বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আনচেলত্তির অধীনে রিয়াল গোল পাচ্ছে, আক্রমণে ভিনিসিয়ুস গতি-চাতুর্য এনে দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এখনো রক্ষণটা গুছিয়ে নিতে পারেনি রিয়াল। এর একটা বড় কারণ এখনো ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর ছন্দে না ফেরা। আজ ৮৬ মিনিটে এলচের গোলও এসেছে কাসেমিরোর ভুল পাস থেকেই।

অবশ্য উল্টো পাশে ঠিকই অবদান রেখেছেন কাসেমিরো। প্রথমার্ধে এলচে বেশ কয়েকবার ভয় ধরিয়েছে রিয়ালের রক্ষণে, তবে এর মধ্যে নিজেদের ভুলেই কপাল পুড়েছে আজকের আগে নিজেদের মাঠে অপরাজিত দলটির। লেফটব্যাক ইয়োহান মহিকা মাঝমাঠে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান, কাসেমিরো সেটি ধরে প্রথম স্পর্শেই পাঠান স্ট্রাইকার দিয়াজের দিকে। দিয়াজের চোখধাঁধানো ব্যাক ফ্লিক ধরে বাঁ পায়ের জোরাল শটে গোল ভিনিসিয়ুসের।

গত দুই মৌসুমে রিয়ালে গতি আর চাতুর্যে ব্রাজিলিয়ান ঝলক দেখিয়ে চললেও ভিনিসিয়ুসের গোল করার ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এই মৌসুমে আনচেলত্তির অধীনে এ দিকটিতে অনেক উন্নতি করেছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার, আজ প্রথম গোলটিও সেটির সাক্ষ্য দিয়ে গেল। মারিয়ানোর ব্যাক ফ্লিকে বল পেয়ে কোনো কারিকুরি করেননি, ডান পায়ে শট নিতে গিয়ে সময়ও নষ্ট করেননি। বাঁ পায়ের প্রথম স্পর্শে নেওয়া শটেই বল জালে জড়ান ভিনিসিয়ুস।

তার আগে অবশ্য রিয়ালের আরেক ব্রাজিলিয়ানের জন্য ম্যাচটাকে দুঃস্বপ্ন বানিয়ে দিয়েছে চোট। ১৭ মিনিটেই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রিয়ালের আক্রমণে আজ ভিনিসিয়ুস ও মারিয়ানোর সঙ্গী রদ্রিগো, তাঁর বদলি হিসেবে নামেন মার্কো আসেনসিও।

তা ভিনিসিয়ুসের প্রথম গোলের পর বিরতির আগে-পরে দুবার গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিল এলচে। প্রথমে রিয়াল বক্সে রিয়াল ডিফেন্ডার আলাবার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন এলচে স্ট্রাইকার বোয়ে, সেখান থেকে বল পেয়ে চোখধাঁধানো ফ্লিক করেন পাস্তোরে। কিন্তু সে ফ্লিক থেকে সহজ সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি এলচে উইঙ্গার লুকাস পেরেস। বিরতির পর রিয়াল গোলকিপার কোর্তোয়াকে একা পেয়েও তাঁর গায়েই মারেন এলচে মিডফিল্ডার গুতি।

এর পরের মুহূর্তেই গুতি দেখেন লাল কার্ড। কোর্তোয়া পাস বাড়ান টনি ক্রুসের দিকে, গুতি তাঁর কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টায় কড়া ট্যাকল করেন। প্রথমার্ধেই এক হলুদ কার্ড দেখা গুতিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড মিলিয়ে লাল কার্ড না দেখিয়ে উপায় ছিল না রেফারির।

default-image

একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা নিয়ে তখন ম্যাচে রিয়ালের দাপট বাড়ে। তার ফলেই এসেছে দ্বিতীয় গোলটি এবং ভিনির ফিনিশিং দক্ষতার পাশাপাশি রিয়ালের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের গল্পই বলে যায় সেটি। কাসেমিরোর পাস ধরে ক্রুস এলচের মাঝমাঠ ভেদ করা পাস বাড়ান মদরিচের দিকে, তাঁর থ্রু যায় ভিনিসিয়ুসের কাছে। এরপর? ব্রাজিলিয়ান ঝলক।

গতির তোড়ে এলচে রক্ষণকে ছিটকে বেরিয়ে যাওয়া ভিনিসিয়ুস এগিয়ে আসা গোলকিপারের পাশ দিয়ে দারুণ চিপে বল জড়ান জালে, মৌসুমে তাঁর নবম গোল হয়ে গেল।

ভিনিসিয়ুসের আলো ছড়ানোর রাতে শেষ পর্যন্ত কাসেমিরোর ভুলের সূত্র ধরে রিয়াল একটা গোল খেলেও জয় আর বঞ্চিত থাকেনি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন