বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

দলবদলের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদে গিয়েছেন ২০০৯ সালে। তাঁর সর্বশেষ মৌসুমেই ইউনাইটেড অভিষেক হয়েছিল রিচার্ড একের্সলির। রোনালদোর খেলার প্রতি নিবেদনে মুগ্ধ একের্সলিও চাইতেন রোনালদোর মতো হতে। তবে মাঠে দুজনের অবস্থান ছিল ভিন্ন। রোনালদো খেলতেন লেফট উইংয়ে আর একের্সলি খেলতেন রাইটব্যাকে। ফলে অনুশীলনে রোনালদোকে আটকানোর কাজটাই পেতেন এই ফুটবলার।

দ্য অ্যাথলেটিক একের্সলিকে জিজ্ঞাসা করছিল, রোনালদোর এভাবে ইউনাইটেডে ফেরাটা ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে কি না? উত্তরে এই সাবেক রাইটব্যাক বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি গত কিছুদিন এটা নিয়েই ভাবছিলাম। রোনালদো ইউনাইটেডে ফিরেছেন। আর শেষবার যখন ইউনাইটেডে খেলতেন, তখন আমিও সেখানে ছিলাম। তাঁর সঙ্গে অনুশীলন করতাম। এখন আমি একজন দুধ উৎপাদক এবং দোকানদার। আর তিনি এখনো ফুটবল খেলে যাচ্ছেন। খুবই পাগলাটে। বিশ্বের দুই প্রান্তের ঘটনা।’

default-image

রোনালদোর বয়স এখন ৩৬। আর একের্সলির বয়স মাত্র ৩২। তবু একের্সলির নামের পাশেই লেখা সাবেক ফুটবলার। সেটাও পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে। তবে এ নিয়ে কোনো অতৃপ্তি নেই তাঁর, ‘আমি এর উল্টোটা (রোনালদোর মতো ক্যারিয়ার) চাই না। আমি আসলেই সুখে আছি। নিজের নিয়তি আমার হাতে এবং আমার কাছে এটাই অমূল্য।’

শুধু রোনালদো নয়, তাঁর পর বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারের মুকুট পরা গ্যারেথ বেলকেও আটকানোর অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। ইউনাইটেড অভিষেকে যে টটেনহামের বিপক্ষে খেলেছিলেন একের্সলি। এফএ কাপে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফাবিওর বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। সে ম্যাচে তাঁর কাজ কী ছিল, সেটা জানা যাক, ‘আমি ভালোই করেছিলাম। আমার কাজ ছিল গ্যারেথ বেলকে আটকানো। সে অবশ্য ২০১১-১২ সালের ফর্ম তখনো পায়নি।’

default-image

কিন্তু ইউনাইটেডে বেশি দিন থাকা হয়নি। রোনালদোর সঙ্গে সঙ্গেই ক্লাব ছেড়েছিলেন। ইউনাইটেড দুই বছরে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বেশি বেতনের লোভ তাঁর মাথা ঘুরিয়ে দেয়। চলে যান বার্নলিতে, ‘আমি আগে যা আয় করতাম তার প্রায় ১০ গুণ বেশি পাচ্ছিলাম। কিন্তু খুব দ্রুতই টের পেয়েছি, যত টাকাই আয় করুন না কেন, যতগুলো গাড়িই কিনুন না কেন বা নাইট ক্লাবে যান না কেন, সেটা আপনাকে পূর্ণতা দেয় না।’ চোট, ফর্মহীনতা মিলিয়ে এরপর শুধুই পথ হারানোর গল্প। মাঝে তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে মেজর লিগ সকার খেলে এসেছেন।

২০১৫ সালে ইংলিশ ফুটবলে ফিরে আসেন। যোগ দেন ওল্ডহ্যাম অ্যাথলেটিকে। ক্লাবটি তখন তৃতীয় স্তরে খেলত। ডিসেম্বরে ডনচেস্টার রোভার্সের বিপক্ষে ম্যাচে ৭১ মিনিটে চোট পেয়ে ছিটকে যান। এরপর আট মাস আর দেখা যায়নি তাঁকে। মাঝে দুটি ক্লাবের সঙ্গে অনুশীলন করেও কোনো ক্লাব পাননি।

তখনই বুঝে যান, যে স্বপ্ন নিয়ে নয় বছর বয়সে ইউনাইটেডের একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন, তা শেষ হয়ে গেছে, ‘২০১৬ সালের গ্রীষ্মে আমি আইল অব ম্যানে এক বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলাম। মাত্রই একটা বাচ্চা হয়েছে আমাদের এবং আমি বুঝতে পারলাম ফুটবলকে বিদায় বলার সময় এসেছে। ছয় মাস বা এক বছর চলার মতো যথেষ্ট টাকা আছে আমার। যখন আমার স্ত্রীকে বললাম, ফুটবল ছেড়ে দিচ্ছি, কী যে শান্তি পেয়েছিলাম!’ স্ত্রী নিকোলা সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়েছেন, শুধু প্রশ্ন ছিল, ‘এরপর কী?’

default-image

এরপর দুজনে মিলে নিজেদের জীবনটা নতুন করে গড়েছেন। এখন তাঁরা বর্জ্যশূন্য দোকান চালাচ্ছেন, যেখানে প্রাণিজ কোনো পণ্য ব্যবহার করা হয় না। ভ্রু কুঁচকে উঠছে? একজন দুধ বিক্রেতার দোকানে প্রাণিজ পণ্য নেই! এর পেছনে অবশ্য আছে অন্য গল্প। ক্রেতারা তাঁর দোকানে দুধ খুঁজতেন, সেটা উদ্ভিজ্জ দুধ। তাঁর দোকানে সেটা না থাকায় এ নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। সে সুবাদেই প্রথম জানতে পারেন যবের দুধ সম্পর্কে, যা ওটমিল্ক নামেই বেশি পরিচিত।

রোনালদোর মতো ক্যারিয়ার হয়নি, বিশ্বজোড়া নামডাক হয়তো নেই। কিন্তু একের্সলি এমন কিছু পেয়েছেন, যেটা হন্যে হয়ে খুঁজে বহু মানুষই পান না, শান্তি। একের্সলি এখন নিজের জীবন নিয়েই তৃপ্ত। ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ডেভনে ছোট্ট একটা জায়গা টটনেসকে বেছে নিয়েছেন থাকার জন্য। কেন? ‘সমুদ্রতীরের কাছে, জলাভূমি আছে, নদী আছে, সেখানে আমার মেয়েরা বড় হবে। আমরা এমন এক সমাজে আছি, যেখানে ৪০ জন মানুষ আছেন। আমাদের নিজের বাড়ি আছে, বাগান আছে। ১০ একর জমি আমরা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করি, নিজেদের খাবার নিজেরা উৎপাদন করি। এ গ্রামে কোনো রাস্তা নেই। এটা দারুণ। এখানে নৈতিকতাই মূল কথা। সবাই নিরামিষভোজী এবং এখানে সবকিছু শতভাগ জৈবিক। আমরা প্রতি মাসে ২৫ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন করি। সবকিছুই পুনরায় ব্যবহার করি।’ একের্সলির তৃপ্তিটা টের পেতে অসুবিধা হয় না।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন