default-image

অথচ এমন কিছু না–ও হতে পারত। ৫৭ মিনিটে যদি ওভাবে সুযোগটা হাতছাড়া না করতেন অধিনায়ক ব্রুনো হার্নান্দেজ। বোমা হামলার হুমকি শোনা নিয়মিত অধিনায়ক হ্যারি ম্যাগুয়ার না থাকায় অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পেয়েছিলেন। কিন্তু দলের ভার নিতে ব্যর্থ পর্তুগিজ অধিনায়ক। তাতে ফিরে এসেছে গত ২৫ সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে অ্যাস্টন ভিলা ম্যাচের স্মৃতি। পাশে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো থাকার পরও যোগ করা সময়ের পেনাল্টি নিতে গিয়েছিলেন ব্রুনো। পোস্টের অনেক ওপর দিয়ে মেরে সেদিন দলকে ডুবিয়েছিলেন ব্রুনো।

আজও দল পিছিয়ে আছে এমন অবস্থায় পেনাল্টি পেয়েছিল ইউনাইটেড। আগেই এক গোল করে ছন্দে থাকা রোনালদো নয়, ব্রুনো এলেন গোল করতে। তাঁর শট আর্সেনাল গোলকিপার অ্যারন রামসডেলকে বোকা বানালেও গিয়ে লেগেছে পোস্টে!

default-image

স্কোরবোর্ডেও তাই ২-১ই লেখা থাকল। ৩ মিনিট পর রোনালদো জালে বল পাঠালেও ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড ছিলেন অফ সাইডে। ৩ মিনিট পর দালোতের শট রামসডেলের হাত হয়ে পোস্টে লাগে। ৭০ মিনিটে এরই ফল মিলেছে। গ্রানিত জাকার বক্সের বাইরে থাকা গোল ৩-১ করে ফেলার পর এ ম্যাচ থেকে ইউনাইটেডের কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। অথচ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা শ্রেয়তর দল হিসেবেই শুরু করেছিল রেড ডেভিলরা।

এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধটা ছিল নিরপেক্ষ দর্শকদের জন্য দারুণ আনন্দদায়ী। ৩ মিনিটেই ইউনাইটেডের রক্ষণ ভুল আর্সেনালকে এগিয়ে দিয়েছে। রাফায়েল ভারান ও অ্যালেক্স তেয়েসের বোকামিতে বল পেয়ে যান বুকায়ো সাকা। তাঁর বাঁকানো শট দাভিদ দে হেয়া বাঁচিয়ে দিলেও ফিরতি বল থেকে নুনো তাভারেসের শট আর ফেরানো হয়নি।

default-image

এরপর দুই দলই গোলের সুযোগ করেছে পাল্টাপাল্টি। কিন্তু শেষ কাজটা করা হচ্ছিল না কারও। ১৫ মিনিটে আর্সেনাল বক্সে অ্যান্থনি এলাঙ্গা পেনাল্টি বক্সে পড়ে যাওয়ায় পেনাল্টির দাবি উঠেছিল। কিন্তু রেফারি বা ভিএআর কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারেননি ইউনাইটেড উইঙ্গার। ২৩ মিনিটে দিয়েগো দালোতের শট ক্রসবারে লেগে ফেরায় সমতা ফেরানো হয়নি ইউনাইটেডের। ২৭ মিনিটে হয় চূড়ান্ত নাটক। প্রথম মনে হয়েছিল গোল করেছেন এডি এনকেটিয়াহ। সাকা ও মার্টিন ওডেগার্ড নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া–নেওয়া করে ইউনাইটেড রক্ষণের ফাঁকা বের করেছিলেন। সাকার কাছ থেকে বল পেয়ে বল জালে পাঠিয়েছিলেন অরক্ষিত এনকেটিয়াহ। কিন্তু আর্সেনাল উইঙ্গারের অবস্থান দেখে অফ সাইড মনে হওয়ায় ভিএআর তা বাতিল করে দেয়।

default-image

ইউনাইটেড সমর্থকেরা এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করারও সুযোগ পাননি। কারণ অফ সাইড হওয়ার আগেই ঘটেছে আরেক ঘটনা। এনকেটিয়াহকে বল দেওয়ার আগেই তেয়েস ফাউল করেছিলেন সাকাকে। পেনাল্টি থেকে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাকা নিজেই। ৩২ মিনিটে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া ইউনাইটেডকে ২ মিনিট পরই ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন রোনালদো। নেমানজা মাতিসের ক্রস থেকে দুই আর্সেনাল ডিফেন্ডারের মাঝেও জায়গা করে নিয়ে গোল করেছিলেন রোনালদো।

কিন্তু সে গোল যে শুধু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তাঁর ১০০তম গোলের রেকর্ডের সান্ত্বনা হয়ে থাকবে, সেটা বোঝা যায়নি তখন।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন