জুভেন্টাস তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
জুভেন্টাস তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।ছবি: এএফপি

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বিশ্বসেরা ফুটবলারদের একজন। ৩৫ বছর বয়সে এসেও তাঁর দ্যুতি কমেনি। এমন খেলোয়াড় যে দলে থাকবেন, সেখানে আলাদা একটু তোয়াজ পাবেন তেমন ভেবে নেওয়াই স্বাভাবিক। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদে থাকতে রোনালদোকে ঘিরে এমন গুঞ্জন কম ওঠেনি। বার্সেলোনায় যেমন লিওনেল মেসি। কাতালান ক্লাবটিতে মেসির দাপট কিছুটা হলেও প্রকাশ্য। কিন্তু জুভেন্টাসে রোনালদোকে তেমন চোখে দেখা হয় না। ক্লাবটির সাধারণ আর দশজন ফুটবলারকে যে চোখে দেখা হয়, এই পর্তুগিজ তারকাও তার ব্যতিক্রম নন, জানিয়েছেন জুভেন্টাস কোচ আন্দ্রেয়া পিরলো।

ইতালির কিংবদন্তি সাবেক মিডফিল্ডার সরাসরি জানিয়েছেন, জুভেন্টাসে রোনালদোকে আলাদা করে কোনো তোয়াজ করা হয় না। তাঁর তারকা ইমেজ ইতালিয়ান ক্লাবটিতে আলাদা কোনো প্রভাব রাখে না। এবার জুভেন্টাসের হয়ে মৌসুমে ভালো শুরু পেয়েছেন রোনালদো। প্রথম ৬ ম্যাচে করেছেন ৮ গোল। এর মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মাঠের বাইরেও ছিলেন তিনি। শনিবার কালিয়ারির বিপক্ষে তাঁর জোড়া গোলেই ২–০ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে জুভেন্টাস। ‘জুভ’দের হয়ে তাঁর করা মোট গোল ৫৯টি। এর মধ্যে শুধু এ বছরই ২৯ গোল করেছেন রোনালদো।

বিজ্ঞাপন

চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ রাতে ফেরেনৎভারোসের মুখোমুখি হবে জুভেন্টাস। তার আগে দলের সেরা তারকাকে নিয়ে কথা বলেন পিরলো। সেট–পিসে একসময় বিশ্বসেরাদের একজন ছিলেন পিরলো নিজেই। সে স্মৃতি উসকে মজাও করলেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই মিডফিল্ডার, ‘তাঁকে এখনো সেট–পিসে চ্যালেঞ্জ জানাইনি। অন্য খেলোয়াড়দের যে চোখে দেখি, তাঁকেও একই চোখে দেখি। মাঠ ও মাঠের বাইরে সে সব সময় পাশে পাবে আমাকে। নম্র মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সহজ, আমি তেমন মানুষ।’

default-image

ক্লাব ক্যারিয়ারে কম জিনিসই আছে, যা রোনালদো জেতেননি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা ও সিরি ‘আ’ ছাড়াও একাধিকবার জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ। ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদো।

দুই তরুণ খেলোয়াড় ফ্রাবোত্তা ও পোর্তানোভার সঙ্গে আমি যে আচরণ করি, তাঁর (রোনালদো) সঙ্গেও ঠিক তা–ই করা হয়। খেলোয়াড় হিসেবে যা যা করে অভ্যস্ত ছিলাম ঠিক সেসব কাজই করি।
আন্দ্রেয়া পিরলো, জুভেন্টাস কোচ

এমন চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়কে সাধারণ চোখে দেখতে একটু কেমন লাগাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোচের জায়গা থেকে দেখলে আবার এটাই স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত। পিরলো সে কথাই বললেন, ‘দুই তরুণ খেলোয়াড় ফ্রাবোত্তা ও পোর্তানোভার সঙ্গে আমি যে আচরণ করি, তাঁর (রোনালদো) সঙ্গেও ঠিক তা–ই করা হয়। খেলোয়াড় হিসেবে যা যা করে অভ্যস্ত ছিলাম ঠিক সেসব কাজই করি।’

ফেরেনৎভারোসের বিপক্ষে ‘ত্রিফলা’ আক্রমণভাগ বানানোর সুযোগ পাচ্ছেন পিরলো। তিন ফরোয়ার্ড রোনালদো, পাওলো দিবালা ও আলভারো মোরাতাকে শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রোনালদো করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সব মিলিয়ে চার ম্যাচে খেলতে পারেননি। দিবালা চোট থেকে সেরে উঠে ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন গত সপ্তাহে। ৯ ম্যাচে ৬ গোল করা মোরাতা ‘তুরিনের বুড়ি’দের হয়ে মানিয়ে নিতে একটু সময় নিচ্ছেন।

পিরলো কিন্তু একসঙ্গে খেলানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন, ‘আমরা শুরু থেকেই এমন ভাবছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁদের একসঙ্গে ভালো অবস্থায় পাওয়া হয়নি। এখন আমরা দলে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করব এবং যদি সম্ভব হয় একসঙ্গে খেলানোর চেষ্টা করব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন