হারের হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরছেন বেনজেমারা।
হারের হতাশা নিয়ে ঘরে ফিরছেন বেনজেমারা। ছবি: এএফপি

জিনেদিন জিদান ডাগআউটে ফিরতে পারেননি এখনো। তাঁকে ছাড়াই আলাভেসের মাঠে ৪-১ গোলের জয় তুলে নিতে পেরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে আপাতত মাঠের বাইরে থাকায় রিয়াল মাদ্রিদ কোচকে আজও বাসা থেকেই খেলা দেখতে হয়েছে। সেখানে বসেই দেখলেন দলের সর্বনাশ। লাল কার্ডের রেকর্ড গড়া এক ম্যাচ দেখতে হলো রিয়ালকে। সে রেকর্ডের সঙ্গে হারের দুঃখ তো আছেই।

ঘরের মাঠে লেভান্তের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে রিয়াল। প্রথমার্ধে এদের মিলিতাওর লাল কার্ডের দায় মিটিয়ে দলটি ঘরের মাঠে চার ম্যাচ পর পয়েন্ট খোয়াল। এ হারে পয়েন্ট টেবিলে তাদের ধরে ফেলার সম্ভাবনা জেগেছে বার্সেলোনার। আগামীকাল নিজেদের ম্যাচ জিতলেই পয়েন্টে রিয়ালের পাশে চলে যাবে কাতালানরা। ওদিকে শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর চেয়ে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে রিয়াল। আতলেতিকোর হাতে আছে আরও দুই ম্যাচ।

বিজ্ঞাপন
default-image

আগের ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছিলেন এডেন হ্যাজার্ড। হ্যাজার্ড, বেনজেমাদের আলোতে প্রতিপক্ষের মাঠে বহুদিন পর চার গোল দেওয়ার স্বাদ নিয়ে আজ মাঠে নামা রিয়ালের অস্বস্তিও অবশ্য কম ছিল না। অধিনায়ক সের্হিও রামোস নেই বেশ কদিন ধরেই। রাইটব্যাক দানি কারভাহালও চোটের সঙ্গে লড়ছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে এত দিন কাজ চালিয়েছেন উইঙ্গার লুকাস ভাসকেজ। ভাসকেজও চোটের কাছে হার মেনেছেন।

অবশেষে তাই সুযোগ মিলল আলভারো অদ্রিওসোলার। আর তাঁর ভুলেই গোল খেল রিয়াল। ডান পোস্টে মোরালেসের পাহারায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু দায়িত্ব ভুলে মাঝে চলে এলেন। মিনিটে মিরামনের ক্রস ফাঁকায় পেয়ে গেল মোরালেসকে। দুর্দান্ত এক গোলে দলকে সমতায় ফেরালেন মোরালেস।

অবশ্য গোলের সৌন্দর্যের দিক থেকে আসেনসিওর গোলের কথা না বললে ভুল হবে। ১২ মিনিটে আক্রমণে উঠেছিল লেভান্তে। মেন্দি ক্রস ক্লিয়ার করায় সে বল ক্রুসের পায়ে এল। নিজেদের বক্সের সামনে বেনজেমার পা ঘুরে বল আবার ক্রুসের কাছে যেতেই পায়ের বাইরের দিকটা ব্যবহার করে দুর্দান্ত এক থ্রু বল পাঠালেন জার্মান মিডফিল্ডার। মাঝমাঠ পেরিয়ে সে বলের নাগাল পাওয়া মার্কো আসেনসিও সে বল নিয়ে ছুট লাগালেন। লেভান্তে বক্সে গিয়ে ডান পায়ের এক শটে ম্যাচে এগিয়ে দিলেন ১০ জনের রিয়ালকে।

default-image

হ্যাঁ, ম্যাচের বয়স ১০ মিনিট হওয়ার আগেই ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিল রিয়াল। রামোসের চোটের কারণে এই প্রথম টানা তিন ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন এদের মিলিতাও। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার আট মিনিটে সের্হিও লিওনকে আটকাতে গিয়ে সরাসরি লাল কার্ড পেয়ে বসেন। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সেটা লাল কার্ড বলে জানিয়ে দিয়েছে। রিয়ালের ইতিহাসে গোলরক্ষক বাদে অন্য কারও দ্রুততম লাল কার্ডের রেকর্ড!

২৭ মিনিটে আসেনসিও রিয়ালের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে শেষ মুহূর্তে গুবলেট করে ফেলেছেন এই উইঙ্গার বাড়তি একজন খেলোয়াড় থাকার সুবিধাটা ৩১ মিনিটে কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরে লেভান্তে। আর প্রথমার্ধে তাদের এগিয়ে যাওয়া আটকেছেন থিবো কোর্তোয়া। একের পর এক সেভ করে রিয়ালকে ম্যাচে ধরে রেখেছেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।

বিজ্ঞাপন
default-image

দ্বিতীয়ার্ধে লেভান্তেই দাপটে শুরু করেছিল। একজন খেলোয়াড় কম থাকার ধকল টের পাওয়া যাচ্ছিল রিয়ালের খেলায়। বিপদ বাড়ে ৫৮ মিনিটে হ্যাজার্ড উঠে যাওয়ার পরপরই। ৬২ মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে পেনাল্টি দিয়ে বসেন হ্যাজার্ডের বদলি নামা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এবারও ভিএআর রিয়ালের কপাল পুড়িয়েছে। প্রথমে রেফারি ফ্রি–কিক দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআর সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে আবার।

৬৩ মিনিটে সে পেনাল্টি ঠেকিয়ে আবার দলের ত্রাতারূপে হাজির হলেন কোর্তোয়া। কিন্তু রিয়ালের সর্বনাশ ঠেকাতে পারেননি। ৭৮ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া রোসার নিজের প্রায়শ্চিত্ত করলেন। রিয়াল রক্ষণের ভুল কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দিলেন এই স্ট্রাইকার। সেটাই জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হলো শেষ পর্যন্ত।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন