জিনেদিন জিদান ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—একসঙ্গে রিয়ালের অনেক সাফল্যের রূপকার।
জিনেদিন জিদান ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—একসঙ্গে রিয়ালের অনেক সাফল্যের রূপকার। ফাইল ছবি

ভিক্তর ফন্তের পাঠশালা থেকেই বোধ হয় বেরিয়েছেন এনরিক রিকেলমে। ফন্তের নামটা পরিচিত ঠেকার কথা। বার্সেলোনা নির্বাচনের বহু আগে থেকেই তো তাঁর নামটি বহুবার উচ্চারিত। তবু মনে না থাকলে আরেকবার রোমন্থন করা যাক। কাতানুলিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে উচ্চকণ্ঠ এই রাজনীতিবিদ বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্সেলোনার সভাপতি পদে নিজেকে দেখার স্বপ্ন দেখেছেন। গত বছর জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ সরে যাওয়ার পর নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেনও। কিন্তু হোয়ান লাপোর্তার বিপক্ষে বিপুল ব্যবধানে হেরে যান ফন্ত।

নির্বাচন এ বছরের মার্চে হলেও গত সেপ্টেম্বরেই বড় এক ভুল করে বসেছিলেন ফন্ত। বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার জন্য কোচ হিসেবে জাভিকে পছন্দ ছিল ফন্তের। ক্লাব কিংবদন্তিকে কোচ হিসেবে আনবেন—এ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন এই প্রার্থী। জাভিকে আনতে কতটা বদ্ধপরিকর, সেটা বোঝাতে একটু বাড়াবাড়ি করে বসেছিলেন। বলেছিলেন, সভাপতি হলে সদ্য নিয়োগ পাওয়া রোনাল্ড কোমানকে সঙ্গে সঙ্গে ছাঁটাই করে জাভিকে কোচ করবেন। কোমান সাফল্য এনে দিলেও সিদ্ধান্ত বদলাবেন না। জাভিকে সম্মান দিতে গিয়ে আরেক ক্লাব কিংবদন্তি কোমানকে এভাবে ছোট করা মেনে নিতে পারেননি অনেকেই।

এনরিক রিকেলমে তবু শিক্ষা নেননি। বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের সভাপতি হতে চাইছেন। রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি নির্বাচন আসন্ন। সে নির্বাচনে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান রিকেলমে। তবে নির্বাচনের আগেই বড় এক ভুল করেছেন। আগেই বলে বসেছেন, যদি নির্বাচিত হন, তাহলে জিদানকে কোচ রাখবেন না।

বিজ্ঞাপন
default-image

সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করা এই ব্যবসায়ী বেশ নাম কামিয়েছেন লাতিন বিশ্বে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণ নিয়ে কাজ করে ৩২ বছর বয়সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। স্বয়ং পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও বেশ কয়বার দেখা হয়েছে তাঁর। রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থক রিকেলমে ক্লাবের সদস্য হয়েছেন ২১ বছর হয়ে গেছে। তাই এবার ক্লাবের সভাপতি নির্বাচনের পদে দাঁড়াতে চাইছেন। নির্বাচনে জয়ের পথে প্রার্থীরা যা করে, সেটাই করছেন, নানা বিষয় নিয়ে ক্লাব সমর্থকদের আশা বাড়াচ্ছেন।

রিয়াল মাদ্রিদ খুব করে একজন গোল ভরসা খুঁজছে। আর্লিং হরলান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে—এমন সব নাম উঠে আসছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে হরলান্ডের মুখপাত্র মিনো রাইওলা ও বাবা আলফি হরলান্ড বার্সেলোনা ও মাদ্রিদ ঘুরে গেছেন। বাজারে খবর রটেছে। যে ক্লাবই হরলান্ডকে পেতে চাক না কেন, দলবদলের অঙ্কের সঙ্গে বোনাস হিসেবে এ দুজনকে আরও দুই কোটি ইউরো দিতে হবে।

এদিক থেকে কোপের এল পাত্রিদাজো এবং রেডিও মার্কার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল–সমর্থকদের হরলান্ডকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী করে তুলেছেন রিকেলমে, ‘বুধবার আমার সম্ভাব্য ক্রীড়া মহাব্যবস্থাপক মিনো রাইওলার সঙ্গে কথা বলেছে। আমরা হরলান্ডের ব্যাপারে জানতে চেয়েছি এবং রাইওলাও জানিয়েছে। ডর্টমুন্ড থেকে খুবই আকর্ষণীয় একটা দাম পাওয়ার আশা করছে। ওরা হরলান্ডকে আরও এক বছর ধরে রাখতে চায় এবং ওরা খুবই ভালো কিছু পাবে (যদি বিক্রি করে)। রাইওলা আমাদের কাছে ওর জন্য এবং হরলান্ডের বাবা—দুজনের জন্য দুই কোটি ইউরো চায়নি।’

default-image

হরলান্ডের কথা বলে যদি আশা বাড়িয়ে থাকেন, তবে রিকেলমের পরের দাবি সমর্থকদের তাঁর প্রেমে ফেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ক্লাবের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে তিন বছর আগে ছেড়ে দিয়েছিলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। এরপর ৩০ কোটি ইউরো খরচ করলেও সে ক্ষত পূরণ করতে পারেননি। এদিকে জুভেন্টাসে তিন বছর কাটিয়ে দেওয়ার পরও চ্যাম্পিয়নস এনে দিতে পারেননি।তাই জুভেন্টাস ছেড়ে সমর্থন দিতে পারে—এমন স্কোয়াড খুঁজছেন রোনালদো।

স্বাভাবিকভাবেই আবার রোনালদোর রিয়ালে ফেরার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রিকেলমেও আশা জাগিয়েছেন। বলেছেন আগামী মৌসুমে ৩৬ বছর বয়স্ক রোনালদোকে ফেরাতে চান তিনি, ‘আমি প্রস্তাব দিচ্ছি ক্রিস্টিয়ানোকে ফিরিয়ে আনা হোক। কারণ, ফুটবলকে অনেক দিয়েছেন এবং রিয়াল মাদ্রিদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তরুণ বা বয়স্ক খেলোয়াড় বলে কিছু নেই। হয় ভালো নয়তো খারাপ খেলোয়াড় আছে।’

রোনালদোকে ফেরানোর আশা দেখালেও আরেক কিংবদন্তিকে অপমান করে বসেছেন রিকেলমে। ক্লাবকে টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ এনে দিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন জিদান। এরপর ক্লাবের ভরাডুবি দেখে আবার ফিরেছেন। সেই ভরাডুবির সময়কার স্কোয়াড নিয়েই ক্লাবকে লা লিগার শিরোপা জিতিয়েছেন। এত কিছুর পরও জিদানকে পছন্দ না রিকেলমের। দায়িত্ব পেলে তাই ক্লাব কিংবদন্তিকে সইয়ে দিতে চান এই প্রার্থী, ‘জিদান আমার কোচ হবেন না। আমার ক্রীড়া পরিচালক অন্য পরিকল্পনা ও অন্য ধরনের কারও কথা চিন্তা করছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্লপকে পছন্দ করি। রাউলও ভালো করছেন। তাঁকে সঠিক মূল্য দেওয়া হবে (যদি মূল দলের কোচ বানানো হয়)।’

আজই ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামবে জিদানের রিয়াল মাদ্রিদ। এমন এক ম্যাচের আগে নিজের কোচকে ছাঁটাই করার কথা বলে প্রতিপক্ষ কোচকে পাওয়ার আশার কথা জানানোর মতো বড় ভুল পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় হয়তো চেষ্টা করেও পারবেন না রিকেলমে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন