default-image

জেরার্ড পিকে আপাদমস্তক কাতালান। ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে কাতালুনিয়া অঞ্চলটির স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়েও কথা বলেন। আর একজন প্রকৃত কাতালান হিসেবে একটি বিষয় মাথায় গেঁথে নিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদকে ঘৃণা করা। সুযোগ পেলেই তাদের সমালোচনা করা।

পারিবারিকভাবে বার্সেলোনার অংশ পিকে। খেলোয়াড় হিসেবেও ক্লাবের হয়ে সম্ভাব্য সবকিছু জয় করেছেন। বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ সভাপতি হিসেবে তাঁর নামটিও উচ্চারিত হয়। স্পেনের রাজধানী শহর বা কাতালান স্বাধীনতাসংগ্রামের বিরোধী পক্ষের সবচেয়ে গৌরবের প্রতীককেও তাই নিয়মিত খোঁচা দেওয়াটা নিজের দায়িত্ব বলেই মনে করেন পিকে।    

নভেম্বরের পর থেকেই মাঠে নেই পিকে। চোট তাঁকে বাধ্য করেছে দীর্ঘমেয়াদি ছুটি নিতে। তাই বহুদিন তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়নি। অবশেষে এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে দেখা গেছে এবং সেখানেই নিজের স্বভাবমতো বেফাঁস কথা বলেছেন। রিয়াল মাদ্রিদকে খোঁচা দিতে গিয়ে স্প্যানিশ লিগের রেফারিদের বিপক্ষে কথা বলেছেন। তার জেরেই এখন নিষেধাজ্ঞার শাস্তি জুটতে পারে পিকের।

বিজ্ঞাপন

পোস্ট ইউনাইটেডের সঙ্গে অনেক কিছুই নিয়ে আলাপ করেছেন। লুইস সুয়ারেজকে বার্সেলোনার ছেড়ে দেওয়া, মাদ্রিদের ফুটবলারদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রামোস রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়বেন কি না—সব আলোচনাই হয়েছে। আধুনিক ফুটবলেও যে ক্লাবের কাছে ফুটবলাররা বন্দী, তেমন তাত্ত্বিক আলাপও করেছেন রামোসের চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে। কিন্তু তিনি তো পিকে। আর সে সুবাদেই সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে রিয়ালকে খোঁচা মারার লোভ সামলাতে পারেননি।

বার্সার বর্তমান কোচ রোনাল্ড কোমান দুদিন পরপরই রেফারিং নিয়ে কথা বলেন। সেই চর্বিতচর্বণ পিকে আবার হাজির করলেন সবার সামনে, ‘সেদিন এক সাবেক রেফারি বলছিলেন, ৮৫ শতাংশ রেফারি মাদ্রিদ থেকে এসে থাকেন। তাহলে তাঁরা মাদ্রিদের পক্ষে কেন বাঁশি বাজাবেন না? এমনকি অবচেতন মনেও তো তাঁরা সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কম-বেশি করে ফেলবেন। আমি রেফারিদের পেশাকে সম্মান করি এবং এটাও জানি, তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেন। কিন্তু যখন দ্বিধায় পড়ার মতো মুহূর্ত আসে...!’

default-image

যদিও পরিসংখ্যান বলবে অন্য কিছু। এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে বার্সা ও রিয়াল দুই দল সমানসংখ্যক হলুদ কার্ড দেখেছে। ৩৬টি হলুদ কার্ডের পাশাপাশি দুই ক্লাবেরই একজন করে খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন। ওদিকে এ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ পেয়েছে তিনটি পেনাল্টি। বার্সেলোনা সব প্রতিযোগিতা মিলে ১২টি পেনাল্টি পেয়েছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও স্পোর্ত জানিয়েছে, রেফারিদের নিয়ে এমন ইঙ্গিত মেনে নিতে পারছে না স্প্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ম্যাচ অফিশিয়ালদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় পিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে স্প্যানিশ এফএ। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, সে ক্ষেত্রে ৪ থেকে ১২ ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন পিকে। সেই সঙ্গে নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে ৬০০ থেকে ৩০০০ ইউরো জরিমানাও হতে পারে তাঁর।

ফুটবলের বাইরেই ব্যবসায়িক এক সাম্রাজ্য গড়ছেন পিকে। সামান্য এই জরিমানা তাঁকে ভড়কাবে না। কিন্তু বহুদিন পর অনুশীলনে ফেরা পিকে কদিন পরই মাঠে ফেরার আশায় আছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির সঙ্গে নামবেন বলে আশা করতে থাকা পিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেমে এলে আবার মাঠে নামতে নামতে মৌসুমের শেষ ভাগ চলে আসবে। তাই যেকোনোভাবেই হোক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোতে সব মনোযোগ দিতে চাইবেন পিকে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন