রামোস, ভিনিসিয়ুস, বেনজেমা নন, রিয়ালের সবচেয়ে দামী কাসেমিরো।
রামোস, ভিনিসিয়ুস, বেনজেমা নন, রিয়ালের সবচেয়ে দামী কাসেমিরো। ছবি: রয়টার্স

রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় কে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই–বা কে?

প্রশ্ন দুটির উত্তরে ঘুরেফিরে সমর্থকদের কাছ থেকে কয়েকটা নামই আসবে। কেউ বলবেন অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক সের্হিও রামোসের কথা, যিনি শুধু প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোই নয়, বরং দলের প্রয়োজনে সামনে গিয়ে গোল করে আসতেও পটু। কারও চোখে আবার লুকা মদরিচ হবেন সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়, ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রাজত্বে ভাগ বসানোর সাধ্য তো আর যার-তার হয় না!

কেউ আবার হয়তো বলবেন করিম বেনজেমার নাম। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো–পরবর্তী যুগে রিয়ালের আক্রমণ যেভাবে সামলাচ্ছেন, তাতে বেনজেমার প্রশংসা না করে উপায় আছে? কারও চোখে হয়তো জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুস সেরা। বছরের পর বছর ধরে যেভাবে একই গতিতে খেলে যাচ্ছেন, সেরা না বলে উপায় আছে? অথবা আসতে পারে এদেন হ্যাজার্ডের নাম। এখনো রিয়ালের জার্সিতে ঝলক দেখাতে পারেননি সেভাবে, তবু সময়ের ফুটবলের সেরাদের একজনই তো বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড!

বিজ্ঞাপন

কিন্তু আপনাকে যদি বলা হয়, তাঁদের কেউই নন, বরং রিয়ালের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় কাসেমিরো, কেমন লাগবে? রিয়ালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় কাসেমিরো, তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। তবু রামোস-বেনজেমাদের হটিয়ে রিয়ালের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের তকমা ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কপালে জুটলে পাঁড় কাসেমিরো ভক্তেরও কপালে একটু ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক।

default-image

সেটাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত হিসাবরক্ষণ প্রতিষ্ঠান কেপিএমজির একটি বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য। জানা গেছে, রিয়ালের স্কোয়াডে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় রামোস, বেনজেমা, ক্রুস কিংবা মদরিচ নন, বরং কাসেমিরো। কাসেমিরোর বর্তমান মূল্য ৭ কোটি ২৬ লাখ ইউরো বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দ্বিতীয় স্থানে আছেন দলের বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি সেন্টারব্যাক রাফায়েল ভারান। তাঁর মূল্য ধরা হয়েছে ৭ কোটি ২ লাখ ইউরো। তৃতীয় স্থানে থাকা বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার মূল্য ৬ কোটি ৭৯ লাখ ইউরো। অর্থাৎ শীর্ষ তিনে রামোস, ক্রুস, মদরিচ কিংবা বেনজেমাদের কেউই নেই।

পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তোয় ধারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়ালে ফেরার পর থেকেই সোনা ফলাচ্ছেন কাসেমিরো। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার বলেই কি না, রামোস-বেনজেমা-ক্রুস কিংবা মদরিচদের মতো পাদপ্রদীপের আলোটা অত পান না। তাই বলে নিজের কাজটুকু যে ঠিকঠাক করেন না, সেটা বলা যাবে না মোটেও।

২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রিয়ালের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পেছনে ২৮ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের ভূমিকা অনেক। তিনি আছেন বলেন ক্রুস কিংবা মদরিচের মতো মিডফিল্ডাররা নিশ্চিন্তে আক্রমণে মনোযোগ দিতে পারেন, পেছনে থাকা রামোস-ভারানরা রক্ষণে পান বাড়তি নিরাপত্তা।

রিয়ালের জার্সি গায়ে ২৭০ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দলের প্রয়োজনে গোলও করতে পারেন। ২৭টি গোল সে কথারই প্রমাণ দেয়, যার অধিকাংশই এসেছে দলের প্রচণ্ড প্রয়োজনের মুহূর্তে। ২০১১ সালে ব্রাজিলের হয়ে অভিষিক্ত এই তারকা জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচও খেলে ফেলেছেন ৪৮টি। বলা বাহুল্য, রিয়ালের মতো ব্রাজিল দলেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন