default-image

ছয় বছরের চুক্তিতে স্প্যানিশ ফেডারেশন ২৫ থেকে ৩৫ কোটি ইউরো পাওয়ার কথা, আর পিকের কমিশন এর ১০ শতাংশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা দাঁড়িয়েছে ২২৫ কোটি টাকার বেশি!

সেটির রেশ কাটতেই শোনা গেল, কোনো একটা ম্যাচে ভিএআরে তাঁকে পেনাল্টি না দেওয়া নিয়ে রুবিয়ালেসের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় অভিযোগ করেছেন পিকে। তারপর শোনা গেল, ২০২১ অলিম্পিকের স্পেন দলে তাঁকে রাখতে রুবিয়ালেসের কাছে অনুরোধও করেছেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার। সে দলে অবশ্য নিজেকে রাখতে অনুরোধ করেছিলেন রামোসও। কিন্তু স্প্যানিশ ফেডারেশন শেষ পর্যন্ত দুজনের কাউকেই রাখেনি, ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরে অলিম্পিকে রুপা জিতে বাড়ি ফিরেছে স্পেন দল।

এত কিছুর পর এবার এল রামোসের সঙ্গে পিকের ‘প্রতারণা’র অভিযোগ। রামোসের সঙ্গে নিজের অডিও বার্তায় আলাপ ফেডারেশনের সভাপতি রুবিয়ালেসের কাছে পাঠিয়ে দেন পিকে!

দুজন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদে খেললেও স্পেন দলে পিকে ও রামোস প্রায় ১০ বছর সেন্টারব্যাকে জুটি বেঁধে খেলেছেন। একদিকে রামোস রিয়ালের অধিনায়ক, অন্যদিকে পিকে বার্সেলোনায় বিকল্প অধিনায়কদের একজন। পাশাপাশি একসময় বার্সেলোনার সভাপতি পিকে হবেন বলেও ধরে নিয়েছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে স্প্যানিশ দলে তো বটেই, স্প্যানিশ ফেডারেশনেও তাঁদের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ ছিল। সেটিই বুঝি কিছুটা প্রমাণিত হলো দুজনের ফাঁস হওয়া বার্তায়।

পিকে ও রামোসের আলাপের বিষয়ও ছিল স্প্যানিশ ফুটবলে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে। ফেডারেশনের সভাপতি রুবিয়ালেসের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল স্পেনের পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠনের (এএফই) সভাপতি দাভিদ আগানসোর। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা লিখেছে, রুবিয়ালেস চাইছিলেন আগানসোকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে। এ ব্যাপারেই সে সময়ে রিয়াল মাদ্রিদে থাকা রামোসের মতামত জানতে চেয়েছিলেন পিকে।

সেই কথাবার্তার রেকর্ডিংই রুবিয়ালেসের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন পিকে। এল কনফিদেনসিয়ালকে সূত্র জানিয়ে মার্কা লিখেছে, বার্তার সঙ্গে পিকে লিখেছেন, ‘রুবি, সের্হিও রামোস আমাকে এই বার্তাটা পাঠিয়েছে। এটা আপনার কাছেই রাখুন। প্লিজ এটা গোপন রাখবেন।’

default-image

কী কথা হয়েছে পিকে আর রামোসের, রেকর্ডিং থেকে সেটাও ফাঁস হয়ে গেছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে। রামোস বলছিলেন, ‘রুবি (ফেডারেশনের সভাপতি) আর আগানসোর (খেলোয়াড়দের সংগঠনের সভাপতি) মধ্যে সম্পর্কটা আগে কেমন ছিল, সেটা আমি জানি। তাঁরা আগে অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলেন, ভাইয়ের মতো। এরপর কী হলো? যখন রুবি ফেডারেশনের সভাপতির পদে দাঁড়ালেন, তিনি অন্যজনকে (আগানসো) এএফইতে রেখে দিলেন।’

সেখান থেকে রুবিয়ালেসের আর আগানসোর সম্পর্ক কীভাবে তিক্ত হলো, সেটির বর্ণনাও ছিল রামোসের কথায়, ‘আগানসো সভাপতি থাকা সত্ত্বেও এএফইতে রুবি আরও তিন-চারজন লোক রেখেছেন, যাঁরা তাঁকে সব বলে দিতেন। তিনি (আগানসো) সেগুলো ধরে ফেলেছেন, সেখান থেকেই যুদ্ধের শুরু। এখন একজন আরেকজনকে সহ্যই করতে পারে না। কারণ, রুবি ফেডারেশনের পাশাপাশি এএফইতেও রাজত্ব করতে চান।’

এর মধ্যে পিকের সঙ্গে রুবিয়ালেসের সম্পর্ক তো এই ফাঁস হওয়া প্রমাণাদি থেকেই পরিষ্কার, রামোসের সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল আগানসোর। কিন্তু পিকের সঙ্গে আলাপে রামোসের দাবিটা ছিল অন্য রকম, ‘এই বিষয়গুলো খুবই স্পর্শকাতর, জেরি (পিকে)। আমার আর আগানসোর সম্পর্ক...তোমাকে আগেও যেমন বলেছি, এখানে সম্পর্কটা পুরোপুরিই পেশাদার ছিল। ইউনিয়নে থাকার জন্য, খেলোয়াড়দের স্বার্থের বিষয়টা দেখার জন্যই এটার দরকার আছে। কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে যা করেছেন, তারপর তাকে আমি কালো তালিকায় ফেলে রেখেছি। আমার মনে হয় এখানে ব্যাপারটাতে আমার আর তোমার কিছু করার নেই। ব্যাপারটা...জানি না, আমার মনে হয় এটা তাদেরই (রুবিয়ালেস ও আগানসো) ঠিক করে নিতে হবে।’

রুবিয়ালেস-আগানসো দ্বন্দ্বে তাঁদের জড়ানো ঠিক হবে না বলে রামোস জানালেন পিকেকে, সেটিই পিকে পাঠিয়ে দিলেন দ্বন্দ্বে জড়িত দুই পক্ষের একজনকে!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন