লিভারপুলের দরকার থিয়াগোকে, ইউনাইটেডের সানচো

লিভারপুল এই মৌসুমে শিরোপা ধরে রাখতে পারবে?
লিভারপুল এই মৌসুমে শিরোপা ধরে রাখতে পারবে? ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন

আগস্টের শেষ দিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের মাধ্যমে গত মৌসুমের পর্দা নেমেছে। এরই মধ্যে ফ্রান্সে নতুন মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হয়ে যাচ্ছে  ইউরোপের অন্য বড় লিগগুলোর পরবর্তী মৌসুম।

করোনাভাইরাসের কারণে আগের মৌসুম শেষ হতে সময় নিয়েছে বেশ। সে তুলনায় পরবর্তী মৌসুম শুরু হচ্ছে বেশ জলদি। ফলে মৌসুমের আগে ক্লাবগুলো নিজেদের গোছানোর সাধারণত যেমন সময় পায়, এবার তেমন পাচ্ছে না। স্কোয়াডের ঘাটতি অনুসন্ধান, পছন্দের সম্ভাব্য খেলোয়াড় নির্বাচন, সেই খেলোয়াড় কেনা, অপ্রয়োজনীয় খেলোয়াড় বিক্রি করা— সময় অল্প হলেও, ক্লাবগুলোর হাতে কাজ অনেক।

এর মধ্যে অনেক ক্লাবই দলবদল শুরু করে দিয়েছে, অনেক ক্লাব আরেকটু বুঝেশুনে নামতে চাইছে বাজারে। এক সপ্তাহ পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম। মৌসুমকে সামনে রেখে ক্লাবগুলো নিজেদের কতটুকু গুছিয়ে নিল, কোন কোন জায়গায় কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেছে, কেমন হতে পারে তাদের সম্ভাব্য একাদশ, কোন খেলোয়াড় কেনা উচিত, কোচের দর্শনের সঙ্গে কোন সম্ভাব্য খেলোয়াড়ের খেলার ধরণ....এমন অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা হবে এই ধারাবাহিকে। প্রথম পর্বে থাকছে লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আর্সেনালের কথা-

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লিভারপুল

প্রয়োজনীয় খেলোয়াড়—স্ট্রাইকার, সেন্টারব্যাক, সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, গোলরক্ষক

চলে যেতে পারেন—জর্জিনিও ভাইনালদাম, জের্দান শাকিরি, নাথানিয়েল ফিলিপস, মার্কো গ্রুইচ, লরিস ক্যারিয়াস, শেই ওজো, বেন উডবার্ন, হ্যারি উইলসন, তাইও আওনিয়ি

যাদের ওপর চোখ—থিয়াগো আলকানতারা, মার্কাস থুরাম, ক্রিস্টোফার এনকুনকু, ডেনিস জাকারিয়া, ইসমাইলা সার, বেন হোয়াইট, আইসা মান্দি

আক্রমণভাগের তিন মূল খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালাহ, সাদিও মানে, রবার্তো ফিরমিনোর যোগ্য বিকল্প এখনো বেঞ্চে রাখতে পারছে না লিভারপুল। ডিভক অরিগি, জের্দান শাকিরিরা কাজ চালাতে পারলেও, ঠিক নির্ভরযোগ্য হতে পারেননি। ভালো প্রস্তাব পেলেই তাদের বিক্রি করে দেবে লিগ চ্যাম্পিয়নরা। গত জানুয়ারিতে তাকুমি মিনামিনো এসেছেন, মৌসুম শেষের কিছু ম্যাচ ও প্রীতি ম্যাচগুলোতে বেশ ভালো খেলে প্রমাণ করেছেন, সালাহ-মানের জায়গায় বিকল্প উইঙ্গার হিসেবে ভালোই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

কিন্তু রবার্তো ফিরমিনো চোটে পড়লে বিকল্প স্ট্রাইকার হিসেবে কে খেলবেন, এখনো নিশ্চিত নয়। কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের দলে এমন একজন স্ট্রাইকার দরকার, যার কাজ শুরু গোল করাই নয়, বরং সালাহ-মানেরা যাতে গোল করতে পারেন, সেটাও নিশ্চিত করা। প্রীতি ম্যাচগুলোতে ভালো খেলা ঘরের ছেলে রিয়ান ব্রুস্টারকে ক্লপ বাজিয়ে দেখবেন কি না, নিশ্চিত নয়। সেটা না হলে ক্লপের খেলার ধরন অনুযায়ী আদর্শ স্ট্রাইকার হতে পারেন বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের মার্কাস থুরাম। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ৩৯ ম্যাচে ১৪ গোল করা এই স্ট্রাইকার বল পায়ে বেশ ভালো, উইঙ্গার হিসেবেও খেলতে পারেন।

লিভারপুলের আরেক চিন্তার জায়গা মিডফিল্ড। দল হিসেবে তাঁরা দুর্দান্ত খেললেও লিভারপুলের মিডফিল্ড যে খুব বেশি সৃষ্টিশীল, সেটা পাঁড় লিভারপুল সমর্থকও বলবেন না। লিভারপুলের সৃষ্টিশীলতার মূল উৎস দুই ফুলব্যাক ও রবার্তো ফিরমিনো। মিডফিল্ডে জর্ডান হেন্ডারসন, জর্জিনিও ভাইনালদাম কিংবা ফাবিনহোরা নিয়মিত জাদুকরী মুহূর্ত দেখাতে পারেন না। ফলে লিভারপুলের দুই ফুলব্যাক বা স্ট্রাইকারকে ভালোভাবে মার্ক করলেই প্রতিপক্ষ সফল হয়ে যায়। আগামী মৌসুমে কিছু জিততে চাইলে এই কৌশল থেকে একটু হলেও সরে আসতে হবে। আর সে জন্য প্রয়োজন মিডফিল্ডে সৃষ্টিশীলতা। ক্লপ খুব করে চাইছেন বায়ার্ন মিউনিখ থেকে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার থিয়াগো আলকানতারাকে আনার জন্য। ভাইনালদামের চুক্তির বাকি আছে আর মাত্র এক বছর, হয়তো তাঁর চুক্তি নবায়ন করা হবে না, ভালো কোনো প্রস্তাব পেলে বিক্রি করে দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে ভাইনালদামের জায়গায় আলকানতারাকে পেলে সৃষ্টিশীলতা বেড়ে যায় লিভারপুল মিডফিল্ডে।

ওদিকে ভাইনালদামের মতো ফিট খেলোয়াড় আবার লিভারপুলে খুব কমই আছেন। মাঠের যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময়ে দৌড়ে পৌঁছে যেতে পারেন। জর্ডান হেন্ডারসন, জেমস মিলনারদেরও বয়স বাড়ছে। কার্টিস জোন্সের মতো নতুন মিডফিল্ডার উঠে আসলেও আগামী এক বছরের মধ্যে অবশ্যই আরও অন্তত একজন মিডফিল্ডারকে কিনতে হবে ক্লপকে, যিনি একই সঙ্গে বল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি পুরো নব্বই মিনিট যন্ত্রের মতো দৌড়াতে পারবেন, চোটে পড়বেন কম। এ ভূমিকায় ক্লপের পছন্দের একজন খেলোয়াড় হতে পারেন মনশেনগ্লাডবাখেরই আরেকজন—ডেনিস জাকারিয়া। যদিও সুইস এই তারকার সঙ্গে লিভারপুলকে জড়িয়ে এখনো কোনো গুঞ্জন শোনা যায়নি। এ ভূমিকায় আরেকজন কার্যকরী খেলোয়াড় হতে পারেন লাইপজিগের ক্রিস্টোফার এনকুনকু। ফরাসি এই তারকা মিডফিল্ড থেকে শুরু করে উইং—সব জায়গায় খেলতে পারেন।

ওদিকে রক্ষণভাগে দেয়ান লভরেন চলে যাওয়ায় সেন্টারব্যাকের ঘাটতিতে রয়েছে দলটা। দলের তিন মূল সেন্টারব্যাকের মধ্যে ভার্জিল ফন ডাইক সবচেয়ে বেশি ফিট। কিন্তু জো গোমেজ ও জল মাতিপের চোটের প্রবনতা আছে। ফন ডাইক চোটে পড়লে তাই বড় রকমের সমস্যায় পড়বে লিভারপুল। ব্রাইটনের ইংলিশ সেন্টারব্যাক বেন হোয়াইটকে মনে ধরলেও দামের কারণে তাঁকে কিনতে পারছেন না ক্লপ, একই সমস্যা শালকের ওজান কাবাক কিংবা সেভিয়ার ডিয়েগো কার্লোসের ক্ষেত্রেও। কম দামি খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল বেতিসের আইসা মান্দি আকর্ষণীয় হতে পারেন ক্লপের জন্য।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, আগামী মৌসুমে লিভারপুলের সম্ভাব্য একাদশ (ও খেলোয়াড়দের বিকল্প) কেমন হতে পারে।

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ম্যানচেস্টার সিটি

প্রয়োজনীয় খেলোয়াড়—সেন্টারব্যাক, স্ট্রাইকার

চলে যেতে পারেন—অ্যানহেলিনো, জন স্টোনস, এরিক গার্সিয়া, নিকোলাস ওতামেন্দি, পাট্রিক রবার্টস

যাদের ওপর চোখ—কালিদু কুলিবালি, লওতারো মার্তিনেজ, মিলান স্ক্রিনিয়ার, জোয়াও ফেলিক্স, চাগলার সোয়ুঞ্জু

গত মৌসুমে লিভারপুলের কাছে লিগ শিরোপা হারানো সিটি এবার মরিয়া হয়ে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুই শিরোপাই জিততে চাইবে। সে লক্ষ্যে এর মধ্যেই দলের শক্তি বাড়ানো শুরু করে দিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে উইঙ্গার লিরয় সানেকে বিক্রি করে দিলেও তাঁর জায়গায় ভ্যালেন্সিয়া থেকে স্প্যানিশ তারকা ফেরান তোরেসকে এনেছে ক্লাবটা। রক্ষণভাগের শক্তি বাড়াতে এসেছেন ডাচ সেন্টারব্যাক নাথান আকে। বাঁ পায়ের সেন্টারব্যাক হওয়ার কারণে যার ভূমিকা থাকবে মূল সেন্টারব্যাক (বাঁ দিকের) এমেরিক লাপোর্তের বিকল্প হিসেবে কাজ করা। তবে গত মৌসুমে ডানদিকের সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলা জন স্টোনস, নিকোলাস ওতামেন্দির কেউই পেপ গার্দিওলাকে সন্তুষ্ট করার মতো পারফর্ম করতে পারেননি। যিনি পেরেছেন, সে এরিক গার্সিয়াও পাড়ি জমাতে পারেন বার্সেলোনায়। ফলে এ জায়গায় একজন সেন্টারব্যাক লাগবে সিটির। ডান পা দিয়ে খেলা বল পায়ে স্বচ্ছন্দ সেন্টারব্যাক হিসেবে সিটির পছন্দ হতে পারে নাপোলির কালিদু কুলিবালি, ইন্টার মিলানের মিলান স্ক্রিনিয়ার ও লেস্টার সিটির চাগলার সোয়ুঞ্জুকে।

ওদিকে নতুন স্ট্রাইকারের খোঁজেও নামতে পারে সিটি। সার্জিও আগুয়েরোর বয়স হচ্ছে যাচ্ছেন, সিটির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির বাকি আছে আর মাত্র এক বছর। শোনা যাচ্ছে, সিটির সঙ্গে হয়তো আর চুক্তি বাড়াতে না-ও পারেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। তাঁর জায়গায় যার উঠে আসার কথা ছিল, সে গ্যাব্রিয়েল জেসুসও গত চার বছরে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে আরেকজন নতুন স্ট্রাইকার সিটিতে আসলেও চমকের কিছু থাকবে না। ইন্টার মিলানের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লওতারো মার্তিনেজ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জোয়াও ফেলিক্স—দুজনেরই সামর্থ্য আছে গার্দিওলার স্টাইলে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, আগামী মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির সম্ভাব্য একাদশ (ও খেলোয়াড়দের বিকল্প) কেমন হতে পারে।

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চেলসি

প্রয়োজনীয় খেলোয়াড়—গোলরক্ষক, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার

চলে যেতে পারেন—কেপা আরিজাবালাগা, আন্তোনিও রুডিগার, মার্কোস আলোনসো, আন্দ্রেয়া ক্রিশ্চিয়ানসেন, রস বার্কলি, মিচি বাতশুয়াই, এমারসন পালমেরি, ড্যানি ড্রিংকওয়াটার, বাবা রহমান, দাভিদে জাপাকস্তা, তিমুইয়ে বাকায়োকো, মার্কো ফন গিঙ্কেল

যাদের ওপর চোখ—আন্দ্রে ওনানা, ডেকলান রাইস, নিক পোপ, মাইক মাইগনান

মাঝে এক দলবদলে খেলোয়াড় কেনায় নিষেধাজ্ঞা ছিল চেলসির। নিষেধাজ্ঞা বাতিল হওয়ার পরেও তারা গত জানুয়ারিতে খেলোয়াড় কেনেনি। এবার তাই মোটেও সময় নষ্ট করতে চায়নি লন্ডনের নীল দলটা। গোটা দলের খোলনলচে বদলানোর জন্য এবার কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড যেন বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে চলে গেছেন উইলিয়ান ও পেদ্রো। তাঁদের জায়গা নেওয়ার জন্য চেলসি কিনেছে মরোক্কোর হাকিম জিয়াশ ও জার্মানির কাই হাভের্তজকে। স্ট্রাইকার হিসেবে ট্যামি আব্রাহাম ও অলিভিয়ের জিরুকে পেছনে ফেলে হয়তো একাদশে জায়গা করে নেবেন নতুন যোগ দেওয়া জার্মান তারকা টিমো ভেরনার। রক্ষণে শক্তি বাড়াবেন বেন চিলওয়েল, থিয়াগো সিলভা ও মালাং সার।

এই দলের দৃশ্যত কোনো দুর্বলতা থেকে থাকলে সেটা গোলরক্ষণ ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে গত মৌসুমে জর্জিনহো তেমন আলো ছড়াতে পারেননি। পাস দেওয়া ও আক্রমণ গঠনের ক্ষেত্রে জর্জিনহো অতুলনীয় হলেও প্রতিপক্ষের দ্রুতগতির প্রতি আক্রমণের সামনে মাঝেমধ্যেই খেই হারিয়ে ফেলেন এই ইতালিয়ান। ভালো প্রস্তাব পেলে হয়তো এনগোলো কান্তেকেও ছেড়ে দিতে পারে চেলসি। সে ক্ষেত্রে দলে আসতে পারেন নতুন একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার। এ ক্ষেত্রে ল্যাম্পার্ডের পছন্দ—ওয়েস্ট হ্যামের ডেকলান রাইস।

এ ছাড়াও গত মৌসুমে দামের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দলে আসা গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগাও সন্তুষ্ট করতে পারেননি কোচকে। সে জায়গায় ল্যাম্পার্ড দলে আনতে পারেন আয়াক্সের আন্দ্রে ওনানা কিংবা লিলের মাইক মাইগনানকে। তবে ইংলিশ তরুণদের দলে নেওয়ার ব্যাপারে ল্যাম্পার্ডের যে আগ্রহ, বার্নলির নিক পোপকে যদি চেলসি দলে টানার চেষ্টা করেন, চমকের কিছু থাকবে না।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, আগামী মৌসুমে চেলসির সম্ভাব্য একাদশ (ও খেলোয়াড়দের বিকল্প) কেমন হতে পারে।

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

প্রয়োজনীয় খেলোয়াড়—রাইট উইঙ্গার, সেন্টারব্যাক, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, লেফটব্যাক

চলে যেতে পারেন—ফিল জোন্স, ক্রিস স্মলিং, জেসি লিনগার্ড, আন্দ্রেয়াস পেরেইরা, মার্কোস রোহো, দিয়োগো দালোত, টিমোথি ফোসু মেনসাহ, অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে

যাদের ওপর চোখ—জেডন সানচো, দগলাস কস্তা, সের্হিও রেগিলন, ইব্রাহিম সাঙ্গারে, দানিলো পেরেইরা, দিয়াদিয়ে সামাসেকু, কালিদু কুলিবালি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, লুইস ডাঙ্ক, হোসে হিমেনেজ

গত মৌসুমের একদম শেষ দিনে চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত করা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মূল লক্ষ্য থাকবে শীর্ষে থাকা লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান কমানো। এ জন্য মাঠের মূলত দুই পজিশনে খেলোয়াড় এনে শক্তি বাড়ানো বেশ দরকারি। এক—ডান উইং, দুই—ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড। ডান উইংয়ে গত মৌসুমে ড্যানিয়েল জেমসকে আনা হলেও তিনি মূল একাদশে নিয়মিত খেলার মতো নন। মেসন গ্রিনউডকে নিয়মিত খেলানো হলেও, দীর্ঘ মৌসুমে শুধু তাঁর ওপরে ভরসা করলে ইউনাইটেড ভালোই সমস্যায় পড়তে পারে। ফলে দরকার অভিজ্ঞতার। এ জায়গায় বহুদিন ধরে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ইংলিশ উইঙ্গার জেডন সানচোকে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ক্লাবটা। সানচোকে যদি না পায়, সে ক্ষেত্রে জুভেন্টাসের ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ডগলাস কস্টা ও বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি উইঙ্গার কিংসলে কোমানকে ইউনাইটেডের পছন্দ।

ইউনাইটেডের মূল মিডফিল্ডার হিসেবে যারা রয়েছেন, ব্রুনো ফার্নান্দেস, পল পগবা কিংবা নতুন আসা ডনি ফন ডে বিক—প্রত্যেকেই একটু সামনে খেলতে পছন্দ করেন, নিচে রক্ষণাত্মক কাজ করার দিকে অত আগ্রহ নেই তাঁদের। একজন আদর্শ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের জন্য গত এক বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁরা। নেমানিয়া মাতিচের বয়স হয়েছে, আগের মতো অত ভালো খেলতে পারেন না আর। ওদিকে স্কট ম্যাকটমিনের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় অবশ্যই। ফ্রেডকে রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে খেলিয়ে কাজ চালানো গেলেও, দিনশেষে কোচ ওলে গুনার সুলশার যদি পগবা, ডে বিক কিংবা ফার্নান্দেসের কাছ থেকে সর্বোচ্চ উপযোগিতা পেতে চান, একজন আদর্শ রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার লাগবেই। সে ক্ষেত্রে তুলোঁর ইব্রাহিম সাঙ্গারে, পোর্তোর দানিলো পেরেইরা কিংবা হফেনহেইমের দিয়াদিয়ে সামাসেকুর দিকে নজর দিতে পারে ইউনাইটেড।

রক্ষণভাগে হ্যারি ম্যাগুয়ার আসলেও, তাঁর আদর্শ সঙ্গী এখনো খুঁজছে ইউনাইটেড। চোট, ফর্মহীনতা কিংবা যথেষ্ট মানসম্পন্ন না হওয়ার কারণে এখনো এরিক বাইয়ি ও ভিক্টর লিন্ডেলফ নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি। সে ক্ষেত্রে সুযোগ পেলে একজন সেন্টারব্যাক কিনতে পারে দলটা। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হোসে জিমেনেজ, নাপোলির কালিদু কুলিবালির মতো তারকাদের ওপর হয়তো চোখ আছে ইউনাইটেডের। ইংলিশ সেন্টারব্যাক আনতে চাইলে আদর্শ প্রার্থী হতে পারেন ব্রাইটনের লুইস ডাঙ্ক, বার্নলির জেমস টারকোস্কি প্রমুখ। দরকার একজন লেফটব্যাকেরও। মূল লেফটব্যাক লুক শ রক্ষণে যতটা পটু, আক্রমণে ততটা নন। ফলে তাঁকে পাকাপাকিভাবে সেন্টারব্যাক বানিয়ে দিয়ে ইউনাইটেড যদি লেফটব্যাক আনার ব্যাপারে মনোযোগ দেয়, খারাপ হবে না। সে ক্ষেত্রে নতুন লেফটব্যাক হিসেবে ইউনাইটেড চোখ রাখতে পারে সেভিয়ার সার্জিও রেগিলন কিংবা আয়াক্সের নিকোলাস তাগিয়াফিকোর ওপর।

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আর্সেনাল

প্রয়োজনীয় খেলোয়াড়—সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার

চলে যেতে পারেন—হেক্টর বেয়েরিন, সক্রাতিস পাপাস্তাথোপোলোস, লুকাস তোরেইরা, রব হোল্ডিং, ক্যালাম চেম্বার্স, মোহাম্মদ এলনেনি, সিদ কোলাসিনাচ

যাদের ওপর চোখ—থমাস পার্টি, হুসাম ওউয়া, লরেঞ্জো পেলেগ্রিনি, ফিলিপ কুতিনিও

নতুন কোচ মিকেল আরতেতা আসার পর এর মধ্যেই দুটি শিরোপা জিতে নিয়েছে আর্সেনাল—এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড। লক্ষ্য এখন লিগে উন্নতি করা। গতবার অষ্টম স্থানে শেষ করা আর্সেনাল এবার অবশ্যই সরাসরি চ্যাম্পিয়নস লিগে যেন খেলতে পারে, সে চেষ্টা করবে। সে লক্ষ্যে এর মধ্যেই বেশ কিছু খেলোয়াড় এনে দল ভারি করা শুরু করেছে তারা। রক্ষণভাগের শক্তি বাড়াতে এসেছেন ব্রাজিলের সেন্টারব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালহেস, গত মৌসুমে ধারে থাকার পর এই মৌসুমে খেলবেন ফরাসি সেন্টারব্যাক উইলিয়াম সালিবাও।

রক্ষণভাগ উন্নত করার পাশাপাশি আর্সেনালের লক্ষ্য থাকবে মিডফিল্ড শক্তিশালী করা। এমন দুজন মিডফিল্ডার লাগবে তাঁদের, যাদের একজন প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙার পাশাপাশি রক্ষণ ও মাঝমাঠের মধ্যে একটা সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করবেন। আরেক ধরনের মিডফিল্ডার দরকার তাঁদের, যিনি সামনে থাকা অবামেয়াং, লাকাজেতে ও পেপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করবেন।

প্রথম ধরনের মিডফিল্ডার হিসেবে আর্সেনালের মূল পছন্দ অ্যাটলেটিকোর ঘানাইয়ান মিডফিল্ডার থমাস পার্টি। পার্টিকে না পেলে পোর্তোর দানিলো পেরেইরা বা রিয়াল বেতিসের উইলিয়াম কারভালহোর দিকে নজর দিতে পারে তাঁরা। পার্টি প্রতিপক্ষের আক্রমণ যেমন ভাঙতে পারেন, একই সঙ্গে বল নিয়ে ড্রিবল করে সামনে এগিয়ে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের সঙ্গেও সংযোগ করতে পারেন।

দ্বিতীয় ধরনের মিডফিল্ডারের কাজ হবে প্রতিপক্ষ রক্ষণের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে। কয়েক দিন আগেও মেসুত ওজিল যে কাজটা করতেন। তবে ওজিলকে খেলানোর ব্যাপারে আরতেতার তেমন আগ্রহ না থাকায় এই ধরনের মিডফিল্ডার এখন বেশ দরকার আর্সেনালের জন্য। সে কারণে আরতেতার পছন্দ হতে পারেন বার্সেলোনার ফিলিপ কুতিনিয়ো কিংবা রোমার লরেঞ্জো পেলেগ্রিনির দিকে। এই দুই ধরনের মিডফিল্ডার দলে আনতে পারলে আর্সেনালের সামগ্রিক খেলার ধরনে বেশ বৈচিত্র্য আসবে।

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আগামী পর্বে আলোচনা করা হবে প্রিমিয়ার লিগের আরেক ক্লাব টটেনহাম, ও ইতালিয়ান সিরি ‘আ’—র জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান, এসি মিলান ও ফরাসি লিগ ওয়ানের পিএসজিকে নিয়ে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন