হোটেল ব্যবসায় নেমে বিপদে আছেন রোনালদো।
হোটেল ব্যবসায় নেমে বিপদে আছেন রোনালদো।ছবি: রয়টার্স

করোনা চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কপালে। অবশ্য যে কারণ রোনালদোর দুশ্চিন্তা, সেটি সারা পৃথিবীর সব ব্যবসায়ীরই। মহামারি আকারে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এ রোগ মানুষের স্বাস্থ্য-জীবনের ওপর প্রভাব তো রেখেছেই, অর্থনীতিতেও সৃষ্টি করেছে মন্দা-অচলাবস্থা। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেরই ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ মহামারির কারণে। রোনালদোর হোটেল ব্যবসাও এতে লাটে ওঠার জোগাড়।

পেস্তানা হোটেল গ্রুপের মালিক দিওনিসিও পেস্তানার অংশীদার হয়ে ২০১৭ সালেই আবাসন শিল্পে নাম লিখিয়েছিলেন রোনালদো। পর্তুগালের অন্যতম বড় আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এই পেস্তানা। যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রোনালদো নতুন একনামে হোটেল চালু করেছেন, পেস্তানা সিআরসেভেন। বর্তমানে পেস্তানা সিআরসেভেন নামে দুটি হোটেল চালু আছে।

বিজ্ঞাপন

একটি নিজের জন্মভূমি পর্তুগালের ফুনচালে, মাদেইরার কাছে, আরেকটা পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে। করোনার শুরুতে শোনা গিয়েছিল রোনালদো তাঁর হোটেল দুটি করোনারোগীদের আইসোলেশন সেন্টার তৈরির জন্য উন্মুক্ত করে দেবেন। তবে সেটি যে সত্যি নয়, তা জানা গিয়েছিল এর পরপরই। পেস্তানা হোটেল গ্রুপ বলেছিল, এ ধরনের কিছুতে জড়িত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

default-image

রোনালদোর দুই হোটেলে এক রাত থাকার জন্য সর্বনিম্ন ১৫০ ইউরো (প্রায় ১৪ হাজার টাকা) থেকে ৩০০ ইউরো খরচ করতে হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে হোটেল কক্ষের ভাড়া ওঠানামা করে। এ ছাড়া আগে বুকিং করলেও পাওয়া যায় বিভিন্ন ছাড়। তবে যদি একটু ভালোভাবে থাকতে চান এবং পেস্তানা সিআর সেভেন হোটেলের প্রকৃত স্বাদ পেতে চান, সে ক্ষেত্রে এক রাতে এক হাজার ইউরো খরচ করতে হতে পারে। অর্থাৎ এক রাতের জন্য ৯২ হাজার টাকারও বেশি।

করোনার কারণে ফুনচালের হোটেলটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে তালা ওই হোটেলে। মাদেইরার পর্যটন শিল্পে এখন ধস নেমেছে, আয় কমে গিয়েছে ৮০ শতাংশের মতো। ফলে রোনালদোর হোটেলেও এখন থাকার মানুষ নেই, নেই কোনো নতুন পর্যটক। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, এই হোটেলটা হয়তো আর কখনই খুলবে না।

ওদিকে লিসবনের হোটেলটা বন্ধ হয়ে না গেলেও, আয়নেই বললেই চলে। নিয়মিত ভাড়ার প্রায় অর্ধেক ভাড়া দিয়েও পর্যটক আকৃষ্ট করতে পারছে না হোটেলটি। আগে হোটেলের যে কক্ষে রাত্রিযাপন করার জন্য ১৫০ ইউরো লাগত, এখন সে ভাড়া কমে দাঁড়িয়েছে ৭৭ ইউরোয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0