এ মৌসুমের নিয়মিত দৃশ্য।
এ মৌসুমের নিয়মিত দৃশ্য।ছবি: রয়টার্স

পুরো মৌসুমে এই চিত্রনাট্য অনেকবারই দেখিয়েছে লিভারপুল। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে আজও সেই চিত্রনাট্য দৃশ্যায়ন হলো। কুশীলবও পুরোনো—মোহাম্মদ সালাহ, সাদিও মানে, দিয়েগো জোতা, ফিরমিনো। একের পর এক সুযোগ সৃষ্টি করেছে লিভারপুল, অবিশ্বাস্যভাবে হেলায় সুযোগ হারিয়েছে, দলকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর একদম শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষ গোল করে লিভারপুলের হতাশা বাড়িয়েছে।

অ্যানফিল্ডে আজও তাই হলো। মাত্র ৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়া লিভারপুল পুরো ম্যাচে অন্তত ছয়-সাতটি গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে। সেই দল ৯৫ মিনিটে গোল হজম করে খুইয়েছে ২ পয়েন্ট। ইউরোপিয়ান সুপার লিগে নাম লেখানোয় গত ম্যাচে লিডস ইউনাইটেডের খেলোয়াড়েরা লিভারপুলের সামনে গা গরম করেছিল ‘অর্জন কর’ লেখা টি–শার্ট পরে। টানা দুই ম্যাচ ড্র করা লিভারপুল এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন নিয়ে আসলেই চিন্তায় পড়ে গেছে।

যেসব দল ইউরোপিয়ান সুপার লিগ খেলতে চেয়েছে, তাদের শাস্তি দেওয়ার কথা ভাবছে উয়েফা। এমনকি আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ দেওয়ার চিন্তাও আছে সে শাস্তির তালিকায়। ১-১ গোলে শেষ হওয়া ম্যাচের পর লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেই দিয়েছেন, যেভাবে খেলছে তাঁর দল, তাতে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার যোগ্য না তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথমার্ধেই অন্তত চার-পাঁচ গোলে এগিয়ে যেতে পারত লিভারপুল। তিন মিনিটে দারুণ এক শটে জটলার মধ্য থেকে গোল বের করে এনেছেন সালাহ। কিন্তু সেই সালাহ এরপর একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন। সুযোগ নষ্টে মানে-জোতারাও খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না। একের পর এক এভাবে সুযোগ নষ্ট করা লিভারপুলকে এর প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়েছে নিউক্যাসল। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই সমতা ফিরিয়েছিলেন উইলসন। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সেটা বাতিল করে দিয়েছেন।

নতুন করে জীবন পাওয়া লিভারপুল কিন্তু পার পায়নি। ম্যাচের একদম শেষ শটেই লিভারপুলের হতাশা বাড়িয়ে সমতা ফিরিয়েছেন জো উইলক। টানা দুই ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে আপাতত লিগে ছয়ে আছে লিভার। তিন, চার ও পাঁচে থাকা লেস্টার সিটি, চেলসি ও ওয়েস্টহামের হাতে বাড়তি এক ম্যাচ থাকায় ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে। এমনকি আটে থাকা এভারটনের পক্ষেও সম্ভব হাতে থাকা ম্যাচে জয় পেয়ে তাদের টপকে যাওয়া।

এ অবস্থায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কথা চিন্তা করা কঠিন। সেরা চার দলের মধ্যে থাকার চিন্তা আপাতত দূরে রাখছেন ক্লপ, ‘আমরা দারুণ এক গোল করেছি কিন্তু ম্যাচটা শেষ করিনি। খুব ভালো খেলিনি। প্রতি–আক্রমণ হতেই পারে, কিন্তু আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, বল পায়ে রাখতে হবে এবং ওদের দৌড়ের ওপর রাখতে হবে। আমরাই ওদের আশা বাঁচিয়ে রেখেছি এবং ওদের এ গোল প্রাপ্য। ওরা এর আগেই একটা গোল করেছে, কিন্তু উইলসনের দুর্ভাগ্য সেটা হ্যান্ডবল ছিল। আমরা এই উপহারটাও (গোল বাতিল) নিতে পারিনি। এটা মানা কঠিন।’

default-image

এরপরই আগামী মৌসুমে লিভারপুলের চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন ক্লপ। জার্মান কোচের পরিষ্কার জবাব, যেভাবে খেলছেন সেটা মেনে নেওয়া কঠিন, ‘ওরা (নিউক্যাসল) লড়াই করেছে এবং আমরা কিছুই পায়নি একটি পয়েন্ট ছাড়া। আমার কাছে এটা হারের মতো মনে হচ্ছে। আপনার যদি প্রাপ্য হয়, তাহলেই সেটা আপনার প্রাপ্য। আজ যেভাবে খেলেছি, আগামী বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা প্রাপ্য না।’

আজ ২২টি শট নিয়েছে লিভারপুল। এর মধ্যে ৯টিই ছিল গোলে। কিন্তু গোলকিপারকে ফাঁকি মাত্র একবারই দিতে পেরেছেন সালাহরা। তাই সব দায় নিজেদের ঘাড়েই নিচ্ছেন ক্লপ, ‘আমরা দারুণ কিছু সুযোগ সৃষ্টি করেছি, বেশ ভালো খেলেছি কখনো। বক্সের আশপাশে ৮–৯ জন রেখে জমাট রক্ষণ বেঁধে খেলা এক দলের বিপক্ষে এসব মুহূর্তে গোল বের করে নিতে হয়। আমরা ম্যাচ আগেই শেষ করে ফেলতে পারতাম, কিন্তু করিনি। আমরাই ওদের টিকিয়ে রেখেছি, আমরাই ওদের বাঁচিয়ে রেখেছি, এটা আমাদের সমস্যা, আমাদের দায়।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন