বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গার্দিওলার কথাই ধরুন। তাঁর দল নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যান ইউনাইটেডের মাঠে এসে দুই গোল করেছে। প্রিমিয়ার লিগে চার ম্যাচ পর গার্দিওলা ম্যানচেস্টার ডার্বিতে জয়ের স্বাদ পেলেন। কিন্তু জয়ের ব্যবধানটা যে আরও বড় হয়নি, সে জন্য হয়তো প্রতিপক্ষ পেনাল্টি বক্সে রোনালদোর মতো একজন গোলশিকারির অভাবই বারবার টের পেয়েছেন গার্দিওলা।

আর রোনালদো? আহা! ম্যান ইউনাইটেডের পুরো দলেরই আজ জার্সিতে মুখ লুকানোর জোগাড়। রোনালদো নিজেও প্রথমার্ধে দুটি শটে ম্যান সিটি গোলকিপার এদেরসনের আত্মা কাঁপিয়ে দেওয়া ছাড়া—তার একটি আবার অফসাইডে—তেমন কিছুই করতে পারেননি। ম্যাচে খুঁজেই পাওয়া যায়নি রোনালদো এবং তাঁর ম্যান ইউনাইটেড সতীর্থদের!

না, একটু ভুল বলা হলো! শুধু ম্যান ইউনাইটেড গোলকিপার দাভিদ দে হেয়াকেই খুঁজে পাওয়া গেছে ম্যাচে। স্প্যানিশ গোলকিপার বেশ কয়েকবার দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে গোল না বাঁচালে ম্যান ইউনাইটেড আরেকটি ‘লিভারপুল দুঃস্বপ্ন’ই পেত! ওল্ড ট্রাফোর্ডে লিগে এর আগের ম্যাচেই ম্যান ইউনাইটেড চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলের কাছে ৫ গোল খেয়েছিল কিনা! সে ম্যাচটা হেরেছিল ৫-০ গোলে।

নিজেদের মাঠে পরপর দুই ম্যাচে সবচেয়ে বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে দুই রকম লজ্জা পেলেন রোনালদোরা।

default-image

গত ২৪ অক্টোবরের ম্যাচে ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুল ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়েছে ম্যান ইউনাইটেডকে, আর আজ গার্দিওলার সিটি স্রেফ খাটিয়ে মেরেছে রোনালদোদের! পুরো ম্যাচে ম্যান সিটির বলের দখল ছিল ৬৮ শতাংশ, কিন্তু ম্যাচে কোনো একটা মুহূর্তেও মনে হয়নি ম্যান ইউনাইটেড ম্যাচে দাপট দেখাতে পারবে।

বল কেড়ে নিতে জেসুস, বের্নার্দো সিলভা, ডি ব্রুইনাদের অবিশ্বাস্য চাপের মুখে ম্যান ইউনাইটেডের খেলোয়াড়েরা এতটাই শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন যে টানা তিন-চারটি পাসও সেভাবে খেলতে পারেনি ম্যান ইউনাইটেড। বেশির ভাগ সময় নিজেদের রক্ষণ থেকে এলোপাতাড়ি লম্বা পাস পাঠিয়ে কোনো রকমে নিশ্বাস নেওয়ার জায়গা খুঁজেছে বারবার।

এমন অবস্থায় আক্রমণই-বা আর কী করবে ম্যান ইউনাইটেড! ফলটা পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট, পুরো ম্যাচে ম্যান সিটির পোস্টে মাত্র একটা শট রাখতে পেরেছে উলে গুনার সুলশারের দল। ওই যে প্রথমার্ধে রোনালদোর দুই শটের মধ্যে যেটি অফসাইডে ছিল না, সেটি। ২৬ মিনিটে লুক শ-র ক্রসে দারুণ ভলিতে অবশ্য সিটিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন রোনালদো, কিন্তু ও-ই যা! এরপর না রোনালদো, না ম্যান ইউনাইটেডের গোলকিপার বাদে বাকি ৯ খেলোয়াড়—ম্যান সিটির বক্সে দাপট দেখাতে পারেননি কেউই।

default-image

উল্টো দিকে গার্দিওলার সিটি শুধু প্রতিপক্ষের বক্সে শেষ আঁচড়টা ছাড়া বাকি সবই করেছে নিখুঁতভাবে। ৭ মিনিটে ম্যান সিটির এগিয়ে যাওয়া অবশ্য সৌভাগ্যবশত, প্রথাগত রাইটব্যাক হলেও গত কিছুদিন ম্যান সিটির লেফটব্যাকে খেলা জোয়াও কানসেলোর ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন ম্যান ইউনাইটেডের সেন্টারব্যাক এরিক বাইয়ি। গত মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে দারুণ খেলার পুরস্কার হিসেবে প্রিমিয়ার লিগে আজই প্রথম ম্যান ইউনাইটেডের একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন বাইয়ি!

সুযোগ পেয়েছিলেন অবশ্য ম্যান ইউনাইটেড ৩-৫-২ ছকে খেলাতেই! রাফায়েল ভারান চোটে, এমন অবস্থায় তিন সেন্টারব্যাক খেলাতে গেলে বাইয়ি-লিন্দেলফ-ম্যাগুয়ার তিনজনকেই খেলাতে হতো উলে গুনার সুলশারকে। কিন্তু লিগে আগের ম্যাচে টটেনহামের মাঠে এই ছকে খেলেই ৩-০ গোলের দারুণ জয় পাওয়ায় আজ ম্যান সিটির বিপক্ষেও একই ছকেই দল সাজিয়েছেন ম্যান ইউনাইটেড কোচ।

কিন্তু গার্দিওলার কৌশলের সামনে এ ছকে নামা ইউনাইটেড প্রথম মিনিট থেকেই ছন্নছাড়া! ফল? দ্বিতীয়ার্ধে আবার ছক বদলে ৪-২-৩-১ ছকে গেছেন সুলশার। সমস্যাটা হলো তাতেও কোনো লাভ হয়নি। সিটি এ অর্ধে একটু রয়েসয়ে খেলায় গোল হয়নি, তবে বলের দখল পেতে ম্যান ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের নাভিশ্বাস বেরিয়ে যাওয়ার দশা!

ম্যান সিটির যা গোল প্রথমার্ধেই হয়ে গেছে। দ্বিতীয় গোলটি তারা পেয়েছে বিরতির ঠিক আগে, তা-ও ম্যান ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার আর গোলকিপারের অনবধানতার সুযোগে। এবারও উৎসে জোয়াও কানসেলোর ক্রস, কিন্তু ঝুলিয়ে দেওয়া সেই ক্রসে ইউনাইটেডের তিন সেন্টারব্যাক আর গোলকিপারই যেন ‘আচ্ছা, ও তো ঠেকাবেই’ ধরে নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু দাঁড়িয়ে ছিলেন না সিটির মিডফিল্ডার বের্নার্দো সিলভা! ইউনাইটেডের ‘বরফ’ হয়ে পড়া রক্ষণের সুযোগ নিয়ে গোলপোস্টের একেবারে কাছ থেকে দুরূহ কোণ থেকে বল জড়িয়েছেন জালে।

default-image

এ দুই গোলের আগে-পরে যে ম্যান সিটি আর গোল পায়নি, সে-ই বরং বিরক্ত করবে সিটি কোচ গার্দিওলাকে। ২৯ মিনিটে গাব্রিয়েল জেসুসের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ফিরিয়েছেন ম্যান ইউনাইটেড গোলকিপার দে হেয়া, চার মিনিট পর সিটি মিডফিল্ডার ফিল ফোডেনের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে ম্যাচে ইউনাইটেডের দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল প্রায় করেই ফেলেছিলেন লিন্দেলফ। বের্নার্দো সিলভার গোলের আগে আরও দু-তিনটি সেভ করতে হয়েছে দে হেয়াকে।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই অবস্থা। সিটি আক্রমণ করেছে, ইউনাইটেড বলের পেছনে দৌড়েছে। ৮১ মিনিটে সিটিকে তৃতীয় গোল এনে দেওয়ার দারুণ সুযোগ হারিয়েছেন ফোডেন। ডি ব্রুইনার দারুণ পাস ধরে ফোডেন বক্সে ঢুকে শট নিলেও সেটি পোস্টে লেগে বেরিয়ে গেছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে সিটির জেসুসের একটা পেনাল্টির দাবিও নাকচ করে দিয়েছেন রেফারি।

গার্দিওলা হয়তো ভাবছেন, গত আগস্টে রোনালদো ম্যান ইউনাইটেডে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগেও পর্তুগিজ তারকার ম্যান সিটিতে যাওয়ার গুঞ্জনই জোরালো ছিল! গুঞ্জনটা সত্যি হলে, সিটির এই দাপুটে দলে প্রতিপক্ষ বক্সে রোনালদোর মতো একজন গোলশিকারি থাকলে হয়তো আজ ম্যান সিটি ৫-৬ গোলই করে ফেলতে পারত। আর রোনালদো? তিনিও হয়তো ভাবছেন, তাঁর পেছনে সিটির এই দলটা থাকলে আজ অন্তত ২-৩ গোলের সুযোগ পেয়েই যেতেন তিনি!

তবে সে আফসোস এক পাশে রেখে রোনালদো যেখানে হারের গ্লানিতে পুড়ছেন, গার্দিওলার সিটি করছে জয়ের আনন্দ।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন