভাবিক। ও ক্লাবের হয়ে যা করেছে, তা এত বিশাল যে বার্সেলোনার উচিত স্টেডিয়ামের নামটাই ওর নামে রাখা।’

মেসি যাতে বার্সা ছাড়ার চিন্তা বদলান, সে জন্য অবশ্য বেশ চেষ্টা করেছিলেন আলভেজ, ‘ও যাতে বার্সা না ছাড়ে, সে জন্য ওকে একটা খুদে বার্তা পাঠিয়েছিলাম। ওরা (বার্সেলোনা বোর্ড) যখন আমাকে ক্লাব থেকে বের করে দিতে চেয়েছিল, তখন ওকে আমি বলেছিলাম যে আমি বার্সা ছাড়ছি। কারণ, ওরা আমাকে বের করে দিতে চাচ্ছে। ও তখন আমাকে বলেছিল, ‘‘যেও না। এমন কোথায় যাবে যেটা এখানকার চেয়ে ভালো?’’ আমি এবার ওকে একই কথা লিখে পাঠিয়েছি। ও আমাকে ফিরতি বার্তা পাঠায়নি। তবে আমি জানি, ও বুঝতে পেরেছে (আমি কী অনুভব করছিলাম তখন)।’

শেষ পর্যন্ত অনেক নাটকের পর মেসি থেকে গেছেন বার্সায়। আলভেজ যাওয়ার পর থেকে বার্সার অন্যতম বড় দুর্বলতার জায়গা রাইটব্যাকে এবার নতুন একজনকে এনেছে বার্সা-সের্হিনিও দেস্ত। যাঁকে এরই মধ্যে ‘নতুন দানি আলভেজ’ও ডাকছেন অনেকে। আলভেজের সঙ্গে তো মেসির সমন্বয় বার্সার ইতিহাস রাঙিয়েছে, আয়াক্স থেকে আসা যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ বছর বয়সী রাইটব্যাকের জন্য আলভেজের কোনো পরামর্শ আছে? সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নে আলভেজের উত্তর, ‘সের্হিনিও অনেক মানসম্পন্ন, বার্সায় সফল হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক। তবে আমি তুলনা পছন্দ করি না। আমার ক্ষেত্রে (ব্রাজিলের কিংবদন্তি রাইটব্যাক) কাফুর সঙ্গে এমন তুলনা টানা হয়েছিল। এসবের কোনো মানে হয় না। দেস্তকে আমার যদি কোনো পরামর্শ দিতেই হয়, সেটি খুব সহজ—বলটা মেসিকে দাও।’

মন্তব্য পড়ুন 0