default-image

জিনেদিন জিদানের অধীনে মাদ্রিদে শেষ দিকে একদমই দাম পাচ্ছিলেন না বেল। স্পেন ছেড়ে ইংল্যান্ডে তাঁর পুরোনো ক্লাব টটেনহামে ফিরেছিলেন নিজেকে খুঁজে পাওয়ার লক্ষ্যেই। জিদানের অপছন্দের তালিকায় চলে যাওয়া বেলকে পুনর্জন্ম দেওয়ার কথা ছিল স্পার্স কোচ মরিনিওর। কিন্তু স্পার্সের জার্সিতেও নিয়মিত মূল একাদশে সুযোগ পেতে অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল এই ওয়েলশ উইঙ্গারের। ফলে যা হওয়ার তা–ই হলো। টটেনহামেও সুখে নেই বেল, গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল সবখানে। সে গুঞ্জনের পালে খোদ মরিনিও-ও বাতাস দিলেন। শেষমেশ মাঠে পারফর্ম করেই সেসব গুঞ্জন ধামাচাপা দিয়েছেন পোড় খাওয়া এই উইঙ্গার।

গতকাল ইংলিশ লিগের ম্যাচে বার্নলিকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে টটেনহাম। ম্যাচটা যেন আক্ষরিক অর্থেই ‘বেল-শো’ ছিল। দুটি গোল করেছেন, করিয়েছেন একটা। দুদিন আগেও যে বেলের ফর্ম আর আচার-আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল টটেনহামেও জায়গা হবে না, সে বেল যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। হ্যারি কেন, সন হিউন-মিংদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দলকে টেনে তুলছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

ফর্মে ফেরা বেল ম্যাচ শেষে হয়তো ভাবলেন, তাঁকে ঘিরে চলতে থাকা সমালোচনারও জবাব দেওয়া যাক! বিবিসির ম্যাচ অব দ্য ডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেল জানিয়েছেন, টটেনহামে বেশ সুখেই আছেন তিনি। ইংলিশ ক্লাবে মন খারাপ হওয়ার কথাবার্তা নিছকই মনগড়া, ‘আমি এ মৌসুমে সুখে আছি। ড্রেসিংরুমে আমি সবার সঙ্গে খুশিই থাকি। আমি আনন্দেই আছি এখানে। আশা করি, সেটা আপনারা খেলার মাঠেও পারফরম্যান্স দেখে বুঝতে পারছেন। যখন আমাকে উঠিয়ে নেওয়া হলো, তখন আমি কষ্ট পাইনি। অনেক ম্যাচ বাকি আছে এখনো, প্রতি ম্যাচে কিছু না কিছু সময় খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

এই মৌসুমে লিগে টটেনহামের হয়ে আট ম্যাচে বেল সুযোগ পেলেও, এর মাত্র দুটিতে ছিলেন মূল একাদশে। এর আগে গোলও করেছিলেন সাকল্যে একটি। তবে সুযোগ পাচ্ছেন না দেখে বেল যে বিরক্ত, সেসব কথাও উড়িয়ে দিয়েছেন। ৩১ বছর বয়সী এই উইঙ্গার যে এখন আরও বেশি পুরোদস্তুর ‘টিম-ম্যান’ হয়ে উঠেছেন, সেটাও বোঝা গেছে তাঁর কথায়, ‘আমরা জয়ের ধারায় ছিলাম না। তাই আজকের জয়টা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শুধু গোল করেছি বলে নয়, আমরা যেভাবে খেলেছি, সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট। গোল করার মাধ্যমে বা সহায়তা করার মাধ্যমে, যেভাবেই হোক না কেন, আমি খুশি যে আমি দলকে সাহায্য করতে পেরেছি।’

পুনরুজ্জীবিত বেলকে দেখে ওদিকে জিদানের আফসোস হচ্ছে কি না, কে জানে!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন