default-image

রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকেরা আন্তর্জাতিক বিরতি পেয়ে খুব একটা অখুশি হননি। সাধারণত আন্তর্জাতিক বিরতিতে চোটে পড়ার শঙ্কা থাকে বলে দুশ্চিন্তায় থাকেন সমর্থকেরা। কিন্তু বিরতির আগে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হেরে বসেছিল রিয়াল। করোনার কারণে কাসেমিরো, এডেন হ্যাজার্ড ও মিলিতাও বাদ পড়েছিলেন। এমন অবস্থায় ছোট একটা বিরতিকে মনে মনে হয়তোবা আশীর্বাদ বলেই মনে হয়েছিল অনেকের। বিরতি শেষ হতে না হতেই সে চিন্তা উবে গেছে সবার।

আজ লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে খেলা রিয়ালের। বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৯টার এ ম্যাচ এমনিতেও কঠিন ছিল। লিগে দুয়ে আছে দলটি। আর এ মৌসুমে বেশ গোছানো এক দল নিয়ে নেমেছেন কোচ উনাই এমেরি। নিজেদের মাঠে রিয়ালকে ভালোই ভোগানোর কথা তাদের। আর এমন এক ম্যাচেই একাদশ সাজাতে মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার দশা জিনেদিন জিদানের। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে যে তাঁর অনুপস্থিত খেলোয়াড়ের তালিকা আরও লম্বা হয়েছে!

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক দায়িত্ব বহু দিন ধরেই নেই, কিন্তু তবু ছিটকে গেছেন দলের একমাত্র গোল–ভরসা করিম বেনজেমা। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেই চোট পেয়েছিলেন করিম বেনজেমা। সে চোট এখনো সেরে ওঠেনি। তাঁর বদলে মাঠে নামার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন লুকা ইয়োভিচ। রিয়াল বেঞ্চে বসেই সময় কাটানো এই স্ট্রাইকার সার্বিয়ার হয়ে গত এক সপ্তাহে দারুণ খেলেছেন। দুই ম্যাচেই করেছেন তিন গোল। বেনজেমার অনুপস্থিতে কোথায় সুযোগটা কাজে লাগাবেন, তা নয়, স্পেনে ফিরতে না ফিরতেই জানা গেল করোনা পজিটিভ তাঁর!

স্ট্রাইকার হিসেবে জিদানের হাতে আছেন শুধু মারিয়ানো। কিন্তু এই কাতালান স্ট্রাইকারের খেলার ধরনের সঙ্গে জিদানের কৌশলের খুব একটা মিল হয় না বলে নামাতে চান না। ফলে এমন সংকটের মুহূর্তেও মারিয়ানোকে মাঠে দেখা যাবে, এমন আশা খোদ মারিয়ানোও হয়তো করছেন না। অথচ গত মৌসুমে লিগে প্রথমবার খেলার সুযোগ পেয়ে মাত্র ১ মিনিটের মধ্যে বার্সেলোনার বিপক্ষে গোল করেছিলেন এই নাম্বার নাইন।

default-image

এরই মধ্যে করোনা থেকে সেরে উঠেছেন হ্যাজার্ড। উপায় না দেখে তাঁকে স্কোয়াডেও ডেকেছেন জিদান। কিন্তু বেলজিয়ান উইঙ্গারকে মাঠে নামানো হলেও অন্তত স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর সম্ভাবনা নেই। আন্তোনিও কন্তের অধীনে চেলসিতে কিছুদিন মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলার সময়ই এ নিয়ে বিরক্তির কথা জানিয়েছিলেন। জিদান যদি মারিয়ানোকে না–ও নামান তবু হ্যাজার্ডকে স্ট্রাইকার হিসেবে দেখার সম্ভাবনা নেই। বরং রদ্রিগো কিংবা আসেনসিওর মধ্যে যেকোনো একজনকে ফলস নাইন হিসেবেই নামানোর সম্ভাবনা বেশি। সে ক্ষেত্রে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে হয়তো বেঞ্চেই থাকতে হবে।

মাঠের অন্যপ্রান্তেও দুশ্চিন্তা কমছে না বাড়ছে জিদানের। আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা দলের অধিনায়ক সের্হিও রামোসকে কেড়ে নিয়েছে অন্তত তিন ম্যাচের জন্য। অতীতে যখনই রামোস অনুপস্থিত ছিলেন, রিয়ালের রক্ষণের কঙ্কাল বেড়িয়ে এসেছে। তাঁকে ছাড়া ভারান যেন রক্ষণের ‘অ–আ–ক–খ’ও ভুলে যান। অবশ্য এ ম্যাচে ভারানকে পাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছিল। ফ্রান্সের হয়ে খেলতে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন ভারানও। তবে দলের যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, তাতে আজ ভারানকে নামতেই হচ্ছে। করোনা থেকে সেরে উঠলেও মিলিতাও এখনো মাঠে নামার মতো সুস্থ হননি। ফলে সদ্যই চোট কাটিয়ে ওঠা নাচোকেই সেন্টারব্যাক হিসেবে দেখা যাবে আজ। আর রিয়াল কাস্তিয়া (ক্লাবের যুব দল) থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে ভিক্তর চুস্তকে।

লেফটব্যাকেই একমাত্র পরিপূর্ণ সুস্থ দুজনকে পাচ্ছেন জিদান। গত কিছুদিন মার্সেলোকে বাঁয়ে নামিয়ে ডান দিকে ফারলাঁ মেন্দিকে নামানো হয়েছিল। কিন্তু রামোসবিহীন রক্ষণে এত বড় ঝুঁকি না–ও নিতে পারেন জিদান। এ কারণেই হয়তো তড়িঘড়ি করেই সদ্য চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফেরা দানি কারভাহালকে স্কোয়াডে ডেকে নিয়েছেন কোচ। আর উইঙ্গার থেকে রাইটব্যাক বনতে বাধ্য করা লুকাস ভাসকেজ তো আছেনই। আজও হয়তো তাঁকেই বেছে নেবেন জিদান। আর রক্ষণের চতুষ্টয় সৃষ্টি হবে মেন্দি-নাচো-ভারান-ভাসকেজদের নিয়ে। যেকোনো আক্রমণভাগেরই এমন ভাঙাচোরা রক্ষণ দেখে লোভ সামলাতে কষ্ট হবে।

default-image
বিজ্ঞাপন

মাঝমাঠের আলোচনা সবার শেষে করা হচ্ছে, তার মানে এ নয় যে এখানে সমস্যা নেই জিদানের। বরং উল্টো, মধ্যমাঠে প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় নেই বলে অস্কার আরান্দাকে ডেকে পাঠিয়েছেন জিদান। এই ১৮ বছর বয়সী এমনকি কাস্তিয়াতেও খেলেন না। আজ কাস্তিয়ার ম্যাচ আছে বলে সেখান থেকে মারভিন পার্ক, আন্তোনিও ব্লাঙ্কো কিংবা সের্হিও আরিবাসকে নিতে পারেননি জিদান। তাই শেষমেশ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের দিকে হাত বাড়িয়েছেন জিদান।

দলকে এমন অবস্থায় ফেলেছে দুর্ভাগ্য। করোনা থেকে মাত্রই সেরে উঠেছেন বলে কাসেমিরোকে নেওয়া যায়নি। ফেদে ভালভার্দে তো চোটের কারণে ছিটকে গেছেন এক মাসের জন্যই। টনি ক্রুস ও লুকা মদরিচকে তাই শুরু থেকেই খেলতে হবে। মার্টিন ওডেগার্ড ও ইসকোর মধ্যে কাকে নামান জিদান, সেটাই দেখার বিষয়। এমনও হতে পারে যেহেতু দলে রক্ষণাত্মক কোনো মিডফিল্ডার নেই, সেহেতু দুজনকেই নামিয়ে চারজনের মিডফিল্ডার দাঁড় করিয়ে দেবেন জিদান।

এত সব দুশ্চিন্তার মধ্যে একটি জায়গাতেই ভরভরন্ত অবস্থা রিয়ালের। তিন গোলরক্ষকের সবাই আজ সুস্থ। কিন্তু আন্দ্রেয়া লুনিন ও আলতুবেকে বেঞ্চেই থাকতে হবে। নামবেন থিবো কোর্তোয়াই। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিরতির শেষটা কোর্তোয়া করেছেন ভয়ংকর হাস্যকর এক গোল খেয়ে। সে স্মৃতি আজ ভালোভাবেই তাজা থাকবে তাঁর মনে।

মূল একাদশ সাজাতে তাই কঠিন এক পরীক্ষাই দিতে হবে জিদানকে।

মন্তব্য পড়ুন 0