চ্যাম্পিয়নস লিগে দেখা যাবে না রিয়ালকে?
চ্যাম্পিয়নস লিগে দেখা যাবে না রিয়ালকে?ছবি: এএফপি

ঝড় ওঠার আগেই থেমে গেছে। ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নামের বিদ্রোহী লিগ জন্ম নেওয়ার দুই দিনের মাথায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। ইংলিশ ছয় ক্লাব নাম ঘোষণা দিয়ে নাম কাটিয়ে নিয়েছে। আতলেতিকো মাদ্রিদও সে পথে হেঁটেছে। মিলানের দুই ক্লাবও মেনে নিয়েছে আপাতত এই লিগ চালু করা সম্ভব নয়।

কাগজে-কলমে এখনো এই লিগ থেকে সরে আসার কথা জানায়নি শুধু রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। ওদিকে জুভেন্টাস সুপার লিগের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিলেও সেখানে কোথাও পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি, তারা সুপার লিগ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

জুভেন্টাসে একদিকে এখনো সুপার লিগ নিয়ে স্বপ্ন দেখছে, ওদিকে রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ প্রায় প্রতিদিন সুপার লিগ নিয়ে বাগাড়ম্বর করে বেড়াচ্ছেন। উয়েফার বিরুদ্ধে ইঙ্গিতে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন। দুই ক্লাবের এমন আচরণ খেপিয়ে তুলেছে উয়েফাকে। তাই শাস্তি হিসেবে এ দুই ক্লাবকে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা করছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন
default-image

ইউরোপিয়ান সুপার লিগ সৃষ্টির পরই চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ঘরোয়া লিগ থেকে সুপার লিগের ১২ ক্লাবকে ছেঁটে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দোর সেফেরিন। আর সেমিফাইনালে ওঠা সুপার লিগের তিন ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটিকে এবারের টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবেন, এমনটা জানিয়েছিলেন সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য জেসপার মোলার। পরে ইংলিশ ক্লাবগুলো সরে আসায় ও সেফেরিন তাদের ধন্যবাদ দেওয়ায় মনে হয়েছিল, অতটা বাড়াবাড়ি সম্ভবত হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সেফেরিনও তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। বলেছেন, ইচ্ছা থাকলেও এবার রিয়ালকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা খুব কম, ‘এই মৌসুম এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমরা যদি সেমিফাইনাল না খেলাই, তাহলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিপূরণ চাইবে। ফলে এই ম্যাচ (চেলসি-রিয়াল মাদ্রিদ) না হওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।’

সেফেরিনের এ কথা যে শুধুই ফাঁকা বুলি নয়, সেটা উয়েফা নিশ্চিত করতে চাইছে। ইতালিয়ান পত্রিকা লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত জানিয়েছে, রিয়াল ও জুভেন্টাসকে বড় শাস্তি দিতে চাইছে উয়েফার নির্বাহী কমিটির এক অংশ। এ মৌসুমে রিয়ালকে নিষিদ্ধ করা আইনত সম্ভব নয়। তবে আগামী মৌসুমে দুই দলকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে ভেবে দেখছে তারা। আরেক অংশ অবশ্য কদিন আগেই একটা বড় ঝড় বয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করার বিপক্ষে।

default-image

আগামী শুক্রবার নির্বাহী কমিটির এক সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে যেসব দল প্রকাশ্যে সুপার লিগে নাম লেখানোয় দুঃখ প্রকাশ করেছে, তাদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখছে উয়েফা। কিন্তু জুভেন্টাস ও রিয়ালের গোঁয়ার্তুমির একটা শাস্তি দিতে চাইছে উয়েফা।

তাহলে বার্সেলোনাকে কেন ছাড় দেওয়া হবে? কারণ হিসেবে শোনা যাচ্ছে, বার্সেলোনা এখনো সরাসরি লিগ থেকে নাম না সরালেও তাদের সভাপতি এরই মধ্যে সেফেরিনের সঙ্গে কথা বলে মিটমাট করে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বার্সার সভাপতি পদে সদ্য নির্বাচিত বলে হুয়ান লাপোর্তার ব্যাপারেও সুর নরম করেছেন সেফেরিন, ‘ওরা (ক্লাবগুলো) সবাই হতাশ করেছে, কিন্তু বার্সেলোনা সবচেয়ে কম করেছে। লাপোর্তা সভাপতি হয়েছে দুই মাস হয়নি, তাই তাঁর পক্ষে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। ক্লাবের সব ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সোশিওরা (বার্সেলোনার সদস্য) নেবেন, এই নিয়ম রেখে দিয়ে দারুণ বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। আমি তাঁর সঙ্গে দু–তিনবার কথা বলেছি, কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির কারণে তিনি প্রচণ্ড চাপে ছিলেন। আর ক্লাবের এ অবস্থার জন্য তিনি তো দায়ী নন। তিনি যে প্রচণ্ড চাপে আছেন, এটা বোঝা যায়।’

দেখা যাক, আগামীকাল সবাইকে চমকে দেওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে কি না উয়েফা।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন