রিয়াল-বার্সা-আতলেতিকোসহ ১২ দল মিলে গড়তে চাইছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ।
রিয়াল-বার্সা-আতলেতিকোসহ ১২ দল মিলে গড়তে চাইছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ। ছবি: রয়টার্স

স্পার্তাক মস্কো সুযোগটা নিয়েছে। ভিয়ারিয়ালও। চাইলে এখন অন্য ক্লাবগুলোও একই সুযোগ নিতে পারে।

সুযোগটা আসলে সমর্থক বাড়িয়ে নেওয়ার। ইউরোপিয়ান সুপার লিগের দামামা বেজে ওঠায় বেহাগের বিরহী সুর বাজছে অনেক ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে এত দিন তিলে তিলে গড়া সমর্থনের সৌধ বুঝি ভেঙে পড়ল!

তা নয় তো কী? সুপার লিগ নামের নতুন এক টুর্নামেন্ট চালু করতে যাচ্ছে ইউরোপের ১২টি বড় ক্লাব। এই টুর্নামেন্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নাম সামনে চলে এসেছে। উয়েফা তাদের নিষিদ্ধ করার হুমকিও দিয়েছে।

এর মধ্যে মজাও চলছে। রাশিয়ার স্পার্তাক, স্পেনের ভিয়ারিয়াল যে মজা করছে। দুই ক্লাবই টুইটারে সাধারণ মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে রিয়াল-বার্সার মতো ক্লাব ভুলে তাদের সমর্থন করার জন্য!

বিজ্ঞাপন

নাটের গুরু ১২ ক্লাবের নাম এখন সবাই জানেন। স্পেন থেকে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। ইংল্যান্ড থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, লিভারপুল, আর্সেনাল ও টটেনহাম। ইতালি থেকে জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান ও এসি মিলান। টুর্নামেন্ট চালু হলে চ্যাম্পিয়নস লিগ গুরুত্ব হারাবে। এমনকি অবলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

কারণ, ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলো সুপার লিগের মতো এমন এক টুর্নামেন্টে ব্যস্ত থাকা মানেই তো চ্যাম্পিয়নস লিগের বিদায়। বর্তমানের ইউরোপসেরা ক্লাব প্রতিযোগিতার কল্যাণে সেখানকার নানা দেশের বড় ক্লাবগুলোর একে-অপরের মুখোমুখি হওয়া দেখার সুযোগ মেলে। তবে সেটি নিয়মিত নয়। সুপার লিগে ঠিক এটাই নিয়মিত দেখা যাবে।

মোট ২০টি দল মিলে দুই ভাগে ভাগ হয়ে একে অপরের বিপক্ষে নিয়মিত খেলবে। যেহেতু বড় দলগুলো মুখোমুখি হবে, তাই দর্শকের আগ্রহ ও সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহও তুঙ্গে থাকবে, অর্থাৎ টাকা! ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের এত দিনের ঐতিহ্য ভেঙেচুরে ১২টি ক্লাবের সুপার লিগে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। সাধারণ ফুটবলমোদীরা ঝড় তুলেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পছন্দের ক্লাবগুলোর এমন সিদ্ধান্ত কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

টাকার অঙ্কের কাছে হার মেনে উয়েফা হয়তো শেষ পর্যন্ত সুপার লিগকে স্বীকৃতি দিয়েও বসতে পারে, কে জানে! সেটা সময়ই বলে দেবে। আপাতত উয়েফা ও ফিফা কিন্তু কঠোর অবস্থানে। দুটি সংস্থার পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সুপার লিগে অংশ নেওয়া ক্লাবগুলো ঘরোয়া লিগে খেলতে পারবে না। খেলোয়াড়েরা জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। এমন কথার পর সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন সমর্থকেরা। তাঁদের অবস্থা যেন ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’! এই ১২টি ক্লাবের মধ্যে যেকোনো একটির সমর্থককে দিয়ে উদাহরণ দেওয়া যায়।

যেমন ধরুন, রিয়াল মাদ্রিদ সুপার লিগে খেললে ও উয়েফার হুমকি সত্য হিসেবে ফলে গেলে ক্লাবটিকে আগের চোখে দেখার সমর্থকসংখ্যা নিশ্চিতভাবেই কমবে। কারণ, সুপার লিগে যাওয়াকে বিশেষজ্ঞ থেকে সমর্থকেরা দেখছেন এভাবে—শুধু টাকার লোভে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে পায়ে ঠেলে চলে যাওয়া।

স্বাভাবিকভাবেই ক্লাবগুলোর সমর্থকসংখ্যা বিশ্বব্যাপী কমবে। কোনো ফুটবলপ্রেমীই তাঁর পছন্দের ক্লাবের গায়ে ‘অর্থলোভী’ ট্যাগ দেখতে চান না। কিন্তু ১২টি ক্লাবের গায়ে সবাই এই ট্যাগ লাগানো শুরুর পর মজাটা নেওয়ার লোভ সামলাতে পারবেনি স্পার্তাক মস্কো।

বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার সবচেয়ে সফল ক্লাবটি আজ বাংলাদেশ সময় ভোর নাগাদ একটি টুইট করেছে। সেটি সুপার লিগের পরিকল্পনা করা ১২টি ক্লাবের সমর্থকদের উদ্দেশে, ‘প্রিয় এসি মিলান, আর্সেনাল, চেলসি, আতলেতিকো, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও টটেনহাম সমর্থকেরা, আপনাদের সমর্থনের জন্য যদি নতুন ক্লাবের দরকার হয়, তাহলে আমরা সব সময়ই আছি। বিনীত—স্পার্তাক মস্কো।’

স্পার্তাকের এই টুইটে সাড়া দেওয়ার লোকের অভাব হয়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪২ হাজার রি-টুইট করা হয়েছে টুইটটি। প্রায় দুই লাখ মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে এই বার্তা।

default-image

এর মধ্যে এক ভক্ত মজা করে প্রশ্ন করেছেন, ‘আপনাদের যে ম্যাচগুলো দেখানো হয়, সেগুলোতে ধারাভাষ্য থাকে?’

স্পার্তাকও কম যায় না! কপট গুরুগম্ভীর ভাব নিয়ে তাদের জবাব, ‘হ্যাঁ। সপ্তাহে লিগের দুটি ম্যাচ অসাধারণ ইংরেজি ধারাভাষ্যে শোনা যায়, বাকিগুলোতে রাশিয়ান ধারাভাষ্য। আমাদের ম্যাচগুলো সাধারণত ইংরেজি ধারাভাষ্য নিয়েই আসে!’

ভিয়ারিয়ালের টুইট, ‘হাই, আমরা ভিয়ারিয়াল। রিয়াল মাদ্রিদ, আতলেতিকো ও বার্সেলোনার তিতিবিরক্ত ভক্তরা, আপনাদের আমাদের ক্লাবে স্বাগতম।’ ভিয়ারিয়ালকে সমর্থন করায় একটা 'লোভ'ও দেখিয়েছে ক্লাবটি। কী লোভ? টুইটে লেখা, ‘আমাদের জেরার্ড মরেনো আছে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন