অধিনায়ককে ছেড়ে দেওয়ার ভুল করবে রিয়াল?
অধিনায়ককে ছেড়ে দেওয়ার ভুল করবে রিয়াল? ছবি: রয়টার্স

রিয়াল মাদ্রিদের মৌসুমটা ভালো কাটছে না। চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপ পর্ব শীর্ষস্থান নিয়ে শেষ করলেও শেষ ম্যাচেও বাদ পড়ার শঙ্কা নিয়ে খেলতে হয়েছে তাদের। লিগে পয়েন্টের দিক থেকে দুইয়ে আছে, শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর চেয়ে এক পয়েন্টে পিছিয়ে আছে তারা। আর শীর্ষে থাকা আতলেতিকো রিয়ালের চেয়ে এখনো তিন ম্যাচ কম খেলেছে।

শীর্ষস্থান থেকে সম্ভাব্য দশ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকাটাও হয়তো রিয়ালকে এত চিন্তায় ফেলছে না, যতটা দুশ্চিন্তা চলছে সের্হিও রামোসকে নিয়ে। আগামী জুনেই রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে রামোসের। চারবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ী এখনো চুক্তি নবায়নে রাজি হননি। চুক্তির শর্ত নিয়ে ক্লাবের সঙ্গে খেলোয়াড়ের বনিবনা না হওয়ায় নাকি এখনো চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না।

এ নিয়ে অবশ্য হোর্হে ভালদানো খুব বেশি চিন্তিত নন। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ ভালদানোর ধারণা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে যে ভুল করেছে রিয়াল, একই ভুল রামোসের ক্ষেত্রে করবে না। তাই মৌসুম শেষে রামোসকে রিয়ালেই দেখার আশা করেন ভালদানো।

default-image
বিজ্ঞাপন

রোনালদোর ক্ষেত্রে রিয়াল কী ভুল করেছিল, সেটা সবার জানা। হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর বেতন বাড়াতে চেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সেটা পছন্দ হয়নি। রোনালদোকে বেশি বেতনে ক্লাবে রাখা যুক্তিসংগত মনে হয়নি তাঁর। বরং গ্যারেথ বেলের ওপরই আস্থা রেখেছিলেন। রোনালদো রেকর্ড গড়ে জুভেন্টাসে চলে যান। ওদিকে রোনালদোর রেখে যাওয়া শূন্যস্থান পূরণে চরম ব্যর্থতা প্রদর্শন করেছেন বেল।

রোনালদো চলে যাওয়ার পর প্রথম মৌসুমে ক্লাব বিশ্বকাপ ছাড়া কিছু জেতেনি রিয়াল। পরের জিদান ফেরার পর স্প্যানিশ সুপার কাপ ও লিগ জিতলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে। দুই মৌসুমেই সম্ভাব্য শিরোপাজয়ীর মতো খেলতে দেখা যায়নি রিয়ালকে।

মাত্র নয় বছরেই ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যাওয়া এক ফুটবলারের অভাব পূরণ করতে পারেনি স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। সেখানে রামোস রিয়ালের হয়ে খেলছেন এক যুগ ধরে। শুধু যে রক্ষণ সামলান তা-ই নয়, দলের মহা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোলও এনে দেন। আর নেতৃত্বগুণে বিশ্ব ফুটবলেই রামোসের তুলনা পাওয়া কঠিন।

default-image

ভালদানোর ধারণা, রিয়াল এবার অন্তত রামোসকে ছাড়ার ভুল করবে না। এল ট্রান্সিস্তরকে বলেছেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গেই চুক্তি নবায়ন করবে সে। যদি এটা না করে, তবে দুপক্ষেরই ভুল হবে।’ কেন ভুল হবে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ, ‘ক্রিস্টিয়ানোর ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছিল। রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগ হারিয়েছে এবং ক্রিস্টিয়ানো হারিয়েছে ব্যালন ডি’অর।’

রামোসের সঙ্গে চুক্তি নবায়নে আপত্তি নেই রিয়ালের। কিন্তু ক্লাব তাঁকে যে প্রস্তাব দিচ্ছে তা মনঃপূত হচ্ছে না রামোসের। এ ব্যাপারে বিভিন্ন মতই পাওয়া যাচ্ছে। এক পক্ষ বলছে, রামোস বেতন কমাতে রাজি নন, কিন্তু করোনাকালে সবাইকে কম বেতন নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে ক্লাব। অন্য এক সূত্র বলছে, বেতন নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই, সব ঝামেলা চুক্তির মেয়াদ নিয়ে। ত্রিশোর্ধ্ব ফুটবলারদের ক্ষেত্রে একক বছরের নবায়ন প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু রামোস অন্তত দুই বছরের চুক্তি চাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে চুক্তির এমন শর্তেই মিল খুঁজে না পেয়ে ক্লাব ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ডিফেন্ডার পেপে। তিন বছর পরও পেপের মতো নির্ভরশীল কাউকে রক্ষণে খুঁজে পায়নি রিয়াল।

এদিকে চুক্তি নিয়ে মতের মিল না হওয়ায় রামোসকে পাওয়ার লাইনে নেমেছে অনেক দল। পিএসজি, লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলগুলো নাকি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ওদিকে পেরেজও তাঁর চাল চালছেন। নিয়মিত তাঁর ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলোকে দিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের ডেভিড আলাবার রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি করার খবর প্রকাশ করাচ্ছেন। উদ্দেশ্য পরিষ্কার, এমন খবরে যেন নিজের শর্ত শিথিল করতে বাধ্য হন রামোস।

এখন পর্যন্ত তাতে কাজ হয়েছে বলে খবর মেলেনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন