default-image

সিটি কোচ কাল ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন, ‘রুবেন (দিয়াস), কাইল (ওয়াকার) আর জনকে (স্টোনস) মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য পাচ্ছি না।’ আগামী মাসে নিজেদের জাতীয় দলের হয়েও তিনজন খেলতে পারবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন গার্দিওলা। সিটির জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা, আরেক সেন্টারব্যাক নাথান আকের আগে থেকেই অ্যাঙ্কেলে চোট। গতকাল নিউক্যাসলের বিপক্ষে বেঞ্চে ছিলেন তিনি, কিন্তু তাঁকে মাঠে নামাননি গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার শহরের পত্রিকা ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজ লিখেছে, আকেকে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও পাবে না সিটি।

নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে সেন্টারব্যাক রুবেন দিয়াসকে উঠিয়ে ৩৭ বছর বয়সী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফার্নান্দিনিওকে নামান গার্দিওলা। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ খেলে সিটিকে ভরসা জুগিয়েছেন বটে ফার্নান্দিনিও, কিন্তু তাঁর ওপরই কি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ভরসা করতে হবে গার্দিওলাকে? গতকাল ম্যাচে ফার্নান্দিনিওর পারফরম্যান্স কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, প্রশ্নে গার্দিওলার উত্তর, ‘অনেক। নাহলে সিজে (এগা-রাইলি) বা (লুক) এমবেতেকে নামাতে হতো।’ তরুণ দুই সেন্টারব্যাকের মধ্যে এগা রাইলিকে অবশ্য পরে নামিয়েছেন গার্দিওলা।

default-image

তবে রক্ষণে এমন সমস্যা নিয়েও ভাবছেন না গার্দিওলা। অন্তত সংবাদমাধ্যমে তা-ই বললেন, ‘এটা কোনো সমস্যা নয়। (ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার) রদ্রি ওখানে খেলতে পারবে। একাডেমিতে আমাদের তরুণ খেলোয়াড়েরা আছে। ফার্নান্দিনিও আজ ভালো করেছে, আমরা ঠিকই কিছু একটা করব।’

লিগে ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচ বাকি আর তিনটি। উলভস, ওয়েস্ট হাম ও অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে সেই তিন ম্যাচে তিন প্রধান সেন্টারব্যাককে ছাড়া কীভাবে নামবেন গার্দিওলা, এ ভেবে যদি সিটি সমর্থকদের মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার দশা হয়, সে ক্ষেত্রে উত্তর হতে পারে গার্দিওলার কথাই, ‘আমাদের এখনো জোয়াও (কানসেলো), ওলেকস (জিনচেঙ্কো), এমের (লাপোর্ত) ও ফার্নান্দিনিও আছে।’

তবে সিটির রক্ষণের এই অবস্থা শিরোপাদৌড়ে লিভারপুলের জন্য আশার বাণী বলেই মনে হচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার ও বর্তমানে ফুটবল বিশেষজ্ঞ গ্যারি নেভিলের। স্কাই স্পোর্টসের পডকাস্টে নেভিলের বিশ্লেষণ, ‘দিয়াস চোটে পড়েছে, আর এ অবস্থায় ওরা এমন কিছু দলের মাঠে খেলতে যাচ্ছে, যারা ম্যান সিটিকে কীভাবে ভোগাতে হয়, সেটি জানে। আমার খুব করে মনে হয়, উলভস বা ওয়েস্ট হাম ওদের ভড়কে দেবে। দুটি দলেরই মৌসুম দারুণ কেটেছে।’

আর সেখানেই লিভারপুলের আশা দেখেন নেভিল, ‘সিটির সেন্টারব্যাকে জুটির সমন্বয় শেষ হয়ে গেছে, ওদের এখন নিজেদের সেরা ছন্দে থাকতে হবে। ওদের চোটের সমস্যা লিভারপুলের সম্ভাবনা বাড়াবে। আমার এখনো মনে হচ্ছে শিরোপাদৌড়ে এখনো একটা মোড় বাকি আছে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু এভাবে একেবারে সরলভাবে চলবে না।’

সিটি-লিভারপুলের অবস্থা 

লিগে তিন ম্যাচ বাকি। সিটি ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, লিভারপুলের পয়েন্ট ৮৩। অর্থাৎ সিটি বাকি তিন ম্যাচের দুটিতে জিতে একটিতে ড্র করলেও শিরোপা তাদের ঘরেই যাবে। লিভারপুলের আশা বেঁচে থাকবে তখনই, যদি সিটি অন্তত একটা ম্যাচে হারে বা দুটি ম্যাচে পয়েন্ট হারায়।

দুই দলের পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধান একটা বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে। গতকাল নিউক্যাসলকে গোলে ভাসিয়ে গোল ব্যবধানেও লিভারপুলের চেয়ে এগিয়ে গেছে সিটি। লিভারপুলের গোল ব্যবধান (+) ৬৪, সিটির (+) ৬৮। সিটি একটা ম্যাচে হেরে বাকি দুই ম্যাচে জিতলেও লিভারপুলকে শিরোপা জিতলে হলে বাকি তিন ম্যাচে জিততে হবে বড় ব্যবধানে।

বাকি তিন ম্যাচ

ম্যান সিটি: উলভস (অ্যাওয়ে), ওয়েস্ট হাম (অ্যাওয়ে), অ্যাস্টন ভিলা (হোম)
লিভারপুল: অ্যাস্টন ভিলা (অ্যাওয়ে), সাউদাম্পটন (অ্যাওয়ে), উলভস (হোম)।
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন