রিয়ালের মাঠের বাইরে বার্সা সভাপতি পদপ্রার্থীর শোডাউন
সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বার্সেলোনায় এখন সাজ সাজ রব। আলোচিত-সমালোচিত জোসেপ মারিয়া বার্তমেউর জায়গায় কে বসবেন, এটা নির্ধারিত হবে আর কিছুদিন পর। বোর্ডরুমের কর্তা হওয়ার দৌড়ে এর মধ্যেই নাম লিখিয়েছেন বেশ কয়েকজন। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন—ক্লাবটার সাবেক সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা, ভিক্তর ফন্ত, লুইস ফের্নান্দেজ, জর্দি ফারে, অগুস্তি বেনেদিতো।
প্রত্যেক সভাপতি পদপ্রার্থীই নিজের যোগ্যতা সমর্থকদের কাছে প্রমাণ করার জন্য অভিনব উপায়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, করছেন একের পর এক নির্বাচনী ওয়াদা। তবে পাঁচজনের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হোয়ান লাপোর্তা যা করলেন, তা অন্য কেউ কখনোই করেননি, করবেন কি না, তারও ঠিক নেই। বার্সা–সমর্থকদের মন পাওয়ার জন্য এই ভদ্রলোক রিয়াল মাদ্রিদের স্টেডিয়াম সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ঠিক বাইরে অবস্থিত এক বহুতল ভবনের গায়ে নিজের ছবিসংবলিত বিরাট এক ব্যানার ঝুলিয়েছেন। যাতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা, ‘তোমার সঙ্গে আবারও দেখা করার জন্য মুখিয়ে আছি।’ যেন লাপোর্তা এর মধ্যেই ভোটাভুটির লড়াইয়ে জিতে গেছেন, রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে ডাকছেন যুদ্ধের ময়দানে!
লাপোর্তার এই কাণ্ড দেখে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস মাদ্রিদের এক পথচারীর বয়ান দিয়ে লিখেছে, ‘যাক, অন্তত স্প্যানিশ ভাষা ব্যবহার করেছে ব্যানারে!’ অর্থাৎ, বার্সেলোনা ভক্ত-সমর্থকদের নিজেদের কাতালান প্রমাণ করার সুতীব্র বাসনার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েই কথাটা বলা!
এদিকে লাপোর্তার এই কাণ্ড দেখে বার্সার আরেক সভাপতি পদপ্রার্থী ভিক্তর ফন্ত লাপোর্তার সমালোচনা করে তড়িঘড়ি নিজের একটা ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য পরিষ্কার, এসব করে ক্লাবের সমস্যার সমাধান করা যায় না, ‘হোয়ান, এসব কাজ করার জন্য তোমার জুড়ি নেই। তবে এসব ব্যানার দিয়ে আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতব না, নতুন স্টেডিয়ামও বানাতে পারব না। ক্লাবের বাড়তি ধারদেনাও চুকাতে পারব না। ২৪ জানুয়ারিতে দেখা হবে আমাদের। সেদিনই আমরা আমাদের প্রকল্পের কথা জানাব সবাইকে।’
২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার সভাপতি ছিলেন লাপোর্তা। তাঁর অধীনে বার্সেলোনা জেতে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। লিওনেল মেসির উত্থানও এই লাপোর্তার সময়েই।