বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তুরিনে নেশনস লিগের সেমিফাইনালের পর দেশমের সঙ্গে দ্বিমত পোষণের লোক খুব কমই মিলবে। ৪০ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ফ্রান্স। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর রোমাঞ্চকর গল্পের জন্ম দেন করিম বেনজেমা, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও থিও হার্নান্দেজ।

তিনজনের গোলে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয়ে নেশনস লিগের ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স।

default-image

৩-৪-৩ ছকে দুই দলই আক্রমণাত্বক ফুটবল খেলেছে। প্রীতি ম্যাচগুলোকে নেশনস লিগের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রুপান্তর করার চেষ্টার স্বার্থক প্রয়োগ ঘটেছে এ ম্যাচে। ৩৭ মিনিটে ফরাসি গোলকিপার হুগো লরিসকে বোকা বানিয়ে গোল করেন বেলজিয়াম তারকা ইয়ানিক কারাসকো।

এর ৩ মিনিট পর ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজকে ছিটকে ফেলে কামান দাগেন রোমেলু লুকাকু। বেলজিয়াম স্ট্রাইকারের গতিময় শট ঠেকাতে পারেননি লরিস।

প্রথমার্ধের এই স্কোর ফ্রান্সের ভালো খেলার পক্ষে সাক্ষ্য দেয় না। কিন্তু আক্রমণভাগে দারুণ খেলেছেন ফরাসি 'ত্রয়ী' বেনজেমা, এমবাপ্পে ও আঁতোয়ান গ্রিজমান। বিশেষ করে এমবাপ্পে। গতি ও কৌশলে বেলজিয়ান রক্ষণে ত্রাসের সঞ্চার করেন।

৬২ মিনিটে বেনজেমার গোলের উৎসও এমবাপ্পে। ৭ মিনিট পরই পেনাল্টি পায় ফ্রান্স।
বেলজিয়ান মিডফিল্ডার ইউরি তিয়েলম্যানসের ফাউল রেফারি প্রথমে নাকচ করে দিলেও ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সিদ্ধান্ত পাল্টেছেন। আগের ৬ ম্যাচে গোল না পাওয়া এমবাপ্পে ফ্রান্সকে সমতায় ফেরাতে ভুল করেননি।

default-image

কিন্তু ৮৭ মিনিটে আবারও পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা পেয়ে বসেছিল ফ্রান্সকে। কারাসকোর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন লুকাকু। বেলজিয়াম শিবিরে তখন ম্যাচ জয়ের উল্লাস। কিন্তু ভিএআর প্রযুক্তি অফ সাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেয়। নাটকের তখনো শেষ অংশ বাকি। এই ৩ মিনিটের মধ্যেই পল পগবার শট বেলজিয়ামের পোস্টে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ঠ হয়। শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিটে থিও হার্নান্দেজের গোলে রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নেয় ফ্রান্স।

এই হারে ছিটকে পড়া বেলজিয়ামের 'সোনালি প্রজন্ম' নিয়ে হতাশা আরও বাড়ল সমর্থকদের। গত বিশ্বকাপ এবং ইউরোর পর নেশনস লিগেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলেন লুকাকু-হ্যাজার্ডরা।

জয়ের পর ফ্রান্স কোচ দেশম বলেন, 'ইউরোর শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিলেও ফ্রান্স দল এখনো ভালোভাবেই টিকে আছে। ফিনল্যান্ড এবং বেলজিয়ামের মতো সেরাদের বিপক্ষে তা প্রমাণ করেছি। আমরা এখনো সেরা দলগুলোর কাতারেই আছি।'

দেশম জানালেন ফ্রান্স কোচ হিসেবে এটি তাঁর অন্যতম সেরা ম্যাচ, 'প্রতিপক্ষের মান এবং খেলার ধাঁচ বিবেচনায় এটি আমার অন্যতম সেরা ম্যাচ।'

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন