লিভারপুলে উদ্দেশ্যে বিমানে চড়ার আগে রিয়ালের খেলোয়াড়রা।
লিভারপুলে উদ্দেশ্যে বিমানে চড়ার আগে রিয়ালের খেলোয়াড়রা।ছবি: টুইটার

আপনি রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় সমর্থক?

‘হ্যাঁ’—বলতে পারেন ক্লাবটির প্রতিটি সমর্থক। পৃথিবীর সব ক্লাবের সমর্থকদের জন্যই কথাটা খাটে। আবার সব ক্লাবের সমর্থকেরাই কাউকে না কাউকে দেখে চমকে যান। মনে করেন, আহা! তাঁর মতো করে যদি সমর্থন করে যেতে পারতাম! রিয়ালের ক্ষেত্রে সের্হিও রামোসকে দেখে এমন মনে হতে পারে অনেকের। মাঠে দলের প্রতি তাঁর নিবেদন দেখে মনে হয়, রামোসের চেয়ে বড় রিয়াল–সমর্থক আর হয় না।

গোল ঠেকাতে হবে, রামোস তো আছেন–ই! সতীর্থের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বাগযুদ্ধ, হাতাহাতি—সাবধান! রামোস যেন না দেখে, দেখলে কুরুক্ষেত্র বেঁধে যেতে পারে! মিডিয়াতেও ক্লাবের সপক্ষে যেকোনো ব্যাপারে সবচেয়ে সরব থাকেন রামোসই। আবার মাঠের বাইরে থেকেও তাঁর নিবেদনের তুলনা মেলা ভার।

এই তো সেদিন লিভারপুলের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগেও রামোসকে দেখা গিয়েছে আলফ্রেডো ডি স্টেফানো স্টেডিয়ামে। কখনো করতালি দিচ্ছেন, কখনো গলা ফাটাচ্ছেন, কখনো আবার হতাশায় মাথা নাড়ছেন, চোখে–মুখে মাঠে নামতে না পারার ব্যাগ্র হতাশা।

বিজ্ঞাপন

ওদিকে রামোসের সঙ্গে রিয়ালের চুক্তি নবায়নের খবর নেই। জুনে চলতি চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে, নবায়ন না হলে ক্লাব ছাড়তে হবে জুনে। তবু ক্লাবের প্রতি রামোসের এই সমর্থন, এই নিবেদন দেখে তাঁকে রিয়ালের সবচেয়ে বড় সমর্থক বলেই মনে করেন অনেকে। রিয়ালের জন্য দুঃসংবাদ, কোয়ার্টার ফাইনাল ফিরতি লেগেও এই ‘সবচেয়ে বড় সমর্থক’কে পাচ্ছে না মাদ্রিদের ক্লাবটি।

মাংশপেশির চোটে আগেই প্রথম লেগে থেকে ছিটকে পড়েছিলেন রামোস। সেই ম্যাচটা ছিল ঘরের মাঠে, তাই ডি স্টেফানো স্টেডিয়ামে গিয়ে রিয়ালকে সমর্থন জানাতে পেরেছেন স্প্যানিশ সেন্টার ব্যাক। তাঁকে হতাশ হয়েও ফিরতে হয়নি। ৩–১ গোলের জয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পথটা কিছুটা হলেও সহজ করে রেখেছে জিনেদিন জিদানের দল।

default-image

কিন্তু কাল ফিরতি লেগটা লিভারপুলের মাঠে। রামোসকে অ্যানফিল্ডে দেখা যাবে না গ্যালারিতেও। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি খেলতে আগেই লিভারপুলের বিমান ধরেছেন করিম বেনজেমারা। কোভিড–১৯ পজিটিভ হওয়ায় সতীর্থদের সঙ্গে বিমানে উঠতে পারেননি রামোস। ফিরতি লেগে তাই তাঁকে গ্যালারিতেও দেখা যাবে না রিয়ালের জন্য গলা ফাটাতে।

আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রামোসের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে রিয়াল, ‘রিয়াল মাদ্রিদ জানাচ্ছে, সর্বশেষ কোভিড–১৯ পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছেন আমাদের খেলোয়াড় সের্হিও রামোস।’

স্কোয়াডে এ নিয়ে সাতজন খেলোয়াড়ের কোভিডে আক্রান্তের খবর পেলেন রিয়াল কোচ জিদান। রক্ষণভাগে তাঁর আরও দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছেন রাফায়েল ভারান। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে আইসোলেশনে আছেন ফরাসি ডিফেন্ডার। রামোসকে ১০ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন না।

চোটের কারণে আগেই রিয়ালের শেষ তিন ম্যাচে খেলতে পারেননি রিয়াল অধিনায়ক। আতালান্তার বিপক্ষে শেষ ষোলো ফিরতি লেগে দলের হয়ে সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন তিনি। শুধু লিভারপুলের বিপক্ষে ফিরতি লেগ–ই নয়, লা লিগায় রিয়ালের পরের দুটি ম্যাচে হেতাফে ও কাদিজের বিপক্ষেও খেলতে পারবেন না রামোস। ২৪ এপ্রিল রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা আছে তবে সে ক্ষেত্রে সবার আগে কোভিড নেগেটিভ হতে হবে।

গত কয়েক দিন রামোসের সঙ্গে ক্লাবের কোনো খেলোয়াড় মেলামেশা করেছিলেন কি না, কে জানে। যদি করে থাকেন, তাহলে কোচ জিদানের কপালে চিন্তার রেখা আরও বাড়বে, নিশ্চিত। তখন হয়তো দেখা যাবে, লিভারপুলের বিপক্ষে প্রথম লেগের ঠিক আগ দিয়ে যেমন ভারানের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর শোনা গিয়েছিল, দ্বিতীয় লেগের আগেও অমন কোনো ঘটনা বের হয়ে যাবে!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন