ধ্রুপদী লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল–বার্সা
ধ্রুপদী লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল–বার্সাফাইল ছবি: এএফপি

বাঘে আর মহিষে এক ঘাটে জল খায়?

একই রকম প্রশ্ন করা যায় রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনাকে নিয়ে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই ক্লাবের মধ্যে কোনো রকম বন্ধুত্ব হতে পারে? জাতীয় কোনো বিপদ কিংবা মানবিক কোনো কারণের বাইরে এই দুই ক্লাব একে অন্যের পাশে এসে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কতটুকু?

দুই ক্লাবের বৈরিতার ইতিহাস জেনে থাকলে উত্তরে ইতিবাচক কিছু বলতে গিয়ে বেশ কয়েকবার ভাবতে হবে। কিন্তু বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোমানের কথা শোনার পর ধারণা বদলে যেতে পারে!

দুদিন আগে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের আগে-পরে রিয়ালের মাঠের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন লিভারপুলের কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। রিয়ালের এই মাঠেই বাংলাদেশ সময় আজ রাত একটায় লিগের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোতে নামবে বার্সেলোনা।

তার আগে সংবাদ সম্মেলনে রিয়ালের মাঠের অবস্থা নিয়ে প্রশ্নে বার্সা কোচ উল্টো রিয়ালের হয়ে খোঁচা মারলেন লিভারপুল কোচ ক্লপকে! বার্সার ডাচ্‌ কোচের চোখে, ক্লপের কথাগুলো ছিল রিয়ালের মতো ক্লাবকে ‘ছোট করে দেখানো’র চেষ্টা!

বিজ্ঞাপন

‘রিয়ালের মাঠ’ শব্দজোড়া অবশ্য ব্যাখ্যার দাবি রাখে। রিয়ালের মাঠ বললে এখন আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর কথা বলা যাবে না। সেটি এখনো কাগজে-কলমে রিয়ালের মাঠ আছে ঠিকই, কিন্তু গত জুন থেকে সেখানে সংস্কারকাজ চলছে। সাময়িকভাবে তাই নিজেদের অনুশীলন মাঠ ভালদেবেবাসকে মূল মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছে। যেটির আনুষ্ঠানিক নাম, এস্তাদিও আলফ্রেদো দি স্তেফানো।

করোনার কারণে এখন দর্শক আসতে পারবে না, তাই দর্শক সমর্থনের দিক থেকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু যা, ভালদেবেবাসও তো তা-ই—এমনটা ভেবেই হয়তো এই সময়টাকে সংস্কারের জন্য বেছে নিয়েছে রিয়াল। বার্নাব্যু যখন ঠিকঠাক ছিল, তখন ভালদেবেবাসে মূলত রিয়ালের যুবদল কাস্তিয়া ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর ম্যাচ হতো। কিন্তু দর্শক সমর্থনের বিবেচনায় ভালদেবেবাস-বার্নাব্যুতে পার্থক্য না থাকতে পারে, মাঠের গঠনে তো আছে!

গত মঙ্গলবার রিয়ালের এই ভালদেবেবাসেই লিভারপুল এসেছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচ খেলতে। সেদিন রিয়াল মাদ্রিদের সামনে বিবশ লিভারপুল হেরে গেছে ৩-১ গোলে। সে ম্যাচের আগে ও পরে দুবারই রিয়ালের মাঠ নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ।

ম্যাচে সাধারণ পাসেও বল যেভাবে মাঝেমধ্যে ‘খরগোশসুলভ’ লাফ দিচ্ছিল, তাতে সমালোচনাটাকে অমূলক হয়তো বলা যায় না। কিন্তু লিভারপুল ম্যাচটা বাজে ফুটবল খেলে হেরেছে বলেই ক্লপের কথাগুলো ম্যাচের পর দেখা হয়েছে অজুহাতের দৃষ্টিতে।

যদিও ম্যাচের আগেই মূলত মাঠের সমালোচনাটা করেছিলেন ক্লপ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে না খেলে এমন মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো মঞ্চের ম্যাচ খেলতে হচ্ছে দেখে ম্যাচের আগে লিভারপুল কোচ বলেছিলেন, ‘এটা তো অনুশীলন মাঠ। মনে হচ্ছে যেন আমরা (ম্যানচেস্টার) ইউনাইটেডের মাঠে খেলতে গিয়েছি, কিন্তু আমাদের খেলতে হচ্ছে তাদের অনুশীলন মাঠে।’

মাঠের দুরবস্থার কারণেই লিভারপুল হেরেছে, এমনটা ক্লপ কখনো দাবি করেননি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকের কয়েক মিনিট বাদ দিলে রিয়ালের সামনে লিভারপুল যেমন দ্বিতীয় সারির দলের মতো খেলেছে, তাতে এমন দাবি করার প্রশ্নও আসে না!

উল্টো দিকে রিয়ালও যে একেবারে আহামরি খেলেছে, তা নয়, কিন্তু তাদের তো এই মাঠে খেলতে সমস্যা হয়নি। হ্যাঁ, এই মাঠ ক্রুস-মদরিচদের খুব চেনা। কিন্তু মাঠটাতে কিছু জায়গায় অসমান বাউন্স ছাড়া তেমন কিছু চোখে পড়েনি। ক্লপ শুধু হতাশা জানিয়েছিলেন এত বড় পর্যায়ের একটা ম্যাচ এমন মাঠে খেলতে হচ্ছে বলে।

ম্যাচের পর দ্বিতীয় লেগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্লপ প্রকারান্তরে খোঁচা মেরেছেন রিয়ালের সাময়িক এই মাঠকে। ২০১৯ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনার মাঠে ৩-০ গোলে হারলেও দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে ৪-০ গোলে জেতে লিভারপুল। আগামী বুধবার এবারের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগও অ্যানফিল্ডে। এবার ৩-১ গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে রিয়ালকেও বিদায় করে দেওয়ার আশা আছে লিভারপুলের?

বিজ্ঞাপন

সে প্রশ্নে ক্লপ ম্যাচের পর বলেছিলেন, ‘বার্সেলোনার বিপক্ষে (অ্যানফিল্ডের) ওই ম্যাচ যদি দেখে থাকেন, সেই ম্যাচে (লিভারপুলের জয়ে) ৮০ শতাংশ কৃতিত্বই স্টেডিয়ামে আমাদের সমর্থকদের তৈরি করা আবহের। এবার তো আমরা সেটি আর পাব না। সে কারণে আমি জানি না এবার আমরা তেমনটা করতে পারব না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করব।’ এতটুকু পর্যন্ত ঠিকই আছে, এরপরই স্বভাবসুলভ খোঁচা মেরে ক্লপ হাসিমুখে বললেন, ‘অন্তত অ্যানফিল্ড তো একটা সত্যিকারের স্টেডিয়াম!’

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দৃশ্যত এই খোঁচাকে জাতীয় মর্যাদার বিষয় হিসেবে নিয়েছে। বার্সাও যেহেতু এই মাঠে খেলতে যাচ্ছে আজ, বার্সা কোচ কোমানকে তাই ক্লপের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলো।

default-image

খেলোয়াড়ি জীবনে ডিফেন্ডার হিসেবে খেলা কোমান এখানে ‘ডিফেন্ড’ করলেন রিয়ালের স্টেডিয়ামকে, ‘(মাঠটাকে অনুশীলন মাঠ বলা) মাদ্রিদের মতো বড় একটা ক্লাবকে ছোট করে দেখানো। ওরা স্টেডিয়ামে (বার্নাব্যুতে) সংস্কারের জন্য এই সময়টা বেছে নিয়েছে, সিদ্ধান্তটা বেশ ভালো ছিল। মাদ্রিদ এই স্টেডিয়ামে খেলতে অভ্যস্ত, প্রতিপক্ষকেও এখানেই খেলতে হবে। এই তো! খেলোয়াড়দের জন্য বরং দর্শক না থাকাটাই এখানে খেলার কঠিনতম দিক।’

ম্যাচের আগে পাশে থাকলেও আজকের এল ক্লাসিকোতে দুই দল ঝাঁপিয়েই পড়ার কথা। এল ক্লাসিকোতে ছাড় তো কেউই দেয় না, তারওপর এবারের ক্লাসিকো গড়ে দেবে শিরোপাদৌড়ের ভাগ্য। এই মুহূর্তে লিগশীর্ষে আতলেতিকো মাদ্রিদ, ২৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৬৬। সমান ম্যাচ শেষে দুইয়ে থাকা বার্সার পয়েন্ট ৬৫, তিনে থাকা রিয়ালের ৬৩।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন