করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত মৌসুমে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলতে হয় লা লিগার ক্লাবগুলোকে। ‘ম্যাচ ডে’ থেকে আয় প্রায় হয়নি বললেই চলে। দলবদলের বাজারও সেভাবে সরগরম ছিল না।

এর পাশাপাশি সম্প্রচারস্বত্ব থেকে আয় কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবেও আয় কমেছে ক্লাবগুলোর। এসব বিষয় প্রভাব রেখেছে গত মৌসুমে লা লিগার এই বড় অঙ্কের লোকসানে। প্রতিযোগিতাটির এই লোকসানে বার্সার ‘অবদান’ হিসাব করা হয়েছে কর ছাড়া।

default-image

২০১৯-২০ মৌসুমে যে রাজস্ব আয় করেছে লা লিগা, সেখান থেকে পরের মৌসুমে (২০২০-২১) প্রায় ২৪.১ শতাংশ আয় কমেছে। প্রায় ৩৮১ কোটি ইউরো রাজস্ব আয় করেছে লা লিগা ২০২০-২১ মৌসুমে। ২০১৯-২০ মৌসুমেও করোনাভাইরাসের প্রকোপ ছিল, তবে সেটি শেষ কয়েক মাসের জন্য। তার আগে সে মৌসুমে স্বাভাবিক নিয়মেই লা লিগার খেলাগুলো চলেছে।

প্রতিবেদনে প্রকাশ, লা লিগার ক্লাবগুলোর মোট দেনার পরিমাণ প্রায় ১৭ বিলিয়ন (১৭১ কোটি) থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ইউরোয় (১৯৪.৬ কোটি)। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ দেনার দায় বার্সার। ক্লাবগুলোর মোট দেনা বৃদ্ধির পরিমাণ ২৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরো।

তবে আগামী দুই মৌসুমের মধ্যে এই আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চায় লা লিগা কর্তৃপক্ষ, ‘আর্থিক ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং ক্লাবগুলোর নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে সচেতনতা স্পেনের পেশাদার ফুটবলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। ২০২১-২২ মৌসুমে লোকসান ভালোভাবে পুষিয়ে নেওয়ার আশা করা হচ্ছে। ২০২৩-২৪ মৌসুম থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।’

কাদেনা কোপ জানিয়েছে, ২০২০-২১ মৌসুমে প্রায় ৫০ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা প্রায়) আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় বার্সা। এ কারণেই সে মৌসুমে লা লিগার লোকসানের অঙ্ক গিয়ে ঠেকেছে ৯০ কোটি ইউরোয়।

default-image

তবে কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ২০২০-২১ মৌসুমে লা লিগার আর্থিক লোকসানের পরিমাণ ৮৯ কোটি ২০ লাখ ইউরো, আর সে মৌসুমে বার্সা লোকসান গুনেছে ৪৮ কোটি ১০ লাখ ইউরো—এই হিসাবে ২০২০-২১ মৌসুমে লা লিগার লোকসানে বার্সার দায় ৫৬ শতাংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

৫৬ শতাংশ ও ৬০ শতাংশের মধ্যে পার্থক্য কিন্তু সামান্যই।

আর্থিকভাবে ভীষণ বাজে সময় পার করছে বার্সা। কিছুদিন আগে দলটির কোচ জাভি হার্নান্দেজ স্বীকার করেন, আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থার জন্যই আর্লিং হরলান্ডকে কেনার দৌড়ে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে পিছিয়ে পড়ে কাতালান ক্লাবটি।

২০২০ সালে জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউয়ের ক্লাবটির সভাপতির দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল কোষাগারে অর্থের সংকট। প্রত্যাশিত বেতন দিতে না পারায় গত বছর আগস্টে ক্লাবের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকেও ছাড়তে বাধ্য হয় বার্সা।

default-image

ক্লাবটির বর্তমান সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা গত সেপ্টেম্বরে জানান, বার্সার আর্থিক দেনার পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি ইউরো। আর ক্লাবের আয়ের তুলনায় বেতন দেওয়ার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩ শতাংশ—অর্থাৎ, ক্লাব ১০০ টাকা আয় করলে বেতনের পেছনে খরচ হচ্ছে ১০৩ টাকা। যে কারণে দেনার দায়ে ডুবতে বসার অবস্থা হয়েছিল ক্লাবটির।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন