রোনালদোকে পানির দরে বেচে দেবে জুভেন্টাস?
রোনালদোকে পানির দরে বেচে দেবে জুভেন্টাস? ছবি: রয়টার্স

২৯ মিলিয়ন ইউরো। অন্যভাবে বললে ২ কোটি ৯০ লাখ ইউরো।

আধুনিক ফুটবলে দলবদল ফি হিসেবে মোটামুটি মানের একজন খেলোয়াড়কে এ দামে পাওয়া যাবে। কয়েক মাস আগে শেফিল্ড ইউনাইটেডের মতো দল লিভারপুলের অখ্যাত ইংলিশ ফরোয়ার্ড রিয়ান ব্রুস্টারকে কিনেছিল ২ কোটি ৭০ লাখ ইউরো দিয়ে। বার্সেলোনার সাবেক রাইটব্যাক নেলসন সেমেদো কিছুদিন আগে উলভারহ্যাম্পটনে যোগ দিয়েছেন এর চেয়ে একটু বেশি দামে, ৩ কোটি ২০ লাখ ইউরোতে। বলতে গেলে বার্সা তাড়িয়েই দিয়েছিল পর্তুগিজ রাইটব্যাককে! একের পর এক বাজে পারফরম্যান্সের খেসারত হিসেবে বার্সাই সেমেদোকে একরকম দল থেকে ‘তাড়িয়ে’ দিয়েছিল।

সেমেদোর মতো একই দামে রিয়াল মাদ্রিদের স্প্যানিশ লেফটব্যাক সের্হিও রেগিলন নাম লিখিয়েছেন টটেনহামে। এএস রোমার চেক ফরোয়ার্ড পাত্রিক শিক জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেনে নাম লিখিয়েছেন ঠিক ২ কোটি ৯০ লাখ ইউরোতেই।

এখন যদি বলা হয়, সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দামও এই ব্রুস্টার, সেমেদো, রেগিলন কিংবা শিকের সমান—কেমন লাগবে? অথচ এমনটাই বলছে ইতালিয়ান ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম করিয়েরে দেল্লো স্পোর্ত। তাদের মতে, মৌসুম শেষে জুভেন্টাস রোনালদোকে তো বিক্রি করবেই, তা-ও করবে মাত্র ২ কোটি ৯০ লাখ ইউরোতে। রোনালদোর মতো মহাতারকাকে কেনা যাবে ৩ কোটি ইউরোরও কম দামে, ভাবা যায়!

বিজ্ঞাপন
default-image

এফসি পোর্তোর হাতে এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছেন রোনালদোরা। তখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে জোরেশোরে। টানা ৯ বার লিগ জেতা জুভেন্টাস রোনালদোকে তো এ কারণেই রিয়াল মাদ্রিদ থেকে দলে এনেছিল, যাতে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই শিরোপাটা পাওয়া যায়।

লিগ জেতাকে ছেলেখেলা বানিয়ে ফেললেও প্রায় আড়াই দশক ধরে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেনি জুভেন্টাস। ওদিকে পরিসংখ্যানের হিসাব মানলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়। এই ট্রফি জিতেছেন সব মিলিয়ে পাঁচবার, গোলের হিসেবেও অন্য যে কারও চেয়ে এগিয়ে।

স্বাভাবিকভাবেই জুভেন্টাস ভেবেছিল, রোনালদোকে দলে আনা মানেই নিশ্চিতভাবে চ্যাম্পিয়নস লিগের খরা কাটানো। কিন্তু রোনালদো আসার আগে তিন মৌসুমে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলা জুভ রোনালদোকে নিয়ে তিন মৌসুমেই বাদ পড়েছে আগেভাগে। প্রথমে আয়াক্সের হাতে কোয়ার্টার ফাইনালে, আর গত মৌসুমে অলিম্পিক লিওঁর পর এবার পোর্তোর হাতে বিদায় হলো শেষ ষোলোতেই! রোনালদো আসায় লাভ হচ্ছে কোথায়?

২০১৪–১৫ ও ২০১৬–১৭; রোনালদো আসার আগে মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির অধীনে চ্যাম্পিয়নস লিগের দুটি ফাইনালে খেলা জুভেন্টাস তো আরও পিছিয়েই গেল!

default-image

চ্যাম্পিয়নস লিগে তো আগেভাগে বিদায় হলোই, রোনালদোকে দলে নিয়ে ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবার লিগ শিরোপা হারানোরও শঙ্কায় কাঁপছে দলটা। জুভেন্টাসকে পেছনে ফেলে আন্তোনিও কন্তের ইন্টার মিলান দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলেছে শিরোপার দিকে।

স্বাভাবিকভাবেই জুভেন্টাসে এখন অস্থির সময়। জুভেন্টাসে বছরে ৩১ মিলিয়ন ইউরো করে কামাচ্ছেন রোনালদো। যে কারণে তাঁকে দলে নিয়ে আসা, সে লক্ষ্যই যদি পূরণ না হয়, তাহলে এত টাকা দিয়ে ‘শ্বেতহস্তী’ পালার কারণ কী? তার ওপর করোনার কারণে যেখানে এমনিতেই আর্থিক ক্ষতি শুধু বাড়ছেই? অনেকেই মেলাতে পারছেন না এ হিসাব। এ তালিকায় আছেন জুভেন্টাসের সাবেক সভাপতি জিওভান্নি কোবলিসহ অনেকেই।

আর তাঁদের সঙ্গেই সুর মিলিয়েছে করিয়েরে দেল্লো স্পোর্ত। তারা জানিয়েছে, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন রোনালদোর জুভেন্টাস ছাড়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিজ্ঞাপন

কতটা বেশি? এই মৌসুমের শেষে রোনালদোর রিয়াল মাদ্রিদে ফেরা কিংবা পিএসজিতে যাওয়ার গুঞ্জন তো আছেই, করিয়েরে দেল্লো স্পোর্তের প্রতিবেদন সে গুঞ্জনে আরও বাতাস দেবে।

তাদের দাবি, রোনালদোকে বিক্রি করার জন্য তাঁর দাম ঠিক করে ফেলেছে জুভ। কিন্তু সেই দামটাই চোখ কপালে তোলার মতো! বয়স ৩৬ হতে পারে, কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নামটার একটা ওজন আছে না! সেই রোনালদোকেই মাত্র ২৯ মিলিয়নে বিক্রি করার কথা ভাবছে জুভ? দামের হিসাবে ব্রুস্টার, সেমেদো, রেগিলন কিংবা শিকের কাতারে নামিয়ে এনেছে তাঁকে?

ওদিকে কিছুদিন আগেই দেপোর্তেস কুয়াত্রো কিংবা এল চিরিঙ্গিতোর মতো সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্লাব ছাড়তে হলে আবারও পুরোনো ঠিকানাতেই ফিরতে চান রোনালদো। যেতে চান রিয়াল মাদ্রিদে। সঙ্গে এই দুই পত্রিকা এ-ও জানিয়ে দিয়েছে, রোনালদো চাইলেও এমন প্রস্তাবে সায় নেই রিয়ালের।

এখন তাঁর দাম শুনে আবার যদি ভাবনা বদলায় রিয়ালের।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন