রামোস-ভারান ; দুজনেই পড়েছেন চোটে।
রামোস-ভারান ; দুজনেই পড়েছেন চোটে। ছবি: টুইটার

এমনিতেই রিয়ালের রক্ষণভাগ জেরবার খেলোয়াড়দের চোটে। মাঠের বাইরে মূল দুই রাইটব্যাক দানি কারভাহাল ও আলভারো ওদ্রিওসোলাকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে এই চোট। একই অবস্থা এদের মিলিতাও ও নাচো ফার্নান্দেসেরও। গতকাল তালিকাটা আরেকটু লম্বাই করে দিলেন সেন্ট্রাল ডিফেন্সের রিয়ালের মূল দুই ভরসা সের্হিও রামোস ও রাফায়েল ভারান। চোটের কারণে দুজনকেই নিজ নিজ ম্যাচের প্রথমার্ধের পর তুলে নেওয়া হয়েছে।

গত রাতে জার্মানিকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে স্পেন। ফেরান তোরেস, আলভারো মোরাতা, ফাবিয়ান রুইজ, রদ্রিরা গোটা ম্যাচে নিখুঁত ফুটবল খেলে সন্তুষ্ট করেছেন কোচ লুইস এনরিকেকে। তবে ম্যাচ শেষে এনরিকের মনে খচখচানি, সেটি অবশ্যই রামোসের জন্য। প্রথমার্ধ শেষেই উঠে গিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক। প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগ দিয়ে একটা বল ক্লিয়ার করার পর রামোসের ডান পায়ে সমস্যা দেখা দেয়। এনরিকে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রামোসের জায়গায় ম্যানচেস্টার সিটির সেন্টারব্যাক এরিক গার্সিয়াকে মাঠে নামানো হয়। জানা যায়, ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পড়েছেন রামোস। সামনে বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে রিয়ালের। শনিবার স্প্যানিশ লিগে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে খেলতে নামবে রিয়াল, তারপর বুধবার খেলবে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে। রামোসের চোট বেশি গুরুতর হলে এই দুই ম্যাচের কোনোটাতেই পাওয়া যাবে না তাঁকে।

default-image
বিজ্ঞাপন

এমনিতেই রামোস না থাকলে সাম্প্রতিক সময়ে জিততে পারে না রিয়াল। রামোস না থাকলে ইউরোপের ময়দানে সবচেয়ে সফল ক্লাবটাই সেই একই রণক্ষেত্রে হয়ে পড়ে দিশাহীন তরি। দলকে উদ্দীপ্ত করার মতো কোনো ‘নেতা’ নেই, নিজেদের রক্ষণভাগে প্রতিপক্ষ ফরোয়ার্ডদের জন্য ত্রাসের সঞ্চার করার মতো কেউ থাকে না! রামোসের বয়স ৩৪ বছর হয়ে গেলেও এই কাজে এখনো তাঁর বিকল্প বের করতে পারেনি রিয়াল। পরিসংখ্যানও রামোসহীন রিয়ালের দুর্দশার প্রমাণ দিচ্ছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে রামোসকে বাইরে রেখে রিয়ালের খেলা সর্বশেষ ৮ ম্যাচের মধ্যে ৭টিতেই হার দেখতে হয়েছে। রামোসকে ছাড়া ইউরোপে রিয়ালের ‘কালো অধ্যায়’ শুরু হয়েছে ২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে। সেবার কোয়ার্টার ফাইনাল ফিরতি লেগে রামোসকে ছাড়াই জুভেন্টাসের মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল। প্রথম লেগে ৩ গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ইতালিয়ান ক্লাবটি। ভাগ্যিস, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গোল করে জিতিয়েছিলেন। পরের মৌসুমে অবশ্য রোনালদো ছিলেন না। রিয়াল তখন থেকেই রামোসের ওপর নির্ভর করছে ভীষণভাবে। সে মৌসুমে (২০১৮-১৯) গ্রুপপর্বে সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে দুই ম্যাচেই রামোসকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন জিদান। ওই দুই ম্যাচে রিয়ালকে মোট ৪ গোল দিয়েছিল রাশিয়ান ক্লাবটি।

default-image

শেষ ষোলোয় ফিরতি লেগে আয়াক্সের বিপক্ষেও মাঠে নামতে পারেননি রামোস। নিষেধাজ্ঞা ছিল। ডাচ ক্লাবটি রিয়ালের রক্ষণভাগ ছিন্নভিন্ন করে ৪ গোল দিয়েছিল। পরের মৌসুমে প্যারিসে পিএসজির মাঠে ৩-০ গোলে হারে রিয়াল। নিষেধাজ্ঞার কারণে সে ম্যাচেও ডাগআউটে বসে হার দেখতে হয় স্প্যানিশ ডিফেন্ডারকে। এরপর শেষ ষোলোয় ফিরতি লেগে নিষিদ্ধ থাকা রামোসকে ডাগআউটে দর্শক বানিয়ে রিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে ফেলেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। সব শেষ রামোসকে ছাড়া মাঠে নেমে শাখতারের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বসেছিল রিয়াল।

শুধু রামোসই নন, রিয়ালের চিন্তা বাড়িয়েছেন রক্ষণভাগে রামোসের সঙ্গী রাফায়েল ভারান। সুইডেনের বিপক্ষে গত রাতে নেশনস লিগের ম্যাচে ফ্রান্স ৪-২ গোলে জিতে সেমিতে উঠলেও, চোটে পড়েছেন ভারান। প্রথমার্ধের পর ভারানের জায়গায় চেলসির ডিফেন্ডার কুর্ত জুমাকে মাঠে নামান কোচ দিদিয়ের দেশম। তবে রিয়াল শিবিরে আশা, ভারানের চোট হয়তো অতটা গুরুতর নয়, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষেই হয়তো মাঠে দেখা যেতে পারে তাঁকে। তবে সেটা নিশ্চিত নয়।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতিকে রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান যদি অভিশাপও দেন দোষ দেওয়া যাবে না মোটেও!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0