রামোস চোটের কারণে মাঠের বাইরে অনেকদিন ধরেই।
রামোস চোটের কারণে মাঠের বাইরে অনেকদিন ধরেই। ছবি: রয়টার্স

জানুয়ারির পর থেকেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকেরা। লিওনেল মেসি ও বার্সেলোনায় তাঁর চুক্তি নিয়েই সবাই ব্যস্ত, ওদিকে সের্হিও রামোসেরও যে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি এ মৌসুমেই শেষ। এমন অবস্থায় ক্লাবের সঙ্গে কোনোভাবেই বনিবনা হচ্ছে না রিয়াল অধিনায়কের। একবার শোনা যাচ্ছে বেতন নিয়ে দুই পক্ষ একমত হতে পারছে না, আবার কখনো শোনা যাচ্ছে, চুক্তির মেয়াদ নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে।

রক্ষণে রামোস না থাকলে কী হয় রিয়ালের, সেটা টানা দুই চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়েই টের পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এ মৌসুমের শুরুতেও রামোসবিহীন রিয়াল রক্ষণ হাবুডুবু খাচ্ছিল। আর মাঠে রামোসের নেতৃত্বগুণের তুলনা তো ফুটবল দুনিয়াতেই বিরল। এমন একজনকে ছাড়া ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে চোটের কারণে রামোসের মাঠের বাইরে চলে যাওয়া মাদ্রিদের বর্তমানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

রিয়াল সমর্থকদের জন্য আশার কথা, রামোসকে ছাড়াই আপাতত ছোট ছোট পরীক্ষা পেরিয়ে যাচ্ছে দলটি। তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সাহস ফিরে পাচ্ছে ক্লাবটি।

বিজ্ঞাপন

জানুয়ারির শেষ দিকে যখন ঘোষণা এল, চোট থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিত্রাণের আশায় অস্ত্রোপচার করবেন রামোস, দুশ্চিন্তায় রিয়াল শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। আগের মৌসুমে রামোসবিহীন ম্যাচগুলোর কথা তো সবার ভালোভাবেই মনে আছে। এ মৌসুমেও রামোস ছাড়া ঘরের মাঠে আলাভেসের কাছে হেরেছিল রিয়াল। চ্যাম্পিয়নস লিগে অধিনায়ককে ছাড়া নেমে শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে দুবার হেরেছে। কোপা দেল রেতে তৃতীয় বিভাগের দলের বিপক্ষে হারও রামোসের অনুপস্থিতিতে।

default-image

রামোসের অস্ত্রোপচারের ঘোষণা যখন এল, তার আগের ম্যাচেই হেরেছে রিয়াল। ঘরের মাঠে লেভান্তের বিপক্ষে রামোস ছাড়া রিয়াল হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। রামোস ছাড়া রিয়াল রক্ষণের অবস্থা কী হয়, সেটা বোঝা গিয়েছিল সে ম্যাচে। ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক এদের মিলিতাও ১০ মিনিটের আগেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন! রিয়াল শিবিরে তাই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল যুক্তিসংগত কারণেই।

জিনেদিন জিদানের সামনে তাই কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছিল। রামোসবিহীন প্রথম মাসে পরীক্ষায় অবশ্য পাস করেছে জিদানের দল। রক্ষণে রাফায়েল ভারানের সঙ্গে নাচো ফার্নান্দেজের জুটি জমে উঠেছে বেশ। লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে গত পাঁচ ম্যাচেই জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এর মধ্যে শেষ চার ম্যাচে কোনো গোল খায়নি দলটি। হেতাফে, ভ্যালেন্সিয়া, রিয়াল ভায়াদোলিদের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে আতালান্তার বিপক্ষেও কোনো গোল হজম করতে হয়নি রিয়াল গোলকিপার থিবো কোর্তোয়াকে।

তাতে লিগ আর চ্যাম্পিয়নস লিগ—দুই টুর্নামেন্টেই রিয়ালের আশা ফিরেছে কিছুটা। লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদ এখনো শীর্ষে আছে, কিন্তু দিয়েগো সিমিওনের দলটা সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে পয়েন্ট হারিয়েছে (২ ড্র, ১ হার)। এদিকে সর্বশেষ চার ম্যাচ জিতেছে। আতলেতিকো এত দিন যে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, তা কিছুটা কমেছে। ২৪ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ৫২, এক ম্যাচ কম খেলে আতলেতিকোর ৫৫। তিনে থাকা বার্সার পয়েন্ট ২৪ ম্যাচে ৫০।

default-image

আর চ্যাম্পিয়নস লিগে আতালান্তার মাঠে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ১-০ গোলের জয়টা হয়তো খুব বেশি স্বস্তি দেবে না রিয়ালকে, কিন্তু শেষ আটে যাওয়ার পথে মহামূল্যবান একটা অ্যাওয়ে গোল নিয়ে ফেরায় সম্ভাবনার পাল্লা জিদানের দলের দিকেই বেশি হেলে আছে।

এর পাশাপাশি আরেকটা উন্নতিও চোখে পড়ছে রিয়ালের খেলায়। এর আগে রামোসের অনুপস্থিতিতে ভারানকে দিগ্ভ্রান্ত এক ডিফেন্ডার মনে হতো। রামোসের দৃঢ় চরিত্রের পাশে বরাবরই ম্রিয়মাণ থাকেন ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডার। রামোস না থাকলে প্রতিপক্ষের প্রেসের সামনে অসহায় মনে হতো তাঁকে। এবারই প্রথম টানা রামোসকে ছাড়া খেলতে নেমেও নেতৃত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে ভারানকে। রামোসের পাশাপাশি আক্রমণে করিম বেনজেমাও না থাকায় দলের অধিনায়কের বাহুবন্ধনীও পরছেন ভারান। কে জানে, এরই প্রভাবেই হয়তো নেতৃত্বগুণে রামোসের অভাবটাও পূরণ করে দিচ্ছেন ফরাসি ডিফেন্ডার।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন