এ দুজনের পরা জার্সি অনেক ভক্তের কাছেই অমূল্য।
এ দুজনের পরা জার্সি অনেক ভক্তের কাছেই অমূল্য। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বহু আরাধ্যের ট্রফিটা ছোঁয়া হয়নি কত কিংবদন্তির। আর একটি বিশ্বকাপ দলে শুধু নাম লিখিয়েই সে ট্রফি নিয়ে উৎসব করতে পারার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে এক ম্যাচেও নামা হয়নি আদিল রামির। মূল একাদশে তো নয়ই, এমনকি বদলি হিসেবেও বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বাদ নেওয়া হয়নি তাঁর। কিন্তু তাতে কী, ক্যারিয়ার শেষে যখন অর্জনের গল্প করবেন, তখন তো ফ্রেঞ্চ লিগ ‘আ’ আর ইউরোপা লিগের সঙ্গে একটা বিশ্বকাপের মেডেলও দেখতে পারবেন ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডার।

দুই দফা লা লিগায় খেলেছেন। আর সে সুবাদে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনারও মুখোমুখি হয়েছেন বেশ কয়েকবার। যে সময়টায় স্পেনে কাটিয়েছেন, সে সময় লা লিগা রাজত্ব করছিলেন দুজন—লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর এ দুজনের সঙ্গে খেলা মানেই তো ম্যাচ শেষে জার্সি চেয়ে বসা। তো, রামিও এ দুজনের কাছ থেকে জোগাড় করে নিয়েছেন বেশ কয়েকটি জার্সি। আর ভক্তদের কাছে এ দুজনের গায়ে পরা জার্সির দামটাও তাঁর ভালোই জানা। সেগুলো বিক্রি করে অন্তত লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো এলাকায় বিলাসবহুল ভিলা কিনতে কোনো কষ্টই নাকি হতো না রামির।

বিজ্ঞাপন

২০১১ সালে প্রথম ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে খেলতে এসেছিলেন রামি। তিন বছর সেখানে ছিলেন। এক বছর ইতালি ঘুরে এসে পরে ২০১৫ সালে যোগ দেন সেভিয়াতে। সেখানেও কাটিয়েছেন দুই বছর। মার্শেইয়ের জার্সিতে ভালো খেলায় ফ্রান্স দলে ডাক পেয়েছিলেন। মাঠে নামতে না পারলেও আলোচনায় ঠিকই ছিলেন। অবশ্য এর পেছনে তাঁর তৎকালীন স্ত্রীর নামটা পামেলা অ্যান্ডারসন হওয়াটাই বড় ভূমিকা রেখেছিল। মাঝে দুই লিগ ঘুরে ঘুরে আপাতত পর্তুগালের ক্লাব বোয়াভিস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার কদিন আগে আরএমসি স্পোর্তের কাছে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে অনেক বিষয়েই কথা বলেছেন রামি। করিম বেনজেমার ফ্রান্স দলে জায়গা না পাওয়া, পেশাদার ফুটবলারদের পদস্খলনের পেছনে নারী আর মাদকের অবদান নিয়েও মুখ খুলেছেন। তবে সবচেয়ে মজার অংশটি ছিল জার্সি নিয়ে। লা লিগায় খেলার সুবাদে মেসি ও রোনালদোর পরা জার্সি জোগাড় করার কাজটা কত আগ্রহ নিয়ে করেছেন, সেটা জানিয়েছেন রামি। সাধারণ ফুটবলভক্তের মতোই আগ্রহ টের পাওয়া গেছে তাঁর কথায়, ‘মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো আমাকে যত জার্সি দিয়েছে, আমি লস অ্যাঞ্জেলেসে একটা বাড়ি এর মধ্যেই কিনে ফেলতে পারতাম। আমার এখনো মনে আছে যখন প্রথমবার ক্রিস্টিয়ানোর মুখোমুখি হয়েছিলাম, আর জার্সি চেয়েছিলাম, সে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়েছিল। দ্বিতীয়বার যখন চাইলাম, তখনো কোনো সমস্যা ছাড়া জার্সি দিয়েছিল। সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েই সে আমার জার্সিটাও চেয়ে নিয়েছিল।’

default-image

প্রথম দুবার সমস্যা না হলেও তৃতীয়বার একটু ঝামেলায় পড়েছিলেন রামি। মাঠে ভয়ংকর লড়াকু রোনালদো কখনো হারতে পছন্দ করেন না। কিন্তু এক ম্যাচে রামির দলের কাছে হেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সে ম্যাচেও জার্সি চেয়েছিলেন রামি। সেদিন অবশ্য আগের মতো অত সহজে জার্সি বুঝে পাননি রামি। আরএমসিকে বলেছেন, ‘ম্যাচ চলার সময়ই জার্সি চেয়ে রেখেছিলাম। সে হেসে ফেলল আর বলল আর কত? তারপরও সে আমাকে জার্সি দিতে রাজি হলো। ম্যাচ শেষে আমি তার কাছে কিছু চাইনি (হেরে যাওয়ায়) এবং দেখলাম রেগেমেগে ড্রেসিংরুমে যাচ্ছে। হঠাৎ সে ফিরে তাকাল এবং আমাকে ডাকল। কাছে এসে নিজের জার্সি খুলে দিল এবং আমি জার্সি খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করল। তারপর আমাকে শুভকামনা জানিয়ে চলে গেল। কী মার্জিত আচরণ!’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0