বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

রোনালদোর আজ ইউনাইটেডে ‘দ্বিতীয়’ অভিষেক হচ্ছে, সেটা জানাই ছিল। কৌতূহল ছিল একাদশে নামবেন, নাকি বদলি হিসেবে। এক ঘণ্টা আগেই জানা গেল, প্রত্যাবর্তনে একাদশেই থাকছেন রোনালদো। গ্যালারিতে অ্যালেক্স ফার্গুসন আর হাজার হাজার সিআরসেভেন। ঘরের ছেলের ফেরার দিনে প্রায় সবাই যে আজ রোনালদোর জার্সি পরেই হাজির হয়েছিলেন। গ্যালারিভর্তি দর্শক প্রথম মিনিটেই একবার উল্লাসে ফেটে পড়ল। না, কোনো গোল করেননি রোনালদো, শুধু প্রথমবারের মতো বল পায়ে ছুঁয়েছেন। সেটাও ঠিকঠাক মতো হলো না, বল চলে গেল মাঠের বাইরে।

চতুর্থ মিনিটে প্রথম কাজটা ঠিকঠাকভাবে করেছিলেন, পরেরটা পারলেন না। পল পগবার দারুণ এক ক্রস নামিয়ে নিয়েছিলেন বক্সের মধ্যে, কিন্তু ঠিকভাবে শট নিতে পারেননি। ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটা হাতছাড়া হলো ইউনাইটেডের। ১০ম মিনিটে নিজেই সুযোগের সৃষ্টি করলেন। ড্রিবলিং করে বক্সের ওপর এসে ইনসাইড ডজে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে দিলেন। বাঁ পায়ে শট নিয়েছিলেন, কিন্তু দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া সে শট শুধু জালের বাইরের দিকটাই কাঁপাতে পারল।

default-image

প্রথমার্ধে এভাবে একের পর এক চেষ্টা চালিয়েছেন রোনালদো। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। ৩০ বার বলের স্পর্শ পেয়েছেন। এর মধ্যে সাতবারই নিউক্যাসলের বক্সে। পাঁচটি শট নিয়েছেন, কিন্তু কাজে লাগছিল না। যোগ করা সময়ে তাই যেন ভাগ্য হাত বাড়িয়ে দিল। ম্যাসন গ্রিনউডের এক নিরীহ দর্শন শট আটকাতে গিয়ে ভুল করে ফেললেন নিউক্যাসল গোলকিপার ফ্রেডি উডম্যান। গ্লাভস থেকে ফসকে গেল বল। ওত পেতে থাকা রোনালদো দুই ডিফেন্ডারের হতভম্ব ভাব কেটে ওঠার আগেই কাজটা সেরে নিলেন। গোল! প্রিমিয়ার লিগে ৮৫ ও ইউনাইটেডের জার্সিতে ১১৯তম গোলের স্বাদটা নিয়েই ড্রেসিংরুমে ফিরলেন রোনালদো।

ওল্ড ট্রাফোর্ডের উৎসবের আমেজটা হঠাৎ ধাক্কা খেল ৫৬ মিনিটে। ম্যাচে বারবার প্রতি আক্রমণে আতঙ্ক ছড়াচ্ছিলেন নিউক্যাসলের অ্যালান সেইন্ট-ম্যাক্সিমিন। ৫৬ মিনিটে তাঁর এমনই এক দৌড় থেকে বল পেয়ে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন হাভিয়ের ম্যানকিয়ো।

default-image

নিজের মঞ্চের আলো এভাবে নিভতে দেবেন কেন রোনালদো? ৪ মিনিট পরই রোনালদো-ঝলক। পগবার কাছ থেকে বল পেয়ে লুক শ থ্রু বাড়িয়ে দিলেন রোনালদোর দিকে। পেছন থেকে ছুটে এসে বলটায় একটা ছোঁয়া দিয়েই বক্সে ঢুকে পড়লেন। এবারও উডম্যানের ভুল হলো, রোনালদোর শট তাঁর দুই পায়ের মাঝ দিয়ে চলে গেল। ইউনাইটেড, দুঃখিত রোনালদো ২-১ নিউক্যাসল!

দিনটা যে শুধুই পর্তুগিজদের, সেটা বোঝা গেল ৮০ মিনিটে। নিজের আদর্শকে ইউনাইটেডের জার্সিতে দেখতে পেয়ে কত ভালো লাগছে, সেটা বারবার মুখেই জানিয়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। সেটা পায়ের কাজেও দেখিয়ে দিলেন। আবারও পগবার নাম জড়াল কোনো গোলে। পগবার কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের সামনে অনেকটা জায়গা পেলেন ফার্নান্দেজ, গোলার মতো এক শট ঠেকানোর সুযোগ পেলেন না উডম্যান।

default-image

অন্য কোনো দিন, অন্য কোনো ম্যাচ হলে—এই গোলই আলোচনার জন্ম দিত। ৯২ মিনিটে জেসি লিনগার্ডের গোলটিও মুখে তুবড়ি ফোটাত। পগবার পাস, অ্যান্থনি মার্শিয়ালের ডামি আর লিনগার্ডের জিবে জল এনে দেওয়া ফিনিশিং!

কিন্তু আজকের দিনটা শুধুই রোনালদোর। আজ রোনালদোর ঘরে ফেরার দিন।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন