ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিট বিবশ করে রেখেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। উলে গুনার সুলশারের অধীনে প্রিমিয়ার লিগে প্রেসিং ফুটবলে সবচেয়ে অনীহা ছিল ইউনাইটেডের। সেই দল আজ ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই ক্রিস্টাল প্যালেসকে চেপে ধরার চেষ্টা করেছে। চারজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় নিয়ে নেমেছিলেন রাংনিক। রোনালদো, জাডোন সাঞ্চো, মার্কাস রাশফোর্ড কিংবা ফার্নান্দেজ—কাউকেই রক্ষণে সাহায্য করতে কোনো আপত্তি করতে দেখা যায়নি।

এর জবাবে নিজের দলকে দিয়ে পাসিং ফুটবল খেলানোর চেষ্টা করেছেন পাত্রিক ভিয়েরা। নিচ থেকে পাস দিয়ে খেলা গড়ে নেওয়ার সে চেষ্টায় আবার বাদ সেধেছেন রোনালদোরা। তাঁদের নিরন্তর প্রেসের সামনে মাঝেমধ্যেই বিপজ্জনক জায়গায় বল হারিয়েছে প্যালেসের ডিফেন্ডাররা। তবে সেখান থেকে গোল বের করে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন রোনালদোরা।

১৫ মিনিট পার হয়ে যাওয়ার পরই অবশ্য খেলার গতি কমে এসেছে। ইউনাইটেড আগের মতোই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার চেষ্টা করেছে। তবে ভিয়েরা নিজের পরিকল্পনা থেকে একটু সরে গেছেন। পাসিং ফুটবলের পাশাপাশি প্রতি আক্রমণে উইলফ্রায়েড জাহা, জর্ডান আইয়ুদের গতি কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারাটা ভুগিয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেসকে।

দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলের খেলায় প্রথমার্ধের ছাপ ছিল। এর মধ্যেই রাংনিক বারবার চার খেলোয়াড় দিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে ভিড় বাড়াচ্ছিলেন, যাতে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা তাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। আর বক্সের বাইরে থেকে শট নেওয়ার জন্য জায়গা পান ফ্রেডরা। বাঁ প্রান্তে রাশফোর্ডের পরিবর্তে এলেঙ্গা নেমেছেন, ডান দিকে সাঞ্চোর বদলি নেমেছেন মার্কাস গ্রিনউড। ৭৭ মিনিটে গ্রিনউডের পাস থেকেই এসেছে গোল। বক্সের মধ্যে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষের দুজন ডিফেন্ডারকে ব্যস্ত রেখেছেন। ওদিকে বক্সের বাইরে ওত পেতে ছিলেন ফ্রেড। গ্রিনউড সুযোগ বুঝে পাস দিলেন ফ্রেডকে। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার একটু সময় নিয়ে বলে পর্যাপ্ত বাঁক সৃষ্টি করেই শট নিলেন। ক্রিস্টাল প্যালেসের গোলরক্ষক কোনো সুযোগই পেলেন না সেটা আটকানোর।