default-image

উচ্চতা ২৩ ইঞ্চি। ২২ ক্যারেটের ২০ ভরি সোনা। বাফুফের কর্মীরা নিজেরা উপস্থিত থেকে নাকি এটি বানিয়েছেন। কোনো ফাঁকি যাতে না থাকে। খরচ ১২ লাখ টাকা। দুই দিকের পাতের ওপরে রাখা বলটার উচ্চতা ৮ ইঞ্চি। পুরোপুরিই সোনালি। ট্রফিটা বাংলাদেশেই থাকবে। গোটা দেশ আসলে ওই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই নিঃশ্বাস ফেলছে। দেশের ফুটবলে একটা আন্তর্জাতিক ট্রফি যে ভীষণ দরকার।
জাতীয় দল সর্বশেষ ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে সাফ ফুটবল জিতেছিল। এক যুগ পর আরেকটা ট্রফি হাতে তোলার অপেক্ষা। দিনটা প্রাপ্তির হাতছানি নিয়েই যেন দুয়ারে দাঁড়িয়ে হাসছে। আহ্, একটা সোনালি ট্রফি!
এই ট্রফিটা জয়ের সামর্থ্য বাংলাদেশের আছেও। ভালো খেলার ধারাবাহিকতাই এখন ধরে রাখার পালা। লাল-সবুজের দল যা দেখাতে শুরু করেছে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনাল উঠে। এরপর থাইল্যান্ডকে চমকে দিয়ে ফাইনাল। গত দুটি ম্যাচের দুরন্ত বাংলাদেশের সামনে মালয়েশিয়ার যুব দল বাধা হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু একটা সত্য আড়ালে মিটিমিটি হাসছে। মালয়েশিয়ার এই দলটির কাছেই হার দিয়ে বঙ্গবন্ধু কাপ শুরু বাংলাদেশের। সিলেটের সেই ম্যাচে প্রথম ৩০ মিনিট অগোছালো ছিল স্বাগতিকেরা। আস্তে আস্তে খেলাটা ধরলেও গোল খেয়ে আর ফিরতে পারেনি। শেষ লড়াইয়ে আবার মালয়েশিয়াকে পাওয়ার অর্থ, বাংলাদেশের জন্য এটি প্রতিশোধেরও ম্যাচ।
প্রতিশোধ শব্দটা ঘুরেফিরে আসছেই। বাংলাদেশ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ কাল সংবাদ সম্মেলনে সরাসরিই বললেন, ‘অবশ্যই ফাইনালে বদলা নিতে চাইব। বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক ক্ষণ। অনন্য একদিন। কিছু পাওয়ার সুযোগ সামনে। প্রতিশোধ নেওয়াই এই দিনে সবচেয়ে জরুরি।’
অধিনায়ক মামুনুল ইসলামও প্রতিশোধের নেশায় বুঁদ। বুঁদ গোটা দলই। সবাই উন্মুখ ফুটবলে একটা বর্ণিল মুহূর্ত আঁকতে। মাঠের যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে তৈরি মামুনুলও, ‘প্রতিশোধ, বদলা শব্দগুলো অবশ্যই আমাদের মনে ফিরে আসছে। ফাইনাল জিতে ট্রফি জয়ের আনন্দে ভরাতে চাই সবাইকে।’

default-image


শ্রীলঙ্কার পর থাইল্যান্ড ম্যাচেও দারুণ নৈপুণ্য, বাংলাদেশ আশাবাদী তো হবেই। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থন একটা বড় ব্যাপার। কিন্তু ফাইনাল মানে স্নায়ুর লড়াইও। বিরাট প্রত্যাশা, দর্শক সমর্থন চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেসবের গেরোয় আটকে ফাইনাল সব সময় আকর্ষণের উচ্চমাত্রায় পৌঁছায় না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ফাইনালটা আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর হবে!
দুই নেপথ্য নায়কের মুখে সেই প্রতিশ্রুতি। ডি ক্রুইফ যেমন বললেন, ‘অবশ্যই চিত্তাকর্ষক ফাইনাল হবে। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাইবে দুই দল।’ মালয়েশিয়ার কোচ রাজিপ ইসমাইলেরও একই উচ্চারণ, ‘খুবই জমাট ও উপভোগ্য ম্যাচ দেখবে দর্শকেরা। তেমন ফুটবল খেলতে আমরা তৈরি।’
বাংলাদেশকে তাই সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে। কিন্তু সাত দিনে তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা দল একটু অবসাদে ভুগতেই পারে! সেমিফাইনালের পর মাত্র এক দিনের বিরতি। খেলোয়াড়েরা শারীরিকভাবে কতটা ধকল নিতে পারেন সেই প্রশ্ন আসছেই। বাংলাদেশ কোচও এসব মানছেন। তবে এমন দিনে এটা সমস্যা হবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস। অধিনায়কের কণ্ঠও বেশ দৃঢ়, ‘১৭ কোটি মানুষের জন্য খেলব, কিসের অবসাদ, কিসের কী!’
অধিনায়কের মতোই কথা! এই ইস্পাতকঠিন মনোবলই বাংলাদেশের বড় শক্তি। কিন্তু মালয়েশিয়াকে হারানো নিশ্চয়ই সহজ নয়। একঝাঁক নবীন মেধাবী ফুটবলারের সমাহার এই দলে। একসঙ্গে ওঠা-নামা করে। আক্রমণে বৈচিত্র্য আছে। থাইল্যান্ডের মতোই দ্রুত এবং নির্ভুল পাস খেলতে অভ্যস্ত। টিটি-টাকার ছোঁয়া আছে। বাংলাদেশ কোচও ব্যাপারটা লক্ষ করেছেন, ‘ওরা টিকি-টাকা ফুটবল খেলবে, এটা আমরা জানি।’
বাংলাদেশের বড় কাজ তাই মালয়েশিয়াকে খেলতে না দেওয়া। থাইল্যান্ডের সঙ্গে যেটি তারা পেরেছে। এ ক্ষেত্রে বড় সুবিধা, মালয়েশিয়া এই টুর্নামেন্টে আগের তিনটি ম্যাচই খেলেছে সিলেটে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ঘাসের সঙ্গে পরিচয় আজই প্রথম। স্বাগতিক দর্শকও একটা চাপ।
এটা আবার সুবিধা মালয়েশিয়ার জন্যও। নির্ভার হয়ে খেলার প্রতিশ্রুতিই দিলেন দলটির অধিনায়ক নাজিরুল নাইম। অনেকেরই অভিন্ন মত, স্থানীয় দর্শক দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকা নেবেন বাংলাদেশের পক্ষে। খেলোয়াড়দের দায়িত্ব তাতে ঘাবড়ে না গিয়ে ট্রফি জয়ের আনন্দ ফিরিয়ে আনা। সবার শুভকামনা সঙ্গী, আজ হোক লাল-সবুজের জয়ের দিন!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন