আজও দলকে বাঁচিয়েছেন বেনজেমা।
আজও দলকে বাঁচিয়েছেন বেনজেমা।ছবি: রয়টার্স

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিদায়ের পর রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগকে একাই টানছেন করিম বেনজেমা। যাঁর দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল, সেই বেল চোট ও ফর্মহীনতায় রিয়াল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যাঁকে এনে শূন্যতা পূরণের স্বপ্ন দেখেছিল রিয়াল মাদ্রিদ, সেই এডেন হ্যাজার্ড চোটের সঙ্গে সঙ্গে লড়তে লড়তে নিজে ক্লান্ত, সমর্থকদেরও ক্লান্ত বানিয়ে ফেলেছেন। তিন বছর ধরে রিয়ালকে তাই টেনে নিচ্ছেন বেনজেমা।

ফরাসি স্ট্রাইকার আজও রিয়ালের ভার বয়েছেন। সেল্‌তা ভিগোর বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে ৩-১ ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছেন বেনজেমা। দলের তিনটি গোলেই অবদান ছিল তাঁর। বেনজেমায় ভর করে পাওয়া এ জয়ে লিগে বার্সেলোনাকে আবারও পেছনে ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামীকাল রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত রিয়ালের চেয়ে এক ম্যাচ পিছিয়ে থাকবে বার্সা।

বিজ্ঞাপন
default-image

সেল্‌তা ভিগোর মাঠে ম্যাচ। কিন্তু বালাইদোসের প্রথম ১০ মিনিটে সেল্‌তাকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। প্রেসিং ফুটবলে স্বাগতিকদের ব্যস্ত রেখেছিল রিয়াল। নিজেরাও গোছানো আক্রমণ করছিল। তবে আক্রমণগুলো ডি-বক্সে গেলেই খেই হারিয়ে ফেলেছিল। তাই প্রথম কোনো গোলে শট নিতে নিতে ২০ মিনিট লেগে গেল। অবশ্য গোলে নেওয়া প্রথম শটেই বাজিমাত বেনজেমার। টনি ক্রুসের দারুণ পায়ের কাজে অনেকটা ফাঁকা হয়ে গিয়েছিলেন বক্সের মধ্যে। বাড়তি সময় পেয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষককে অসহায় বানিয়ে দূরের পোস্টে বল পাঠিয়েছেন বেনজেমা।

প্রথম গোলটির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি রিয়াল। পরের ১০ মিনিট আরও বেশি দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়েছে তারা। তবে গোলটি এসেছে সেলতার ভুলে। নিজেদের বক্সের সামনে রেনাতো তাপিয়া বল পায়ে রাখতে পারেননি। পেছন থেকে এসে ক্রুস বলটা বাড়িয়ে দেন বেনজেমার কাছে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের শটে জালের কোনা খুঁজে নিয়েছেন বেনজেমা।

default-image

আধা ঘণ্টার মধ্যে দুই গোল খেয়ে হুঁশ ফেরে সেলতার। অবশেষে খেলায় ফেরে তারা। ১০ মিনিটের মধ্যে এর ফলও মেলে। ক্রুসের সুবাদে বক্সের একটু বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছিল স্বাগতিক দল। সেখান থেকে দারুণ এক হেডে ব্যবধান কমিয়ে আনেন সান্তি মিনা। প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় রিয়ালের ঘাম ঝরিয়েছে সেলতা।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরুটাও স্বাগতিক দলের। কিন্তু গোলের চূড়ান্ত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি তারা। অন্যদিকে রিয়ালের আক্রমণেও ধার ছিল না। ৭৭ মিনিটে তবু প্রতিপক্ষের ভুলে বক্সে বল পেয়ে গিয়েছিলেন বেনজেমা। কিন্তু এবার আর গোলরক্ষককে হারাতে পারেননি। ৮২ মিনিটে ম্যাচে সমতা প্রায় এনেই দিয়েছিলেন ইয়াগো আসপাস। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে দারুণ বাঁকানো ফ্রি কিক নিয়েছিলেন। সেটা কাসেমিরোর মাথার ছোঁয়া লেগে পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।

যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন বেনজেমা। কিন্তু প্রতি আক্রমণে উঠে দুরূহ কোণ থেকে শট নেওয়ার চেয়ে পাস দেওয়াটাই ভালো মনে হয়েছে তাঁর। সে পাস থেকে কোনোমতে হাঁটু লাগিয়েই গোল পেয়ে গেছেন মার্কো আসেনসিও।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন