বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৫২ বছর বয়সী টেন হাগ কোচিংয়ে এসেছেন সেই ২০১২ সালেই, তবে ইউরোপে নাম কুড়াতে শুরু করেছেন ২০১৭ সালে আয়াক্সে যাওয়ার পর থেকে। এ পর্যন্ত পাঁচ মৌসুমে সেখানে দুবার ডাচ লিগসহ মোট পাঁচটি শিরোপা জিতেছেন, যে সময়ে ইউনাইটেড কোনো শিরোপাই জেতেনি! তবে শিরোপা জেতার কারণেই যে ইউনাইটেড টেন হাগকে আনছে, তা নয়—শুধু শিরোপাই বিবেচ্য হলে তো জোসে মরিনিওই ছিলেন। টেন হাগকে ইউনাইটেডের মনে ধরেছে চ্যাম্পিয়নস লিগে আয়াক্সের অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণেই।

২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে শুরু, এই মৌসুমে ইউনাইটেডে ফিরে যাওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তখন জুভেন্টাসে। সে মৌসুমে শেষ ষোলোতে রোনালদোরই সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে রীতিমতো অসহায় বানিয়ে রেখে হারিয়েছে আয়াক্স, রিয়ালের মাঠে জিতেছিল ৪-১ গোলে। পরের রাউন্ডে আয়াক্সের হাতে বিদায় রোনালদোর জুভেন্টাসের! টেন হাগের আয়াক্সকে দিয়েই সে মৌসুমে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, ম্যাটাইস ডি লিখটদের তারকা বনে যাওয়া। সেবার সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে মরিসিও পচেত্তিনোর টটেনহামের কাছে হেরে বাদ পড়েছে আয়াক্স।

default-image

কিন্তু সেবার মৌসুম শেষে ডি লিখট, ডি ইয়ংরা আয়াক্স ছেড়ে আরও বড় ক্লাবে যাওয়ায় মাঝে দুই মৌসুম ইউরোপে একটু ম্রিয়মাণ ছিল টেন হাগের আয়াক্স। এই মৌসুমে আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত আয়াক্স। অপ্রত্যাশিতভাবে বেনফিকার কাছে হেরে শেষ ষোলোতে বাদ পড়লেও গ্রুপ পর্বে ছয় ম্যাচের ছয়টিই জিতেছিল টেন হাগের দল। রোববার ডাচ কাপে পিএসভি আইন্দহফেনের কাছে হেরে গেছে হাগের আয়াক্স। তবে লিগে পাঁচ ম্যাচ হাতে রেখে একই প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৪ পয়েন্ট এগিয়ে আছে আয়াক্স।

শুধু জয়ই নয়, এক-দুই স্পর্শে ছোট পাসের দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক ফুটবলে যেভাবে মন রাঙিয়েছে আয়াক্স, সেটিই টেন হাগকে ইউরোপের অনেক ক্লাবের কাছে প্রার্থিত করে রেখেছিল। আর তা এমনই যে পিএসজিতে মেসি, নেইমার, এমবাপ্পে, রামোসদের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোই আগামী মৌসুমে ইউনাইটেডের কোচ হবেন বলে অনেক দিন ধরে গুঞ্জন ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছাপিয়ে টেন হাগেই ভবিষ্যৎ খুঁজে নিয়েছে ইউনাইটেড।

অবশ্য কোচিংয়ের কৌশলে দক্ষতার দিক থেকেও তো ইউনাইটেডের এমন কাউকে দরকার ছিল। একদিকে লিভারপুলে ইয়ুর্গেন ক্লপ আর ম্যানচেস্টার সিটিতে পেপ গার্দিওলা নিজেদের ক্লাবকে অন্য সব ক্লাবের চেয়ে অনেক ওপরে নিয়ে রেখেছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে ইউনাইটেডের ঢিলেমির কারণে টটেনহামে চলে যাওয়া আন্তোনিও কন্তেও নিজেকে চেনাতে শুরু করেছেন।

অথচ ইউনাইটেড? নিজের সেরা দিন পেছনে ফেলে আসা মরিনিওকে ছাঁটাইয়ের পর কোচিংয়ের চেয়ে ক্লাবের কিংবদন্তি পরিচয়ে বেশি সমাদর পাওয়া উলে গুনার সুলশার আর মূলত কোচের চেয়ে ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালকের দায়িত্বে বেশি দক্ষ রালফ রাংনিকের অধীনে উল্টো পেছনের দিকেই গেছে ইউনাইটেড।

‘গত চার বছরে আয়াক্সে এরিক নিজেকে ইউরোপের অন্যতম রোমাঞ্চকর ফুটবল উপহার দেওয়া, অন্যতম সফল কোচ হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তাঁর দলের আকর্ষণীয়, আক্রমণাত্মক ফুটবলের পাশাপাশি তরুণদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার কারণে তিনি বিখ্যাত,’ টেন হাগকে নেওয়ার বিবৃতিতে বলেছেন ইউনাইটেডের ফুটবল পরিচালক জন মার্টগ।

আর টেন হাগ খুশি ইউনাইটেডে কোচ হতে পেরে, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হতে পারা বড় সম্মানের। সামনের চ্যালেঞ্জের জন্য অনেক রোমাঞ্চিত। অসাধারণ এই ক্লাবটার ইতিহাস আমি জানি, সমর্থকদের আবেগও বুঝি, ক্লাবটাকে প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দেওয়ার মতো একটা দল গড়তে আমি সবটুকু দিয়ে লড়তে প্রস্তুত।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন