default-image

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদকে রেফারি সব সময়ই সুবিধা দেয়। রেফারিরা রিয়ালকে বিভিন্ন সময়ে সুবিধা মনের অজান্তেই দিয়ে থাকে বলেও অভিযোগ করেছিলেন পিকে। বার্সেলোনা ডিফেন্ডারের সেই অভিযোগের পর সংবাদমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় উঠেছিল। ঝড় উঠেছিল স্পেনের ফুটবল মহলেও। পিকের কথার জের ধরে আরও অনেকেই তখন বলেছিলেন, রিয়াল আসলেই রেফারিদের দিক থেকে সুবিধা পায়!

বিশেষ করে তখন বলা হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের বেশি পেনাল্টি পাওয়ার কথা। প্রতিপক্ষের ডি–বক্সে রিয়ালের খেলোয়াড়েরা হালকা ছোঁয়া লাগলেই পড়ে যান এবং রেফারিও পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে দেন বলে অনেকেই বলেছেন। পিকের তুলে দেওয়া সমালোচনার সেই ঝড় স্তিমিতও হয়ে গেছে অনেক দিন হলো। এখন রিয়াল মাদ্রিদই যাচ্ছে একটি দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে। সবাই যে দলের বিরুদ্ধে রেফারির সুবিধা পাওয়া নিয়ে আঙুল তুলেছে, সেই রিয়ালই কিনা লা লিগায় সর্বশেষ ২১ ম্যাচে কোনো পেনাল্টি পায়নি!

রিয়ালের ২১ ম্যাচে পেনাল্টি না পাওয়ার বিষয়ে আলোচনার ঝড় আবার বেগবান হয়েছে কাল এলচের বিপক্ষে তাদের ম্যাচের পর। এলচের বিপক্ষে রিয়ালের ২–১ গোলে জেতা সেই ম্যাচে একটি পেনাল্টির আবেদন করেছিল মাদ্রিদের দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে ডি–বক্সের মধ্যে পড়ে এলচের খেলোয়াড় ইভান মারকোনে ফেলে দিয়েছিলেন সের্হিও রামোসকে। চোট কাটিয়ে এ ম্যাচ দিয়েই আবার মাঠে ফেরা রিয়াল অধিনায়ক সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির আবেদন করেছেন। কিন্তু রেফারি হোর্হে ফিগুয়েরোয়া তাঁর সেই আবেদনে সাড়া দেননি।

বিজ্ঞাপন
default-image

রেফারি ফাউলের বাঁশি না বাজানোয় একটু উত্তেজিতই হয়ে পড়েছিলেন রামোস। রেফারিকে তিনি ভিএআরের সাহায্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও অনুরোধ জানান। রামোসকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা ভিএআরে দেখুন। আমি তো তাকে ধরিনি। ভিএআরে এটা দেখুন না। এটা পরিষ্কার পেনাল্টি। আমি বলছি, দয়া করে এটা ভিএআরে দেখুন। আমি আমার বাড়ি বাজি ধরে বলতে পারি এটা পেনাল্টি!’ রেফারি যখন তাঁর এই অনুরোধে সাড়া দেননি, রামোস রেগে গিয়ে একটি গালিও দিয়েছেন। এরপর বলেছেন, ‘এটা কীভাবে পেনাল্টি নয়?’

ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকেরা কথা বলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের পরিচালক এমিলিও বুত্রাগুয়েনোর সঙ্গে। লা লিগায় টানা ২১ ম্যাচে পেনাল্টি না পাওয়া নিয়ে তাঁকে একটু চিন্তিতই মনে হচ্ছে, ‘আমি এটা বিশেষজ্ঞদের হাতেই ছেড়ে দিতে চাই। তাঁরা বিষয়টি বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে দেখুন। এর বেশি আর কিছু বলতে চাই না আমরা।’ বিষয়টি যে রিয়ালকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে, সেটা বোঝাতে বুত্রাগুয়েনো বলেছেন, এটা সত্যই একটা ভাবনার বিষয়। তবে বিষয়টি নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতেও চান না তিনি, মাঠের এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার আসলে রেফারিদের।

বিষয়টি নিয়ে ম্যাচ শেষে প্রশ্ন করা হয়েছিল জিনেদিন জিদানকেও। রিয়াল মাদ্রিদ কোচ অবশ্য বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ারই চেষ্টা করেছেন, ‘আমি ওই মুহূর্তটা দেখেছি। আমাদের কাছে মনে হয়েছিল পেনাল্টি হতে পারে। কিন্তু রেফারি সেটা মনে করেননি। আমরা আমাদের কাজ করার চেষ্টা করি। আর রেফারি তাঁর কাজ করেন। আমি এটাই বলতে পারি।’

রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগায় সর্বশেষ পেনাল্টি পেয়েছিল গত বছরের ২৪ অক্টোবর, বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচে। রিয়ালকে সেই পেনাল্টিটিও এনে দিয়েছিলেন রামোস।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন