default-image

প্রেমিকার জন্মদিনে সবারই আলাদা পরিকল্পনা থাকে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরও ছিল। এই পরিকল্পনা সফল করে নিখাদ প্রেমিকের পরিচয় দিয়েছেন জুভেন্টাস তারকা। ইতালির করোনাভাইরাস বিধিনিষেধেরও ধার ধারেননি!

দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জর্জিনা রদ্রিগেজের ২৭তম জন্মদিনটা অন্তরঙ্গভাবে কাটাতে ঘুরতে বের হয়েছিলেন রোনালদো। এখন শোনা যাচ্ছে, পর্তুগিজ তারকার এই প্রমোদভ্রমণের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কাল ২৭তম জন্মদিন ছিল জর্জিনার। রোনালদোর মেয়ে আলানা মার্তিনার মা জর্জিনার এই জন্মদিন একটু বিশেষভাবেই স্মরণীয় রাখতে চেয়েছিলেন রোনালদো। তাই করোনা মহামারিকে পাত্তা দেননি।

বুধবার রাতে কোপা ইতালিয়ায় জুভেন্টাসের ম্যাচে বিশ্রাম পাওয়া এ তারকা বান্ধবীকে নিয়ে যান তুষারশোভিত আল্পস পর্বতমালার অঞ্চল কুরমেয়ার রিসোর্টে। তুরিন থেকে ৯৩ মাইল দূরের এই অঞ্চলে দুই দিনের প্রমোদভ্রমণে বের হন রোনালদো। এ পথে তাঁকে পিয়েদমন্ত ও ভাল্লে ডি’আউস্তার মাঝে সীমান্ত অতিক্রম করতে হয়। তুরিন থেকে গাড়িতে প্রায় দুই ঘণ্টা দূরত্বের এই অঞ্চল স্কি–র জন্য বিখ্যাত।

বিজ্ঞাপন

ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়েরে দেল্লো স্পোর্ত’ জানিয়েছে, এই সীমান্ত অতিক্রম করে ইতালির করোনাভাইরাস বিধিনিষেধ ভেঙেছেন রোনালদো। দেশটির করোনাবিধি অনুযায়ী, এক শহর থেকে আরেক শহরে ভ্রমণ আপাতত নিষিদ্ধ। তুষারের শ্বেত–শুভ্র চাদর বিছানো আল্পস পর্বতমালার এই অঞ্চলে স্নোমোবাইলেও চুটিয়ে ঘুরেছেন রোনালদো–জর্জিনা। কুরমেয়ার অঞ্চলে তাঁরা যে হোটেলে (লে মাসিফ) ছিলেন, সেটি আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছিল ইতালিয়ান কর্তৃপক্ষ।

default-image

মঙ্গলবার রাতে সেখানকার পাঁচ তারকা হোটেলে প্রেমিকার জন্মদিন উদযাপন করেন রোনালদো। এর ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছেড়েছেন জর্জিনা। রোনালদোও অন্তরঙ্গ ছবি পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে। এ ছাড়া দুজনের স্নোমোবাইলে ঘোরার ছবিও ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এদিকে সম্ভাব্য লকডাউনের নীতিমালা ভাঙায় স্থানীয় পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম ‘লা স্টাম্পা’ জানিয়েছে, পুলিশ আজ লে মাসিফ হোটেলে গিয়ে তা বন্ধ পেয়েছে।

করোনা মহামারির এ সময়ে পর্যটক কম থাকায় আল্পস পর্বতমালার আশপাশে বেড়ানোর বেশির ভাগ জায়গাগুলো বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। জর্জিনার কাছে এই অঞ্চল অপরিচিত নয়। গত বছর নিজের ২৬তম জন্মদিন এখানেই উদযাপন করেছেন তিনি। তখন অবশ্য তাঁর সঙ্গে রোনালদো ছিলেন না।

তবে রোনালদো–জর্জিনাকে এখনো জরিমানা করতে পারেনি পুলিশ। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আইনবহির্ভূতভাবে চলাফেরার জন্য ৪০০ ইউরো জরিমানার নিয়ম থাকলেও সেটি আইন ভাঙার জায়গায় করতে হয়—মানে ঘটনাস্থলে।

default-image

জর্জিনাকে নিয়ে বহাল তবিয়তেই তুরিনে ফিরেছেন রোনালদো। ইতালির করোনাবিধি অনুযায়ী, ‘জরুরি কাজ, স্বাস্থ্য ও ভীষণ প্রয়োজন ছাড়া আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইতালির এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে ভ্রমণ নিষিদ্ধ।’ তবে তদন্ত শেষে রোনালদোকে পুলিশ জরিমানা করলেও তা ৪০০ ইউরোর বেশি হবে না বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

বিজ্ঞাপন

জুভেন্টাসে রোনালদোর বার্ষিক ৩ কোটি ইউরো বেতনের বিপরীতে এই জরিমানার অঙ্ক তিনি আয় করেন মাত্র ৭ মিনিটে।

গুঞ্জন আছে, জর্জিনাকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রোনালদো। সাম্প্রতিক সময়ে এক ম্যাচে গোলের পর সবার সামনেই আঙুল দিয়ে ইংরেজি ‘জি’ অক্ষর দেখান তিনি। জর্জিনার জন্মদিনে নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি পোস্ট করে জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড তার ক্যাপশনও দিয়েছেন ভালোবাসাসূচক, ‘অভিনন্দন, আমার জীবনের ভালোবাসা।’ জর্জিনাও ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘অমিত ধন্যবাদ প্রিয়, কারণ আজ অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আমি সৌভাগ্যবান।’

জুভেন্টাসের হয়ে এ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০ গোল করেছেন রোনালদো। তবে শেষ পাঁচ ম্যাচে তাঁর ফর্ম একটু পড়তির দিকে। এই পাঁচ ম্যাচে দুই গোল পেয়েছেন তিনি। ইতালিতে এর আগে করোনা মহামারির সময় কোভিড–১৯ পরীক্ষাকে ‘ভুয়া’ বলে ভীষণ সমালোচনা কুড়িয়েছিলেন রোনালদো। তখন তাঁর সমালোচনা করেছিলেন ‘ইতালির সবচেয়ে বিখ্যাত ভাইরাসবিদ’ রবার্তো বুরিওনি।

এর আগে করোনা পজিটিভ হয়েছিলেন রোনালদো। মাঠে ফেরার তাড়না থেকেই কোভিড–১৯ পরীক্ষাকে ভুয়া বলেছিলেন তিনি। তখন পর্তুগিজ টিভি চ্যানেল ‘টিভি১’ জানিয়েছিল পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদো নাকি ১৮ বার করোনা পরীক্ষা দিয়েছিলেন নিজেকে করোনামুক্ত প্রমাণ করার জন্য।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন