বার্সায় এমন মুহূর্ত খুব কম পেয়েছেন পিয়ানিচ।
বার্সায় এমন মুহূর্ত খুব কম পেয়েছেন পিয়ানিচ।ছবি: টুইটার

এ প্রজন্মের অনেক ফুটবলারই তাঁকে ঈর্ষা করবেন। প্রজন্মের সেরা দুই খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এমন একজনের সঙ্গেই একই দলে খেলতে পারার গল্প একজন ফুটবলার আজীবন করতে পারবেন। সেখানে দুজনের সঙ্গেই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সুযোগ! এ মৌসুমে সেই সৌভাগ্যবানদের তালিকায় চলে এসেছেন মিরালেম পিয়ানিচ।

জুভেন্টাসে রোনালদোর সঙ্গী ছিলেন। আর বার্সেলোনায় এসে পেয়েছেন মেসিকে। নিজের সৌভাগ্যে প্রথম কয়েক মাস ভালোই ছিলেন পিয়ানিচ। নতুন দলের যোগ দেওয়ার পর প্রথম কয়েকটি সাক্ষাৎকারে দুই মহাতারকার সঙ্গে খেলার অনুভূতি, সাদৃশ্য আর বৈসাদৃশ্য নিয়েই কথা বলেছেন বেশি। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে চাপানোর উত্তেজনাও ছিল বসনিয়ান মিডফিল্ডারের মধ্যে। কিন্তু ধীরে ধীরে হতাশা পেয়ে বসেছে তাঁকে।

বিজ্ঞাপন
default-image

বার্সেলোনার মতো ক্লাবে যোগ দিয়েছেন বটে, কিন্তু খেলছেন—এমনটা বলার যে সুযোগই মিলছে না। তাঁকে যে বেঞ্চেই বসিয়ে রাখছেন কোচ রোনাল্ড কোমান।
এর আগেও কেন নিয়মিত খেলতে পারছেন না, এ নিয়ে হা–পিত্যেশ করেছিলেন পিয়ানিচ। আকারে ইঙ্গিতে কোচের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন, তাঁকে অন্তত বলা হোক কেন নামানো হচ্ছে না মাঠে। কিন্তু কোচের কানে সম্ভবত যাচ্ছে না সে কথা। তাই নতুন করে আবার নিজের দুর্ভোগের কথা জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই মিডফিল্ডার।

চ্যাম্পিয়নস লিগে আগামীকাল মহাগুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ বার্সেলোনার। শেষ ষোলোর প্রথম লেগে পিএসজির বিপক্ষে সেই ম্যাচের আগে আরেকবার না খেলতে পারার দুঃখের কথা জানিয়েছেন পিয়ানিচ।

পিয়ানিচের বার্সেলোনায় যাওয়ার খবরটাই চমকে দিয়েছিল সবাইকে। জুভেন্টাসের হয়ে দুর্দান্ত খেলছিলেন, দলটির মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন। চার বছর ইতালিয়ান ক্লাবের হয়ে মাঝমাঠে রাজত্ব করেছেন। তবু তাঁকে বার্সেলোনা কেন নিয়েছে? এ প্রশ্নের কোনো স্বাভাবিক উত্তর ছিল না। ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে পেতে যে ‘ভবিষ্যৎ জাভি’ তকমা নিয়ে দলে নেওয়া আর্থুর মেলোকে ছেড়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। কোনো খেলোয়াড়ি কারণ বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে নয়, বরং ক্লাবের আর্থিক অবস্থাকে কাগজে–কলমে ভালো দেখাতেই এই দলবদল হয়েছিল। সেটি পরিষ্কার হয়ে গেছে কোমান দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই।

default-image

কোমানের অধীনে মাঠে দেখাই মেলে না পিয়ানিচের। লিগে মাত্র পাঁচ ম্যাচে শুরু থেকে মাঠে ছিলেন। আর ১০ ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেছেন। সব মিলিয়ে খেলেছেন মাত্র ৫২৯ মিনিট। নামের পাশে নেই কোনো গোল। কোনো গোলে সহায়তাও করেননি। শুধু লা লিগা নয়, কোনো প্রতিযোগিতাতেই দলের কোনো গোলে পিয়ানিচের কোনো অবদান নেই! অথচ জুভেন্টাসের জার্সিতে চার মৌসুমে ৬৩ গোলে সরাসরি অবদান ছিল এই মিডফিল্ডারের।

মৌসুমের অর্ধেকেরও বেশি কেটে যাওয়ার পরও দলে থিতু হতে পারেননি। বলা ভালো, কোচ তাঁকে থিতু হওয়ার সুযোগই দেননি। তাই ফরাসি চ্যানেল তেলেফুতের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ লুকাননি পিয়ানিচ, ‘আমি যত ক্লাবে ছিলাম এবং যত কোচের অধীনে থেকেছি, সবখানেই খেলেছি। এমন পরিস্থিতিতে আমাকে কখনো পড়তে হয়নি। এটা মেনে নেওয়া সহজ নয়, মানতে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। যতটা আশা করেছিলাম, ততটা খেলতে না পারার সঠিক কারণ আমি নিজেও জানি না।’

জুভেন্টাসে চার বছর কাটানোর আগে রোমা, লিওঁ এবং মেৎজ-এ খেলা পিয়ানিচ সব সময় দলের জন্য সম্পদ বলেই বিবেচিত হয়েছেন। এই প্রথম কোনো দলে ব্রাত্য মনে হচ্ছে তাঁকে। এ পরিস্থিতি পাল্টানোর একটি উপায়ই খুঁজে পাচ্ছেন এই মিডফিল্ডার, ‘আমি পরিশ্রম করছি এবং আর পছন্দ না হলেও যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সেটাকে সম্মান করতেই হবে। আমি এই ক্লাবে নিজের দাগ রেখে যেতে চাই।’

এখন পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে এমন কিছু দেখা যাবে, সে আশা খুব কম সমর্থকই করছেন।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন