বিজ্ঞাপন
default-image

রোনালদোর যতই বয়স হোক না কেন, এখনো বিশ্বের সেরা তারকাদের কাতারে অনায়াসেই থাকবেন। এমন এক মহাতারকাকে লিসবন কিনে নিচ্ছে, ভাবতে বেগ পাওয়া স্বাভাবিক। গুঞ্জনটা ডালাপালা মেলেছে রোনালদোর মা দোলোরেস আভেইরোর একটা কথায়। তিনি একরকম ঘোষণাই দিয়েছিলেন, ছেলে ফিরছেন আঁতুড়ঘরে। এক দিন পরেই রোনালদোর মুখপাত্র হোর্হে মেন্দেস জানিয়ে দিয়েছেন, ওসব ফাঁকা বুলি।

দোলোরেস নিজে স্পোর্তিং–সমর্থক। ছেলের ক্যারিয়ারের শুরুটাও এ জন্য এখান থেকেই করিয়ে দিয়েছিলেন। সেই স্পোর্তিং এবার হয়েছে লিগসেরা। ২০০২ সালের পর এবারই প্রথম পর্তুগালের শীর্ষস্থানীয় প্রিমেরা লিগ জিতেছে। ক্লাবের সাফল্য আর দশটা সমর্থকের মতো দোলোরেস নিজেও উদ্বেলিত। এ সাফল্য উদ্‌যাপন করতে গিয়ে লিসবনে নিজ বাসার বারান্দা থেকে সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন দোলোরেস। সেখানেই আবেগে ভেসে গিয়ে বলে বসেন, আগামী বছর রোনালদো যেন ঘরে ফিরে আসেন, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন তিনি, ‘(স্পোর্টিং লিসবনে) ফিরিয়ে নিয়ে আসতে আমি ওর (রোনালদো) সঙ্গে কথা বলব। আগামী বছর সে আলভালাদেতে (স্পোর্টিং লিসবনের স্টেডিয়াম) খেলবে।’

default-image

কথা শুনে স্পোর্তিং–সমর্থকেরা স্বপ্ন দেখা শুরু করবেন কী, এক দিন যেতে না যেতেই বেরসিকের মতো বাগড়া দিয়ে বসেছেন রোনালদোর মুখপাত্র হোর্হে মেন্দেস। একজন খেলোয়াড় কোথায় যাবেন না যাবেন, বেতন কত হবে—এসব সাধারণত একজন মুখপাত্রই দেখে থাকেন, জেনে থাকেন। মেন্দেসও তাঁর ব্যতিক্রম নন। দোলোরেস যতই আবেগপ্রবণ হয়ে ঘরের ছেলের ঘরে ফেরার কথা বলুন না কেন, বাস্তবতার নিরিখে সে কথার দাম সামান্যই। পর্তুগিজ সংবাদপত্র রেকর্দকে মেন্দেস জানিয়েছেন, স্পোর্তিং যে শিরোপা জিতেছে, তার জন্য রোনালদো গর্বিত। তবে এই মুহূর্তে পর্তুগালে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর।

পর্তুগালের সেরা তিনটি ক্লাবের একটি স্পোর্টিং লিসবনের বয়সভিত্তিক দল থেকে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মূল দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন রোনালদো। মাত্র এক মৌসুমের মধ্যেই ক্লাবটির অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৮, ‘বি’ দল ও মূল দলে খেলে ফেলেন তিনি। ২০০২-০৩ মৌসুমে স্পোর্টিং লিসবনের মূল দলে খেলে রোনালদো নাম লেখান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। বাকিটা তো সবারই জানা।

default-image

বয়স হয়ে গেছে ৩৬। ক্যারিয়ারের বালুকাবেলায় এসে অনেকেই নিজের সাবেক ক্লাবে ফেরত যান, কেউ কেউ আবার নিজের দেশে ফেরত যেতে চান। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আরিয়ান রোবেন যেমন গত মৌসুমে ফিরেছেন ডাচ্‌ ক্লাব গ্রনিঙ্গেনে। কার্লোস তেভেজ পাড়ি জমিয়েছিলেন বোকা জুনিয়র্সে। দানি আলভেস এখন খেলছেন সান্তোসে। ম্যানচেস্টার সিটির কিংবদন্তি দাভিদ সিলভা এই মৌসুমে ফিরেছেন স্পেনের ক্লাব রিয়াল সোসিয়েদাদে।

এ তালিকায় এখনই রোনালদো নাম লেখাচ্ছেন না, মেন্দেসের কথায় অন্তত সেটা নিশ্চিত।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন