default-image

মার্টিন ওডেগার্ডকে নিয়ে শোরগোল আজকের না। সেই ২০১৫ সালে যখন তাঁর বয়স মাত্র ১৫, তখন থেকে তাঁর প্রতিভা প্রায় সবারই জানা। সাবেক বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলাও ছিলেন এই তরুণ তারকার গুণমুগ্ধ একজন।

বার্সার এই সাবেক কোচ যখন বায়ার্ন মিউনিখের দায়িত্বে ছিলেন তখন ওডেগার্ডকে তাঁর এতটাই ভালো লেগেছিল, নিজের অধীনে এনে তাঁকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় বানাতে চেয়েছিলেন।

সে আশার গুড়ে বালি দিয়েছিল বার্সার সবচেয়ে বড় ‘শত্রু’ রিয়াল মাদ্রিদ। এত দিন পর এই তথ্য জানিয়েছেন নরওয়ের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার জ্যাঁ-আগে ফিওরটফট।

বিজ্ঞাপন

বুটজোড়া তুলে রাখার পর ফিওরটফট কোচ ছিলেন কিছুদিন। এখন বিভিন্ন মাধ্যমে কলামিস্ট ও ফুটবল-পণ্ডিত হিসেবে কাজ করেন। ২০১৫ সালের দিকে ওডেগার্ডের যখন উত্থান, তখন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতেন তিনি।

ফলে ওডেগার্ডের ফুটবল-প্রতিভা নজর এড়ায়নি তাঁর। সে সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে শুরু করে বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, আর্সেনাল—অনেক ক্লাবই ওডেগার্ডকে পাওয়ার চেষ্টা করেছিল।

ওডেগার্ড নিজেও বিভিন্ন ক্লাব ঘুরে ভালোভাবে জেনে এসেছিলেন, অনুশীলন করে এসেছিলেন। সে সময় নরওয়ে যুবদলের হয়ে কাতারে ক্যাম্প করতে গিয়েছিলেন ওডেগার্ড। একই সময় ছুটি কাটাতে বায়ার্নের সঙ্গে কাতারে গিয়েছিলেন গার্দিওলাও।

default-image

সেখানে ওডেগার্ডের খেলা দেখে চোখ কপালে উঠে যায় সাবেক এই বার্সা কোচের। সেখানে স্কাউট হিসেবে কাজ করা ফিওরটফটের কাছে বায়না ধরেন বায়ার্নে ওডেগার্ডকে নিয়ে আসার জন্য, ‘এই ছেলেকে তোমার মিউনিখে আনতে হবে। আনতেই হবে! আমি এই ছেলেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় বানাব!’

গার্দিওলার উচ্ছ্বাসের কথা ফিওরটফট নিজেই জানিয়েছেন, এত দিন পর। ইতালির সাংবাদিক ফাব্রিজিও রোমানোর পডকাস্ট 'হেয়ার উই গো' তে সেদিন বিশেষ অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ফিওরটফট, সেখানেই এই কাহিনির উল্লেখ করেন তিনি।

পরে একটা বিশেষ কারণে লিভারপুল, আর্সেনাল, বায়ার্নের মতো ক্লাবে না গিয়ে রিয়ালে নাম লেখান ওডেগার্ড।

বিজ্ঞাপন

কী সেই কারণ? সেটাও জানিয়েছেন নরওয়ের সাবেক এই স্ট্রাইকার, ‘রিয়াল মাদ্রিদের তখন দ্বিতীয় বয়সভিত্তিক একটা দল ছিল। অন্য তিন ক্লাবের তেমনটা ছিল না। আর সেই দলটার কোচ ছিল জিনেদিন জিদানের মতো একজন। বায়ার্নে গেলে সে হয়তো প্রথমেই গার্দিওলার অধীনে কাজ করার সুযোগ পেত না। কিন্তু রিয়ালে গেলে জিদানের অধীনে খেলতে পারত। সব ভেবেই ওডেগার্ড রিয়ালে নাম লেখায়। আর আমরা তো জানিই, জিদান কিন্তু খেলোয়াড় বা কোচ হিসেবে তেমন খারাপ নয়!’

default-image

পরে ওডেগার্ডকে না পেয়ে গার্দিওলার বায়ার্ন যে তেমন সন্তুষ্ট ছিল না, সেটা জানিয়েছেন ফিওরটফট, ‘তখন বায়ার্নে দলবদলের বিষয়টা দেখতেন মাইকেল রেশকে। ওডেগার্ড যখন রিয়ালে গেল, তারপর আমি ওর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। সে আমাকে বলেছিল, “আমি যদি জানতাম একটা দ্বিতীয় দল থাকার গুরুত্ব এত বেশি, তাহলে আমি দ্বিতীয় দল বানিয়ে রাখতাম!”’

মন্তব্য পড়ুন 0