default-image

মেয়েদের বয়সভিত্তিক ফুটবল জেএফএ কাপে সারা দেশের মধ্যে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার সুবাদে ২০১৮ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ দলে সুযোগ পায় নাসরিন। ভুটানে খেলতে যাওয়ার সব রকমের মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিল। কিন্তু ভুটান যাত্রার তিন দিন আগে অনুশীলনে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। তাতে ক্যারিয়ারই শেষ হওয়ার উপক্রম হয় নাসরিনের। হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে। অসহায় নাসরিন চোখে অন্ধকার দেখছিল। তাঁর চিকিৎসায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন রংপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার। চিকিৎসার সব খরচ বহন করেন তিনি।

নাসরিনের কোচ মিলন খানের কৃতজ্ঞতা ওই পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি, ‘এই মেয়েদের খেলা দেখতে একদিন আমাদের মাঠে এসেছিলেন পুলিশ সুপার বিপ্লব স্যার। উনি জানতে পারেন, চোটের কারণে খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে নাসরিন ও রংপুরের আরেক ফুটবলার রুমির। এর পরপরই তিনি এই দুই ফুটবলারের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন। স্যারের উপকারের কথা ভুলতে পারব না।’

চোট থেকে ফিরে আবারও মাঠ মাতানো শুরু করে নাসরিন। গত বছর ডিসেম্বরে ঢাকায় বঙ্গমাতা (অনূর্ধ্ব-১৭) শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ময়মনসিংহ বিভাগকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর। একমাত্র গোলটি করে ফাইনালে ম্যাচসেরা হয় নাসরিন। ৪ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও পেয়েছিল সে।

default-image

রংপুর দলের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইকার নাসরিন। বঙ্গমাতা ফুটবলের বিভাগীয় দলে সুযোগ পেতে তাকে পার হতে হয়েছে কয়েকটি ধাপ। ফাইনালে নিজেকে তো মেলে ধরেছেই, দেশের ৮ বিভাগের সেরা ৪০ ফুটবলারের মধ্য থেকে ট্রায়ালে যোগ্যতা প্রমাণ করে ডাক পায় পর্তুগালগামী দলে।

ভুটান যেতে পারেনি বলে নাসরিনের কণ্ঠে আক্ষেপ ছিল। তবে সেই আক্ষেপ ঘুচে গেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে, ‘ভেবেছিলাম আর কখনো ফুটবলই খেলতে পারব না। কিন্তু আবারও ফুটবলে ফিরেছি। পর্তু‌গালে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিতে পারব, এটা শুনে আমার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন নানি।’

লড়াকু নাসরিন হারতে চায় না কখনোই। এত বাধার পরও তাই ফুটবলে পা রেখে সে স্বপ্ন দেখে আকাশ ছোঁয়ার।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন