বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

সাদাচোখে বার্সেলোনার বর্তমান বোর্ডের কোনো দোষ নেই। কারণ, তাঁরা মেসিকে ধরে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছেন। একের পর এক খেলোয়াড়কে বিক্রি বা ধারে পাঠানো হয়েছে। অনেক খেলোয়াড়কে বিক্রি করার চেষ্টা করা হয়েছে। মেসিকে বুঝিয়ে তাঁর বেতন অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু এসব করেও লা লিগার বেঁধে দেওয়া বেতনকাঠামোর নির্ধারিত সীমার নিচে নামতে পারেনি বার্সার বেতন।

সাবেক সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউ ও তাঁর বোর্ড দলবদলের বাজারে একের পর এক বাজে বিনিয়োগ করে ক্লাবের এমন দশা করেছেন বলেই মেসিকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বার্সেলোনা। এতে তাই বর্তমান বোর্ডের দোষ দেওয়ার উপায় নেই। কিন্তু বার্সেলোনার স্টেডিয়াম ও মাঠের পুনর্নির্মাণ প্রকল্প এস্পাই বার্সার সঙ্গে জড়িত ইয়োপিসের কাছে লাপোর্তাও কম দায়ী নন। কারণ, আর সব সাধারণ কিউলের (বার্সা সমর্থকদের ডাক নাম) ইয়োপিসও বিশ্বাস করেছিলেন নির্বাচিত হলে অঙ্গীকারমতো মেসিকে ক্লাব ছাড়তে দেবেন না লাপোর্তা।

default-image

নাভারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইএসই ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের প্রফেসর ইয়োপিস খুবই হতাশ হয়েছেন লাপোর্তার ওপর। এক খোলা চিঠিতে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। বলেছেন, মেসিকে চলে যেতে দিয়ে তিনি রিয়াল মাদ্রিদকে সহযোগিতা করেছেন। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কৌশল বিশেষজ্ঞ ইয়োপিসের ধারণা, রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন লাপোর্তা। চাইলে নাকি মেসিকে ধরে রাখার ব্যাপারে আরও চেষ্টা করতে পারত বার্সেলোনা।

হোয়ান লাপোর্তাকে উদ্দেশ করে লেখা ইয়োপিসের সে চিঠিটা নিম্নরূপ:

‘প্রিয় ইয়ান,

তুমি আমাকে হতাশ করেছ। আমি ভেবেছিলাম ফ্লোরেন্তিনোর যোগ্য প্রতিপক্ষ হওয়ার ক্ষমতা শুধু তোমার আছে। আমার কাছে অত তথ্য নেই, কিন্তু মেসিকে ধরে রাখার ব্যাপারে আরও চেষ্টা করা যেত। আরও অনেক পথ খোলা ছিল।

মেসি বার্সেলোনার ইতিহাসেরই গুরুত্বপূর্ণ এক অংশ।’

default-image

‘সুপার লিগ শুরু হলে দেখব (মেসিকে ছেড়ে দেওয়াটা যৌক্তিক ছিল কি না)। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের ফলে পিএসজির শক্তি বাড়ানো হলো (মেসি যোগ দিচ্ছেন পিএসজিতে) এবং এমবাপ্পেরও মাদ্রিদে (রিয়াল) যাওয়ার পথ সহজ করে দেওয়া হলো। এটাই তো ফ্লোরেন্তিনোর নিখুঁত পরিকল্পনা। ইতিহাস তোমাকে মনে রাখবে মেসিকে ছাঁটাই করা সভাপতি হিসেবে।

আমাকে এস্পাই বার্সা কমিশনে যুক্ত হওয়ার মতো যোগ্য মনে করার জন্য ধন্যবাদ এবং যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো নিয়োগ বা দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আমার ধারণা, আমি ইতিবাচক কিছুই দিয়েছি। কিন্তু এখন আমার পদত্যাগ করার সময় এসেছে। কারণ, আমার স্বাধীন মত প্রকাশ করা দরকার।

তোমার সৌভাগ্য কামনা করি।

বার্সেলোনা দীর্ঘজীবী হোক। কাতালুনিয়া দীর্ঘজীবী হোক।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন