বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কিন্তু এই ছোট্ট ক্লাবই যা শুরু করেছে, শেরিফের নাম আর অপরিচিত থাকেই–বা কী করে? চ্যাম্পিয়নস লিগের সফলতম দল, ১৩ বারের শিরোপাজয়ী রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহাসিক মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আজ খেলতে গিয়েছিল পুঁচকে ক্লাবটা। সেখানেই বিশ্ব দেখেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের অন্যতম বড় এই অঘটন।

এমনিতেই ইউরোপসেরা ক্লাবের এই প্রতিযোগিতায় বড় ক্লাবগুলো ফি মৌসুম ‘পচা শামুকে পা’ হড়কায়। আজ সেটাই হয়েছে। রিয়ালকে তাদের মাটিতেই ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়ে এসেছে এই মলদোভান ক্লাব।

default-image

শেরিফের গোল পেয়েছেন উজবেক স্ট্রাইকার ইয়াসুরবেক ইয়াখশিবোয়েভ ও লুক্সেমবার্গের মিডফিল্ডার সেবাস্তিয়েন থিল। ওদিকে রিয়ালের হয়ে সান্ত্বনার গোল পেয়েছেন ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা।

অবশ্য এটাই কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে শেরিফের প্রথম জয় নয়। নিজেদের চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিষেকে প্রতিবেশী ইউক্রেনের অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাব শাখতার দোনেৎস্ককে ২–০ গোলে হারিয়েছে দলটা। রিয়ালকে হারানোর মাধ্যমে দুইয়ে দুই হয়ে গেল তাদের। যে গ্রুপে রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান ও শাখতারের মতো ক্লাব আছে, সে গ্রুপে এখন সবার ওপরে শেরিফই। ভাবা যায়!

ম্যাচের ২৫ মিনিটেই ক্রিস্টিয়ানোর সহায়তায় দলকে এগিয়ে দেন উজবেক স্ট্রাইকার ইয়াসুরবেক ইয়াখশিবোয়েভ। নাহ্‌, এই ক্রিস্টিয়ানো রিয়ালে ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার রোনালদো নন, এই ক্রিস্টিয়ানো শেরিফের ক্রিস্টিয়ানো। ৬৫ মিনিটে করিম বেনজেমার পেনাল্টিতে ম্যাচে সমতা ফেরায় রিয়াল মাদ্রিদ।

৮৯ মিনিটে থিলের গোলে জয় নিশ্চিত করে শেরিফ। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হেরে বসলে মেজাজ সামলে রাখা কঠিন। রিয়ালের কোচ কার্লো আনচেলত্তি সে কাজ করতেও পারেননি। রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ড দেখেছেন।

ম্যাচ শেষে ব্যাখ্যা করার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছিলেন না এই ইতালিয়ান কোচ, ‘ম্যাচে কি হলো, সেটা ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমার কষ্ট হচ্ছে, কারণ এই ম্যাচে আমাদের হার প্রাপ্য ছিল না। ভাগ্য আমাদের সঙ্গে ছিল না আজ।’

পরিসংখ্যান আনচেলত্তির কথায় সায় দেবে। শেরিফ যেখানে গোল বরাবর মাত্র ৪টি শট মেরেছে, রিয়াল মেরেছে ৩১টি। তবে ৪ শটের ২টিতে শেরিফ গোল করতে পারলেও রিয়ালের ৩১ শট গোলপোস্টের আশেপাশে মাথা কুটে মরেছে। বল দখলের লড়াইয়েও যোজন যোজন এগিয়ে ছিল রিয়াল। ৭৬ শতাংশ সময় বল রিয়াল খেলোয়াড়দের পায়েই ছিল। কিন্তু ওই যে দিন শেষে ফুটবল তো গোলের খেলা। এসব পরিসংখ্যান তাই শুধু কষ্টই বাড়াবে রিয়ালের।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন