রিয়ালের একমাত্র গোল ভরসা এখন বেনজেমা।
রিয়ালের একমাত্র গোল ভরসা এখন বেনজেমা। ছবি: রয়টার্স

বিশ্ব ফুটবলে তারকার অভাব নেই। কিন্তু একটা ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জোগান পাচ্ছে না ক্লাবগুলো। সত্যিকারের গোলস্কোরারের অভাবে ভুগছে বিশ্ব ফুটবল। মাঠের অন্য প্রান্তে যা–ই করুন না কেন, বক্সের মধ্যে ঢুকলে গোল এনে দেবেন, এমন স্ট্রাইকারের অভাব আছে ইউরোপে। লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কখনোই প্রথাগত স্ট্রাইকার ছিলেন না। তবু তাঁরা দুজন এক যুগের বেশি সময় ধরে যেভাবে গোল করে যাচ্ছেন, তাঁদের বাইরে ‘গোল করবেনই’ এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো স্ট্রাইকার আছেন খুব কমই।

রবার্ট লেভানডফস্কি, আর্লিং হরলান্ড, রোমেলু লুকাকু, হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে আর মো সালাহ। ব্যস, ইউরোপের এত এত পরাশক্তি ঘেঁটে গোল করার জন্য শিকারি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই স্ট্রাইকারদের ঘিরে তাই দলবদলের বাজার ব্যস্ত হয়ে আছে। এর মধ্যে লেভানডফস্কির আর বায়ার্ন মিউনিখ ছাড়ার সম্ভাবনা নেই। বাদবাকিদের সঙ্গে প্রতিনিয়তই বড় ক্লাবগুলোর নাম জড়ায়। কখনো শোনা যায়, একে চাইছে রিয়াল মাদ্রিদ, ওকে চাইছে বার্সেলোনা। আর কখনো নিশ্চিত খবর চলে আসে, অমুককে এবার নিয়েই ফেলছে ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা ইউনাইটেড।

এর মধ্যে হ্যারি কেইনকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের খবর বেশ পুরোনো। লুকা ইয়োভিচকে কিনে স্ট্রাইকারের অভাব পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়া রিয়াল আবারও গোল করার ভরসা খুঁজছে আগামী দলবদলে। সে সুবাদেই হরলান্ড-এমবাপ্পের পাশাপাশি টটেনহামের কেইনের নাম শোনা গেছে আবার। কিন্তু কেইনকে রিয়ালের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন সাবেক রিয়াল তারকা রাফায়েল ফন ডার ভার্ট।

বিজ্ঞাপন
default-image

টটেনহাম আর রিয়ালের মধ্যে দলবদলের সম্পর্ক নতুন নয়। টটেনহাম থেকেই মাদ্রিদে গিয়ে সর্বকালের সেরা মিডফিল্ডারদের সারিতে উঠে গেছেন লুকা মদরিচ। লন্ডনের ক্লাব থেকেই বিশ্ব রেকর্ড গড়ে গ্যারেথ বেলকে নিয়ে গিয়েছিল লস ব্লাঙ্কোরা। চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে অবদানও রেখেছেন বেল। এ দুজনের আগে রিয়াল ও টটেনহামের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন ফন ডার ভার্ট। রিয়ালে দুই মৌসুম কাটানোর পর ২০১০ সালে টটেনহামে গিয়েছিলেন এই ডাচ প্লেমেকার।

এ দুই দল সম্পর্কে তাই ভালোই জানা আছে ফন ডার ভার্টের। সে অভিজ্ঞতা থেকেই রিয়াল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন কেইনকে, ‘লেভানডফস্কির পর সে-ই (কেইন) এখন সেরা স্ট্রাইকার। আর টটেনহামে সে-ই তো সর্বেসর্বা। শুনে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু (কেইনের উদ্দেশে আমাকে) বলতেই হবে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা অন্য যেখানেই যাও না কেন, ইংল্যান্ডে থাকো। সাধারণত ইংলিশ কোনো খেলোয়াড় মাদ্রিদে গেলে সেটা সাফল্য বয়ে আনে না।’

ফন ডার ভার্টের কথা আংশিক সত্যি। সর্বশেষ যে তিন ইংলিশ তারকা রিয়ালে গেছেন, তাঁদের কারও অর্জনই বলার মতো নয়। ২০০৩ সালে ডেভিড বেকহামকে কিনে আর্থিকভাবে দাও মারলেও ইংলিশ মহাতারকা সাফল্য এনে দিতে পারেননি ক্লাবকে। চার বছরে মাত্র একটি লা লিগা জিতেছেন বেকহাম। ২০০৪ সালে যোগ দেওয়া মাইকেল ওয়েন তো কিছুই জেতেননি। আর সে বছরই রিয়ালে যোগ দিয়েছিলেন জোনাথন উডগেট—রিয়ালের ইতিহাসেরই সবচেয়ে বাজে দলবদল বলে ভাবা হয় সেটিকে।

default-image

এর আগের দুই ইংলিশ বরং সাফল্যের দেখা পেয়েছেন। চার বছরে রিয়াল মাদ্রিদে দুটি লা লিগা ও দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন স্টিভ ম্যাকমানামান। আর প্রথম ইংলিশ হিসেবে রিয়ালে যাওয়া লরি কানিংহাম একটি লিগ ও দুটি কোপা দেল রে জিতেছিলেন।
অবশ্য যাকে নিয়ে এত আলোচনা, সেই কেইন টটেনহাম ছাড়বেন কি না, সেটাই প্রশ্ন। স্পার্সেরই একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই তারকা ক্লাব অন্তঃপ্রাণ। এ কারণেই ২৭ বছর বয়সে এসেও কোনো শিরোপার স্বাদ না পেলেও ক্লাব ছাড়তে চান, এমন ইঙ্গিত কখনো দেননি। বরং সাবেক ফুটবলাররাই কদিন পরপর কেইনকে ক্যারিয়ারের অর্জনের খাতায় কিছু যোগ করতে টটেনহাম ছাড়ার তাগাদা দেন। কদিন আগেও ক্লাব ছাড়বেন কি না, এমন প্রশ্নে কেইন বলেছেন, ‘আমি এসব আলোচনা থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করি। মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত মাঠে নিজের কাজেই মনোযোগ দিচ্ছি। এরপর দেখব, কোথায় থাকব বা যাব।’

যদি ক্লাব ছাড়তেই রাজি হন, সে ক্ষেত্রে কি রিয়ালে যাবেন? উত্তরটা ৫০ শতাংশ নির্ভর করে রিয়াল তাঁকে আসলেই চায় কি না, সেটির ওপর। কিন্তু বাকি যে ৫০ শতাংশ নির্ভর করে কেইনের রিয়ালে যেতে চাওয়ার ওপর, সেটির কী হবে? কে জানে, হয়তো ইংল্যান্ডেই থাকতে চাইবেন কেইন। হাজার হলেও রিয়ালের সাবেক খেলোয়াড়ই যখন সতর্ক করে দিচ্ছেন, তখন সাবধান হওয়াই ভালো।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন