ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রেফারি মাইক ডিন
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রেফারি মাইক ডিনছবি: টুইটার

লাল কার্ড দেখানোয় সম্ভবত একটু বেশি–ই হাত চলে মাইক ডিনের। এই তো দুই বছর আগে, মলিনুতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–উলভহ্যাম্পারটন ম্যাচে অ্যাশলি ইয়াংকে দেখানো লাল কার্ডটা ছিল তাঁর প্রিমিয়ার লিগ রেফারিং ক্যারিয়ারে ১০০তম।

প্রথম রেফারি হিসেবে মাইলফলকটি গড়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে ডিনের হয়তো গর্ব হতে পারে। মাঠে নিয়ম–শৃঙ্খলা ধরে রাখার চেষ্টার পরাকাষ্ঠা দেখানোয় গর্বে তাঁর বুকের ছাতি ফুলে উঠতে পারে।

কিন্তু অনেকের কাছে তা ভালো না–ও লাগতে পারে। আর সে জন্য মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন ইংলিশ ফুটবলে খ্যাতিমান এ রেফারি।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্টহাম ইউনাইটেড–ফুলহাম ম্যাচে ওয়েস্টহামের টমাস সুচেককে বিতর্কিতভাবে লাল কার্ড দেখান ডিন।

ফ্রি–কিক নেওয়ার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ফুলহাম স্ট্রাইকার আলেক্সান্দার মিত্রোভিচের মুখে টমাসের কনুইয়ের গুঁতা লাগে।

ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নিয়ে তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে তোপের মুখে পড়েছিলেন ডিন। এর চার দিন আগে ইউনাইটেডের ৯–০ গোলে হারের ম্যাচে সাউদাম্পটনের ইয়ান বেদনারেককেও বিতর্কিতভাবে লাল কার্ড দেখান ৫২ বছর বয়সী এ রেফারি। আপিল করে এ দুটি সিদ্ধান্তেই শাস্তি প্রত্যাহার করিয়েছে ফুলহাম ও সাউদাম্পটন।

এরপর থেকেই অনলাইনে মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছেন ডিন। তাঁর পরিবারকেও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ডিন এই হুমকির খবর জানিয়েছেন পুলিশকে।

এফএ কাপে কাল লেস্টার–ব্রাইটন ম্যাচ তাঁর পরিচালনা করার কথা। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগে এ সপ্তাহে তাঁকে কোনো ম্যাচ পরিচালনা করতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টারস বলেন, ‘মাইক ও তাঁর পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে এবং এতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এটা আবারও বুঝিয়ে দিল নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্ত হতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই খেলোয়াড়, স্টাফ ও রেফারিদের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।’

default-image

ডিন ও তাঁর পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি ওয়েস্টহামের টমাস সুচেকের কান পর্যন্তও পৌঁছায়। সুচেকও দাঁড়িয়েছেন ডিনের পাশে।

মাঠের ঘটনা মাঠেই থাকা উচিত জানিয়ে কাল রাতে টুইট করেন চেক প্রজাতন্ত্রের এই মিডফিল্ডার, ‘মাঠে যে সিদ্ধান্ত–ই হোক, সেটা মাঠেই থাকা উচিত। কারও ব্যক্তিগত জীবনে অনুপ্রবেশ আমার অপছন্দ এবং মাইক ডিন ও তাঁর পরিবারের পাশে আছি আমি। এ ধরনের আচরণের কোনো জায়গা নেই।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন