চোট সমস্যা চার বছর ধরেই বিভিন্ন সময়ে ভোগাচ্ছে নেইমারকে।
চোট সমস্যা চার বছর ধরেই বিভিন্ন সময়ে ভোগাচ্ছে নেইমারকে।ছবি : রয়টার্স

২০১৭ সালে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরোর আকাশছোঁয়া ট্রান্সফার ফি দিয়ে, হাজারো নাটক করে, সবার চোখ কপালে তুলে দিয়ে নেইমারকে বার্সেলোনা থেকে দলে টানার পেছনে পিএসজির মূল লক্ষ্যই ছিল মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তোলা। সে লক্ষ্য আর পূরণ হলো কোথায়? বরং প্রতিবার নকআউট রাউন্ডের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কোনো না কোনোভাবে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকেন নেইমার।

এই চোট সমস্যা চার বছর ধরেই বিভিন্ন সময়ে ভোগাচ্ছে তাঁকে। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি। চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় রাউন্ডের দুটি ম্যাচ বাঁ পায়ের মাংসপেশির চোটের কারণে খেলতে পারেননি নেইমার। দ্বিতীয় লেগে খেলতে পারবেন, এমনটা প্রথমে শোনা গেলেও পরে এমন কিছু হয়নি। মূল একাদশ তো দূর, তাঁকে স্কোয়াডেই রাখা হয়নি। নেইমারের এই অনুপস্থিতির কারণেই আরেকবার ‘মুখ খোলা’র সুযোগ পেয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ। তাদের মতে, নেইমারের বাঁধনহারা জীবনযাত্রাই একের পর এক চোটের জন্য দায়ী। যেভাবে দিনরাত ভিডিও গেম, টিভি দেখা আর পার্টি নিয়ে পড়ে থাকেন, তাতে এভাবে বারবার চোটে পড়া স্বাভাবিক বলেই মনে করছে সংবাদপত্রটি।

বিজ্ঞাপন

নেইমার এবার লেকিপের সমালোচনার তোপের মুখে পড়েছেন একটি টুইট করে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, টুইট করায় আবার কী সমস্যা? বিশ্বের তাবৎ খেলোয়াড়ই তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। টুইট করেন, ইনস্টাগ্রামে ছবি দেন, ফেসবুকে পোস্ট দেন। সমস্যাটা কোথায়?

সমস্যা হলো টুইট করার সময়টায়। একজন খেলোয়াড় হিসেবে সুস্থ, নিরাপদ ও চোটহীন জীবন যাপন করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রুটিনমাফিক চলা। ঠিক সময়ে খাওয়া, ঠিক সময়ে অনুশীলন করা, ঠিক সময়ে ঘুমানো—এসব আরকি। নেইমার টুইট করেছেন রাত ৩টা ৫৩ মিনিটে। যখন খেলোয়াড় তো বটেই, বিশ্বের তাবৎ মানুষের ঘুমানোর সময়। গভীর রাতে বিশ্বখ্যাত রিয়্যালিটি শো ‘বিগ ব্রাদার’–এর ব্রাজিলিয়ান সংস্করণ দেখছিলেন নেইমার। দেখে নিজের আবেগ আটকে রাখতে পারেননি। ধুম করে টুইট করে বসেছেন এই শো নিয়ে। আর সেটা দেখেই খেপেছে লেকিপ। এক জনসংযোগ কর্মকর্তা সেবাস্তিয়েন বেলেনকন্ত্রের বরাত দিয়ে নেইমারকে একদম ধুয়ে দিয়েছে তারা।

সমালোচনা করতে গিয়ে এক ফাঁকে পিএসজি নেইমারকে কেন দলে এনেছে, সে ব্যাপারটাও তুলে ধরেছেন বেলেনকন্ত্রে, ‘নেইমার এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আকাশছোঁয়া দাম দিয়ে কিনে এনেছে পিএসজি। যাতে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতেই সে চোটে পড়ে থাকে।’

রাতবিরাতে টুইট করে নেইমার যে নিজের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন, সেটাও উল্লেখ করেছেন এই জনসংযোগ কর্মকর্তা, ‘এই সময়ে কে টুইট করে? এই সময়ে টুইট করা নিজের হিতাহিত জ্ঞানকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়।’

বিজ্ঞাপন

কাঁ–এর বিপক্ষে যে ম্যাচের আগে নেইমার চোটে পড়েছিলেন, সেই ম্যাচের আগে রাত জেগে নেইমার কাউন্টার-স্ট্রাইক ভিডিও গেম খেলছিলেন বলেও খবর এসেছে। যদিও সেবার নিজেদের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের পাশেই দাঁড়িয়েছিল পিএসজি, ‘নেইমারের জীবনযাত্রা নিয়ে অনেক মন্তব্য শোনা যাচ্ছে। কিন্তু আমরা নিশ্চয়তা দিতে পারি, ক্লাবের প্রতি নেইমারের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। সে ক্লাবের প্রতি দায়বদ্ধ।’

তবে নেইমারের পাশে দাঁড়ালেও কিছুদিন আগে ভেতরে-ভেতরে ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারের ওপরে পিএসজিও বেশ বিরক্ত বলে জানিয়েছিল স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক স্পোর্ত। তাঁরা জানিয়েছিল, নিয়মিত চোটের পেছনে নেইমারের জীবনযাপনের ধরনের দায় দেখছে ফরাসি ক্লাবটিও। সেবারও স্পোর্তের ওই রিপোর্টের পেছনে রসদ জুগিয়েছিল লেকিপ। লেকিপকে উদ্ধৃত করে বার্সেলোনাভিত্তিক দৈনিক স্পোর্ত জানিয়েছে, বারবার নেইমারের চোটে পড়া নিয়ে বিরক্ত পিএসজি। তারা মনে করছে, নেইমারের লাগামছাড়া উদ্দাম জীবনযাত্রাই এসব চোটের কারণ।

default-image

সেবার লেকিপ খবর দিয়েছিল, নেইমার কেন নিয়মিত চোটে পড়েন, তাঁর মূল খোঁজার জন্য জন্য রীতিমতো গবেষণা করা শুরু করে দিয়েছে পিএসজি। তারা মনে করছে, নেইমার যেভাবে জীবন কাটান, কোনো পেশাদার ক্রীড়াতারকার জীবনযাত্রা অমন হতে পারে না। নেইমারের খাদ্যতালিকা, ঘুমের ধরন ও রুটিন—সবকিছু বিশ্লেষণ করে তাদের এমনটা মনে হয়েছে বলে জানিয়েছিল লেকিপ। তাদের এটাও মনে হয়েছে, চোট থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে আসার জন্য একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদের আচরণ যেমন হওয়া উচিত, নেইমারের তেমন নন। সব মিলিয়েই নেইমারের ওপর আশা হারিয়ে ফেলছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।

সব মিলিয়ে বেশ চাপেই আছেন নেইমারে। তবে খেলোয়াড়টির নাম যেহেতু নেইমার, নিঃসন্দেহে বলা যায়, তিনি সমালোচনার জবাবও দিতে জানেন। এবার লেকিপের একের পর এক সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হওয়া নেইমার মাঠে নেমে এই সংবাদমাধ্যমকে কী জবাব দেন, সেটাই দেখার বিষয়।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন