সালাহ-ব্রুনোর লড়াইয়ে জেতেননি কেউই।
সালাহ-ব্রুনোর লড়াইয়ে জেতেননি কেউই।

ম্যাচ তখন শেষের দিকে। ডান প্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সের মধ্যে হুট করে ঢুকে গেলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা। শট নেওয়ার জন্য বেশ ভালো সময় পেলেন। কিন্তু সামনে যে আলিসন বেকার ছিলেন! লিভারপুলের এই ব্রাজিলীয় গোলরক্ষক দলকে বাঁচালেন বুক চিতিয়ে। তাঁর কিছুক্ষণ আগেই একইভাবে দলকে নিশ্চিত গোল খাওয়া থেকে বাঁচিয়েছিলেন এই তারকা, তখন খালি হাতে ফিরেছিলেন ইউনাইটেডের পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেস।

সেন্টারব্যাকহীন লিভারপুলের রক্ষণভাগকে এভাবেই বারবার বাঁচিয়েছেন আলিসন। আর তাতেই রক্ষা পেয়েছে নিজেদের মাঠে লিগে প্রায় চার বছর ধরে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা। সেটা রক্ষা পেলেও তিন পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠা হয়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। ওদিকে ড্র হলেও লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান হারায়নি ইউনাইটেড। ফলে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে এক পয়েন্ট পেলেও ইউনাইটেড যে খুব বেশি চিন্তিত, বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এক ব্রাজিলীয় যেখানে লিভারপুলকে বারবার বাঁচিয়েছেন, আরেক ব্রাজিলীয় খেলোয়াড়ের জন্য পুরো তিন পয়েন্ট পকেটে পোরা হয়নি অল রেড দের। তিনি দলের স্ট্রাইকার রবার্তো ফিরমিনো। দুই অর্ধ মিলিয়ে অন্তত তিনটা সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন গোল করার জন্য, কোনো কোনো সময়ে তো গোল করার জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো পজিশনে থাকা সতীর্থকে পাস দিতেও ভুলে গেছেন। আর সেটারই মাশুল আরেকটু হলে লিভারপুল দিচ্ছিল ম্যাচ হেরে।

default-image

বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল লিভারপুল। ম্যাচের ৬৬ শতাংশ সময় দলটার পায়ে বল থাকলেও আক্রমণভাগের ব্যর্থতার কারণে গোল আসেনি। ওদিকে ৩৪ শতাংশ বলের দখল থাকলেও লিভারপুলের ভঙ্গুর রক্ষণভাগের সামনে ইউনাইটেড যখনই বল পেয়েছে, মনে হয়েছে, কিছু করে বসতে পারে দলটা। কিন্তু শেষমেশ মার্কাস রাশফোর্ড, অ্যান্থনি মার্সিয়াল, ব্রুনো ফার্নান্দেসরাও গোলমুখের সামনে এসে ভুগেছেন সিদ্ধান্তহীনতায়, সঙ্গে আলিসনের বীরত্ব তো ছিলই।

ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে সাত গোল করা দলটা লিগের পরের চার ম্যাচে যেন গোল করা ভুলেই গেছে। সালাহ-মানে-ফিরমিনোরা মিলে এই চার ম্যাচে ৬২ শট মেরে গোল পেয়েছেন একটি। লিগে টানা তিন ম্যাচ গোলহীন লিভারপুল, ২০০৫ সালের মার্চের পর গোলের সামনে এমন হতশ্রী দশায় পড়েনি দলটা। ওদিকে প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে এই নিয়ে টানা ১৬ ম্যাচ অপরাজিত ইউনাইটেড। সবশেষ সেই ১৯৯৯ সালে টানা ১৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকেছিল দলটা।

default-image

১৮ ম্যাচ শেষে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সমান ম্যাচ খেলে তিন পয়েন্ট কম নিয়ে লিভারপুল আছে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে। ওদিকে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি। দুটি গোল করেছেন ইংলিশ ডিফেন্ডার জন স্টোনস, একটি করে গোল ইংলিশ উইঙ্গার রহিম স্টার্লিং ও জার্মান মিডফিল্ডার ইলকায় গুনদোয়ানের।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন