default-image

অধিনায়ক সার্জিও রামোস রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আপনি যদি রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থক হন, প্রশ্ন শুনে আপনার মনেই হতে পারে, 'এটা কী জিজ্ঞেস করার মতো কোনো বস্তু হলো?'
বিশেষ করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দল ছাড়ার পর সার্জিও রামোস আগের চেয়েও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন দলের জন্য। এবারের লিগের কথাই চিন্তা করুন না। যোগ্য নেতার মতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রক্ষণভাগ তো বটেই, দলের প্রয়োজনে ম্যাচের মধ্যেই হুটহাট স্ট্রাইকার হয়ে যেতেও সমস্যা হয়নি তাঁর। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ গোল করা রামোস এবার গোল করেছেন আরও দুটি বেশি। যার মধ্যে লিগেই গোল করেছেন এগারোটা। বার্সেলোনার কিংবদন্তি ডাচ ডিফেন্ডার রোনাল্ড কোম্যানকে টপকে এর মধ্যেই লা লিগায় ডিফেন্সডার হিসেবে সবচেয়ে বেশি গোলদাতার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
নিন্দুকেরা বলতে পারেন, গোলগুলোর প্রায় সবগুলোই তো এসেছে পেনাল্টি থেকে। কিন্তু পেনাল্টি মারার ব্যাপারেও রামোসের চেয়ে নিখুঁত আর কাকে পাবেন? টানা ২২টা পেনাল্টিতে গোল করাও যে চাট্টিখানি কথা নয়! পেনাল্টি এলেই তাই কোচ জিনেদিন জিদান চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারেন দলের অধিনায়কের ওপর।
কিন্তু সে অধিনায়ক যখন না থাকেন? সেটি অবশ্যই বড় শঙ্কার বিষয়। কিন্তু এমন দুঃসংবাদকে আলিঙ্গন করতে হচ্ছে রিয়াল সমর্থকদের। আগামী শনিবার রাতে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে থাকছেন না রিয়ালের অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক। প্রথম লেগে লাল কার্ড দেখেই এই 'ঝামেলা'টা পাকিয়েছেন রামোস। দ্বিতীয় লেগে খেলতে পারবেন না তিনি। আর চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট রাউন্ডে রামোস না থাকলে যে রিয়ালের কী অবস্থা হয়, সে ব্যাপারে রিয়াল সমর্থকেরা হয়তো চিন্তাও করতে চাইবেন না।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বশেষ যে ছয় ম্যাচে রামোস খেলতে পারেননি, রিয়াল জিতেছে তার মাত্র একটিতে। হেরেছে বাকি পাঁচটায়। যে একটায় জিতেছে, সে ম্যাচটাও আক্ষরিক অর্থে 'অর্থহীন' এক ম্যাচ ছিল। গত মৌসুমের প্রথম রাউন্ডে ক্লাব ব্রুজেসের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় পাওয়ার আগেই দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা নিশ্চিত করে ফেলেছিল রিয়াল। তাই রামোসের থাকা বা না থাকায় কিছু আসে যায়নি।

কিন্তু বাকি পাঁচ ম্যাচে? গত মৌসুমে প্রথম রাউন্ডে সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে দুই ম্যাচেই অধিনায়ককে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রিয়ালের দুই কোচ হুলেন লোপেতেগি ও সান্তিয়াগো সোলারি। সেই দুই ম্যাচে হেরেছিল রিয়াল, হেরে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাপারটাকেই কঠিন করে তুলেছিল।

২০১৭-১৮ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে জুভেন্টাসকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এসেছিল বলে রক্ষা, নাহয় রামোসহীন দ্বিতীয় লেগে তিন গোল খেয়ে বসেছিল রিয়াল। শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে হাঁচড়ে-পাঁচড়ে সেমিতে ওঠে রিয়াল।

গত মৌসুমের কথাই ধরুন। দ্বিতীয় রাউন্ডে আয়াক্সের মাঠে দলটাকে ২-১ গোলে হারিয়ে আসে রিয়াল। আগেই এক ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখা রামোস কোয়ার্টারে খেলায় অভিপ্রায়ে এই ম্যাচে ইচ্ছে করে আরেকটা হলুদ কার্ড দেখেন। ভেবেছিলেন, তাঁকে ছাড়াই দ্বিতীয় লেগে বাকি কাজ শেষ করতে পারবেন সতীর্থরা। সেটা হয়নি। নিজেদের মাঠে রিয়াল হেরেছিল ৪-১ গোলে।

চলতি মৌসুমের প্রথম ম্যাচেও রামোসকে পায়নি রিয়াল। পিএসজির বিপক্ষে সে ম্যাচেও ৩-০ গোলে হেরেছে তারা। সে ম্যাচে রিয়ালের হয়ে যেমন রামোস ছিলেন না, পিএসজির হয়ে ছিলেন না সবচেয়ে বড় দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নেইমার। কিন্তু তারপরেও ৩–০ গোলের হার!

প্রথম লেগে ২-১ গোলে হেরে আসা রিয়ালের সামনে তাই পরের রাউন্ডে যাওয়ার আগে পর্বতসম বাধা। রামোসহীন রিয়াল কি সে বাধা পেরোতে পারবে? নাকি গত মৌসুমে আয়াক্সের বিপক্ষে ওই ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও দর্শকসারিতে বসে বসে দলের ব্যর্থতা দেখতে হবে রামোসকে?

উত্তর পাওয়া যাবে শনিবার রাতে!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0